বাংলা ১ম পত্র • Jashore Board • যশোর বোর্ড ২০১৭

বাংলা ১ম পত্র প্রশ্ন

হায়রে কিষাণ- তোদেরই শীর্ণ দেহ দেখে মোর অশ্রু মানে না বুলবুলিতে ধান লুটে নেয়, তবু কেন ঘুম ভাঙে না।। পৌষ পার্বণে গোলার ঘরে, শূন্য দেখে অশ্রু ঝরেশ্যামল গাঁয়ের মুখরতা, থেমে যে যায় অনাহারে এরা পিশাচ অনাহারী, ঘরে ঘরে ক্ষুধার তাড়না।।

  1. ক)

    রোকেয়া সাখাওয়াত হোসেনের লেখা একটি গদ্য গ্রন্থের নাম লেখো।

    (1)
  2. খ)

    অনুকরণপ্রিয়তা' নামক আর একটা ভূত তাহাদের স্কন্ধে চাপিয়া আছে"- প্রসঙ্গটিতে লেখিকা কোন বিষয়গুলোর প্রতি আলোকপাত করেছন?

    (2)
  3. গ)

    উদ্দীপকের সাথে 'চাষার দুক্ষু' প্রবন্ধের সাদৃশ্য নিরুপণ করো।

    (3)
  4. ঘ)

    'চাষার দুক্ষু' প্রবন্ধে চাষার দারিদ্র্য বিড়ম্বিত জীবন চিত্রের পাশে চাষার দুক্ষু যাহাতে দূর হয় এমন বক্তব্যও আছে- যা উদ্দীপকে নেই"- বক্তব্যটির সাথে তুমি কী একমত? যুক্তিসহ আলোচনা করো।

    (4)

উত্তর ও ব্যাখ্যা

  1. ক)

    AI-তৈরি নমুনা উত্তর

    রোকেয়া সাখাওয়াত হোসেনের লেখা একটি গদ্য গ্রন্থ হলো 'মতিচূর' (অথবা 'অবরোধ-বাসিনী')।

  2. খ)

    AI-তৈরি নমুনা উত্তর

    "অনুকরণপ্রিয়তা" বলতে লেখিকা গ্রাম্য ও সাধারণ মানুষদের অন্ধভাবে নগরজীবনের বিলাসিতা, ফ্যাশন এবং আধুনিক সভ্যতার অপ্রয়োজনীয় ব্যয়বহুল অভ্যাস অনুকরণের প্রবণতাকে বুঝিয়েছেন।

    লেখিকা লক্ষ্য করেছেন যে কৃষকেরা তাদের ঐতিহ্যবাহী দেশি মোটা কাপড় ও সাদামাটা জীবন ছেড়ে শহরের বাবুদের মতো সূক্ষ্ম কাপড়, জুতো, ছাতা বা বিলাসদ্রব্য ব্যবহারে আগ্রহী হচ্ছে। অথচ তাদের মৌলিক খাদ্য ও বস্ত্রের অভাব দূর হয়নি। নিজের আর্থিক সামর্থ্য বিবেচনা না করে এমন অন্ধ অনুকরণের ফলে তাদের দারিদ্র্য ও দুর্দশা আরও বহুগুণ বৃদ্ধি পাচ্ছে।

  3. গ)

    AI-তৈরি নমুনা উত্তর

    উদ্দীপকের সাথে 'চাষার দুক্ষু' প্রবন্ধের বাংলার কৃষকের চরম অনাহার, বঞ্চনা ও দারিদ্র্যক্লিষ্ট জীবনের চিত্রের গভীর সাদৃশ্য রয়েছে।

    'চাষার দুক্ষু' প্রবন্ধে রোকেয়া সাখাওয়াত হোসেন দেখিয়েছেন যে কৃষক মাথার ঘাম পায়ে ফেলে ফসল ফলায়, অথচ তাদের নিজেদের ঘরেই খাবার থাকে না। শোষক শ্রেণির শোষণ ও সভ্যতার বিবর্তনে বাংলার সোনালি অতীত হারিয়ে গিয়ে কৃষকরা আজ কঙ্কালসার ও শীর্ণ দেহে অনাহারে দিনাতিপাত করছে।

    উদ্দীপকেও দেখা যায়, কৃষকের শীর্ণ দেহ এবং পৌষ পার্বণে তাদের শূন্য গোলাঘরের হাহাকার বর্ণিত হয়েছে। তারা দিনরাত পরিশ্রম করলেও ফসল 'বুলবুলি' তথা শোষক শ্রেণি লুটে নিয়ে যায়, ফলে কৃষকের ঘরে খাদ্যের অভাবে অনাহার বিরাজ করে। কৃষকের এই দুঃখ-বেদনা, ক্ষুধার তাড়না এবং সর্বস্বান্ত হওয়ার চিত্রটি 'চাষার দুক্ষু' প্রবন্ধের মূল প্রতিপাদ্যের সাথে সরাসরি সাদৃশ্যপূর্ণ।

  4. ঘ)

    AI-তৈরি নমুনা উত্তর

    হ্যাঁ, বক্তব্যটির সাথে আমি সম্পূর্ণ একমত।

    উদ্দীপকে কেবল কৃষকের চরম দারিদ্র্য, অনাহার এবং শোষকদের দ্বারা তাদের ফসল লুণ্ঠিত হওয়ার ট্র্যাজিক চিত্র তুলে ধরা হয়েছে। সেখানে পৌষের উৎসবের দিনেও কৃষকের শূন্য গোলার কান্না ও হাহাকার প্রকাশ পেয়েছে, কিন্তু এই অবস্থা থেকে উত্তরণের কোনো দিকনির্দেশনা বা সমাধানের কথা বলা হয়নি।

    অন্যদিকে, 'চাষার দুক্ষু' প্রবন্ধে রোকেয়া সাখাওয়াত হোসেন কেবল কৃষকদের দারিদ্র্য ও দুর্দশার বিবরণ দিয়েই ক্ষান্ত হননি; বরং তাদের দুঃখমোচনের সুনির্দিষ্ট পথও নির্দেশ করেছেন। লেখিকা উল্লেখ করেছেন কীভাবে দেশি তাঁতশিল্প ও চরকার পুনরুজ্জীবন ঘটিয়ে কৃষকদের স্বাবলম্বী করা যায়, যাতে বস্ত্রের জন্য তাদের অন্যের মুখাপেক্ষী হতে না হয়। এছাড়া কৃষকদের অন্ধ অনুকরণপ্রিয়তা ত্যাগ, শিক্ষার প্রসার এবং কুটির শিল্পের প্রসারের মাধ্যমে তাদের দুঃখ দূর করার বাস্তবসম্মত সমাধান তুলে ধরেছেন।

    অতএব, উদ্দীপকটি কেবল কৃষকের দুঃখের বর্ণনায় সীমাবদ্ধ থাকলেও 'চাষার দুক্ষু' প্রবন্ধটি সংকট সমাধানের উপায় নির্দেশনায় সমৃদ্ধ। সুতরাং প্রশ্নোক্ত মন্তব্যটি যথার্থ।

আরও প্রশ্ন অনুশীলন করতে অ্যাপে যাও

সম্পর্কিত প্রশ্ন