বাংলা ১ম পত্র • Jashore Board • যশোর বোর্ড ২০২৪

বাংলা ১ম পত্র প্রশ্ন

মুক্তিযুদ্ধের সময় দেশের সকল শিক্ষিত ব্যক্তি ও বুদ্ধিজীবী যে দেশের পক্ষে অবস্থান নিয়েছিলেন এমনটি নয়। এমন একজন বুদ্ধিজীবী শরিফ সাহেব। যুদ্ধের সময় তিনি কলেজ শিক্ষক ছিলেন তাঁর প্রত্যক্ষ সহযোগিতায় কলেজে সেনাক্যাম্প প্রতিষ্ঠিত হয়। পাকসেনাদের খুশি করতে তিনি উর্দুতে কথা বলতে শুরু করেন। এমন মানুষ বুদ্ধিজীবী হলেও আমাদের ঘৃণার পাত্র।

  1. ক)

    'রেইনকোট' গল্পে উল্লিখিত প্রিন্সিপালের নাম কী?

    (1)
  2. খ)

    প্রিন্সিপাল মিসক্রিয়েন্টদের পতন কামনা করেন কেন?

    (2)
  3. গ)

    উদ্দীপকের শরিফ সাহেব ও 'রেইনকোট' গল্পের প্রিন্সিপাল চরিত্রের সাদৃশ্য আলোচনা কর।

    (3)
  4. ঘ)

    "উদ্দীপকের শরিফ সাহেব আর 'রেইনকোট' গল্পের প্রিন্সিপাল আমাদের স্বাধীনতাকে বিলম্বিত ও রক্তাক্ত করেছে।"-মন্তব্যটি বিশ্লেষণ কর।

    (4)

উত্তর ও ব্যাখ্যা

  1. ক)

    AI-তৈরি নমুনা উত্তর

    'রেইনকোট' গল্পে উল্লিখিত প্রিন্সিপালের নাম ড. আফাজ আহমদ।

  2. খ)

    AI-তৈরি নমুনা উত্তর

    প্রিন্সিপাল ড. আফাজ আহমদ পাকিস্তান সরকারের একনিষ্ঠ সমর্থক এবং রাজাকার মনোভাবাপন্ন ছিলেন বলে মুক্তিযোদ্ধাদের 'মিসক্রিয়েন্ট' বা দুষ্কৃতকারী আখ্যা দিয়ে তাদের পতন কামনা করতেন।

    মুক্তিযুদ্ধের সময় মুক্তিযোদ্ধাদের গেরিলা আক্রমণে পাকিস্তানি বাহিনীর বহু ক্ষতি হতো। পাকিস্তানি সেনাদের অনুগত দালাল হিসেবে প্রিন্সিপাল বিশ্বাস করতেন যে, মুক্তিযোদ্ধারা পাকিস্তানের ঐক্য ও অখণ্ডতার শত্রু। তাই তিনি সবসময় দোয়া-দরুদ পড়ে তাদের ধ্বংস ও পতন কামনা করতেন, যাতে পাকিস্তান টিকে থাকে এবং তাঁর নিজের সুযোগ-সুবিধা ও নিরাপত্তা বজায় থাকে।

  3. গ)

    AI-তৈরি নমুনা উত্তর

    উদ্দীপকের শরিফ সাহেব এবং 'রেইনকোট' গল্পের প্রিন্সিপাল ড. আফাজ আহমদ চরিত্রের মধ্যে দেশদ্রোহিতা ও পাকিস্তানি বাহিনীর প্রতি তোষামোদমূলক অন্ধ আনুগত্যের সুস্পষ্ট সাদৃশ্য রয়েছে।

    'রেইনকোট' গল্পে দেখা যায়, কলেজের প্রিন্সিপাল ড. আফাজ আহমদ ছিলেন পাকিস্তানপন্থী ও সুবিধাবাদী ব্যক্তি। তিনি নিজের স্বার্থ ও পদ রক্ষার্থে পাকিস্তানি সেনাবাহিনীর সাথে ঘনিষ্ঠ যোগাযোগ রাখতেন, তাদের খুশি করতে কলেজের শহীদ মিনার ভেঙে ফেলার ব্যবস্থা করেন এবং মিলিটারি ক্যাম্পের সাথে সার্বক্ষণিক যোগাযোগ রক্ষা করতেন। কলেজের শিক্ষকদের ওপর তিনি নজরদারি চালাতেন এবং মুক্তিযোদ্ধাদের 'মিসক্রিয়েন্ট' বলে গালমন্দ করতেন।

