জীববিজ্ঞান ১ম পত্র • উদ্ভিদ শারীরতত্ত্ব • Dhaka Board • ঢাকা বোর্ড ২০২৫
জীববিজ্ঞান ১ম পত্র প্রশ্ন
- ক)(1)
সক্রিয় পরিশোষণ কী?
- খ)(2)
ফটোফসফোরাইলেশন বলতে কী বুঝ?
- গ)(3)
প্রবাহ চিত্রের মাধ্যমে প্রক্রিয়া-Ⅰ এবং প্রক্রিয়া-II এর সমমান ধাপসমূহ উপস্থাপন কর।
- ঘ)(4)
খাদ্য, পানীয় এবং চিকিৎসা শিল্পে প্রক্রিয়া-II এর প্রয়োগ ব্যাখ্যা কর।
উত্তর ও ব্যাখ্যা
- ক)
AI-তৈরি নমুনা উত্তর
যে প্রক্রিয়ায় বিপাকীয় শক্তির সরাসরি প্রয়োগের মাধ্যমে ঘনত্বের নতির বিপরীতে উদ্ভিদের মূলরোম দ্বারা খনিজ লবণ আয়ন শোষিত হয়, তাকে সক্রিয় পরিশোষণ বলে।
- খ)
AI-তৈরি নমুনা উত্তর
সূর্যালোকের উপস্থিতিতে ক্লোরোপ্লাস্টে এডিপি (ADP) এবং অজৈব ফসফেটের (Pi) সংযোজনের মাধ্যমে উচ্চ শক্তিসম্পন্ন এটিপি (ATP) তৈরির প্রক্রিয়াকে ফটোফসফোরাইলেশন বলে।
এটি মূলত দুই প্রকার: অচক্রীয় ফটোফসফোরাইলেশন এবং চক্রীয় ফটোফসফোরাইলেশন। সালোকসংশ্লেষণের আলোক-নির্ভর পর্যায়ে আলোক শক্তি রাসায়নিক শক্তিতে (ATP) রূপান্তরিত হয়ে এই প্রক্রিয়ায় সঞ্চিত হয়। - গ)
AI-তৈরি নমুনা উত্তর
উদ্দীপকে গ্লুকোজ ভেঙে পাইরুভিক এসিড সৃষ্টি হওয়া নির্দেশ করে গ্লাইকোলাইসিস ধাপ। প্রক্রিয়া-I হলো সবাত শ্বসন (যেখানে প্রচুর শক্তি উৎপন্ন হয়) এবং প্রক্রিয়া-II হলো অবাত শ্বসন (যেখানে মাত্র ২০ kcal শক্তি উৎপন্ন হয়)।
প্রক্রিয়া-Ⅰ এবং প্রক্রিয়া-II এর সাধারণ ও সমমান ধাপটি হলো 'গ্লাইকোলাইসিস'। নিচে প্রবাহ চিত্রের মাধ্যমে গ্লাইকোলাইসিসের ধাপসমূহ উপস্থাপন করা হলো:
১. গ্লুকোজ (৬ কার্বন)
↓ (Hexokinase, ATP → ADP)
২. গ্লুকোজ-৬-ফসফেট
↓ (Phosphoglucoisomerase)
৩. ফ্রুক্টোজ-৬-ফসফেট
↓ (Phosphofructokinase, ATP → ADP)
৪. ফ্রুক্টোজ-১,৬-বিসফসফেট
↓ (Aldolase)
৫. ৩-ফসফোগ্লিসারালডিহাইড ⇌ ডাইহাইড্রক্সি অ্যাসিটোন ফসফেট
↓ (Phosphoglyceraldehyde dehydrogenase, NAD⁺ + Pi → NADH + H⁺)
৬. ১,৩-বিসফসফোগ্লিসারিক এসিড
↓ (Phosphoglycerate kinase, ADP → ATP)
৭. ৩-ফসফোগ্লিসারিক এসিড
↓ (Phosphoglyceromutase)
৮. ২-ফসফোগ্লিসারিক এসিড
↓ (Enolase, - H₂O)
৯. ফসফোএনলপাইরুভিক এসিড
↓ (Pyruvate kinase, ADP → ATP)
১০. পাইরুভিক এসিড (৩ কার্বন) - ঘ)
AI-তৈরি নমুনা উত্তর
উদ্দীপকের প্রক্রিয়া-II হলো অবাত শ্বসন বা গাঁজন (Fermentation)। খাদ্য, পানীয় এবং চিকিৎসা শিল্পে এর গুরুত্ব অপরিসীম। নিচে এগুলোর বিস্তারিত প্রয়োগ আলোচনা করা হলো:
১. খাদ্য শিল্পে প্রয়োগ:
- বেকারি শিল্পে: ঈস্টের অবাত শ্বসনের ফলে সৃষ্ট কার্বন ডাই-অক্সাইড () গ্যাস পাউরুটিকে ফাঁপা ও নরম করতে ব্যবহৃত হয়।
- দুগ্ধজাত খাদ্য তৈরিতে: ল্যাকটিক এসিড ব্যাকটেরিয়ার (যেমন- Lactobacillus) অবাত শ্বসনের মাধ্যমে দুধ থেকে দই, পনির, মাখন ও ছানা তৈরি করা হয়।
- ভিনেগার ও আচার তৈরিতে: ব্যাকটেরিয়ার সন্ধান প্রক্রিয়ায় অ্যাসিটিক এসিড বা ভিনেগার তৈরি হয়, যা খাদ্য সংরক্ষণে কার্যকর।
২. পানীয় শিল্পে প্রয়োগ:
- অ্যালকোহল ও মদ প্রস্তুতি: ঈস্টের সাহায্যে বিভিন্ন শর্করা বা ফলের রস গাঁজন করে ইথাইল অ্যালকোহল, বিয়ার, ওয়াইন ইত্যাদি প্রস্তুত করা হয়।
- চা ও কফি প্রক্রিয়াজাতকরণ: চা পাতার বিশেষ সুবাস এবং কফির বীজ প্রক্রিয়াজাতকরণে গাঁজন প্রক্রিয়া ব্যবহৃত হয়।
৩. চিকিৎসা ও ওষুধ শিল্পে প্রয়োগ:
- অ্যান্টিবায়োটিক উৎপাদন: বিভিন্ন ধরনের অণুজীবের ফার্মেন্টেশন প্রক্রিয়ার মাধ্যমে পেনিসিলিন, স্ট্রেপটোমাইসিনসহ জীবনরক্ষাকারী অ্যান্টিবায়োটিক প্রস্তুত করা হয়।
- ভিটামিন ও এনজাইম উৎপাদন: গাঁজন প্রক্রিয়ায় বিভিন্ন ভিটামিন (যেমন- ভিটামিন B-কমপ্লেক্স, ভিটামিন C) এবং চিকিৎসায় ব্যবহৃত নানা এনজাইম তৈরি করা হয়।
- অন্যান্য জৈব উপাদান: ইনসুলিন বা অন্যান্য জৈব রাসায়নিক উৎপাদনের বৃহৎ শিল্পে নির্দিষ্ট অণুজীবের ফার্মান্টেশন ধাপ প্রয়োগ করা হয়।
সুতরাং, আধুনিক শিল্পে বিশেষ করে খাদ্য, পানীয় এবং জীবনরক্ষাকারী ওষুধ উৎপাদনে অবাত শ্বসনের ভূমিকা অনস্বীকার্য।
আরও প্রশ্ন অনুশীলন করতে অ্যাপে যাও