    উদ্দীপকের শরিফ সাহেবও একজন কলেজ শিক্ষক হয়ে মুক্তিযুদ্ধের চরম বিরোধিতা করেছেন। তিনি নিজ কলেজে পাকিস্তানি সেনাদের ক্যাম্প স্থাপনে প্রত্যক্ষ সহযোগিতা করেন এবং তাদের মনোরঞ্জনের জন্য উর্দুতে কথা বলা শুরু করেন।

    সুতরাং, দেশের বুদ্ধিজীবী হয়েও জাতির চরম সংকটে স্বজাতির বিরুদ্ধে গিয়ে হানাদার পাকিস্তানি বাহিনীর সাথে হাত মেলানো এবং অন্ধ তোষামোদি করার মানসিকতায় উদ্দীপকের শরিফ সাহেব এবং গল্পের প্রিন্সিপাল চরিত্র দুটি সম্পূর্ণ সাদৃশ্যপূর্ণ।

  4. ঘ)

    AI-তৈরি নমুনা উত্তর

    "উদ্দীপকের শরিফ সাহেব আর 'রেইনকোট' গল্পের প্রিন্সিপাল আমাদের স্বাধীনতাকে বিলম্বিত ও রক্তাক্ত করেছে"—মন্তব্যটি যথার্থ ও যুক্তিযুক্ত।

    ১৯৭১ সালের মহান মুক্তিযুদ্ধে এ দেশের আপামর জনতা যখন মাতৃভূমির মুক্তির জন্য জীবন বাজি রেখে যুদ্ধ করছিল, তখন এ দেশীয় কিছু সুযোগসন্ধানী ও কুলাঙ্গার বুদ্ধিজীবী এবং ব্যক্তি পাকিস্তানি হানাদার বাহিনীর সাথে হাত মিলিয়েছিল। উদ্দীপকের শরিফ সাহেব ও 'রেইনকোট' গল্পের প্রিন্সিপাল ড. আফাজ আহমদ হলেন সেই ঘৃণ্য দোসরদেরই প্রতিনিধি।

    'রেইনকোট' গল্পে প্রিন্সিপাল ড. আফাজ আহমদ পাকিস্তানি মিলিটারিকে সন্তুষ্ট রাখতে নিজের কলেজের সহকর্মীদের নজরদারিতে রাখেন। এমনকি কলেজে গেরিলা আক্রমণের পর তিনি মুক্তিযোদ্ধাদের তথ্য সংগ্রহের জন্য নুরুল হুদাসহ অন্যান্যদের মিলিটারির হাতে তুলে দিতে ভূমিকা রাখেন। এর ফলে নিরীহ মানুষ ও দেশপ্রেমিকদের ওপর নেমে আসে অবর্ণনীয় নির্যাতন। অন্যদিকে উদ্দীপকের শরিফ সাহেব প্রত্যক্ষ সহযোগিতায় কলেজে পাকিস্তানি ক্যাম্প প্রতিষ্ঠা করেন এবং উর্দুভাষী প্রভুদের তোষামোদ করেন।

    এ ধরনের দেশবিরোধী দালালদের সহযোগিতার কারণেই পাকিস্তানি সেনারা বাংলার আনাচে-কানাচে ক্যাম্প গড়ে নিরীহ বাঙালিদের ওপর হত্যাযজ্ঞ, নির্যাতন ও ধ্বংসযজ্ঞ চালাতে পেরেছিল। স্থানীয় পথঘাট চেনা এবং তথ্য সরবরাহের মাধ্যমে এরা মুক্তিকামীদের কাজকে বাধাগ্রস্ত করেছিল। ফলে আমাদের স্বাধীনতা অর্জনের পথ আরও দীর্ঘায়িত, রক্তাক্ত এবং ত্যাগবহুল হয়েছিল।

    অতএব, দেশদ্রোহী বুদ্ধিজীবী শরিফ সাহেব ও প্রিন্সিপালের মতো দোসরদের বিশ্বাসঘাতকতাই যে বাঙালির স্বাধীনতাকে বিলম্বিত ও অতিরিক্ত রক্তাক্ত করেছিল, তা সন্দেহাতীতভাবে সত্য।

আরও প্রশ্ন অনুশীলন করতে অ্যাপে যাও

সম্পর্কিত প্রশ্ন