বাংলা ১ম পত্র • Barishal Board • বরিশাল বোর্ড ২০১৭
বাংলা ১ম পত্র প্রশ্ন
১৯৭১ সালে তৎকালীন পশ্চিম পাকিস্তানের সাথে দীর্ঘ নয় মাসের রক্তক্ষয়ী মুক্তিযুদ্ধ আর লাখো শহীদের আত্মত্যাগের মাধ্যমে স্বাধীন বাংলাদেশের জন্ম হয়েছিল। বিশ্ব মানচিত্রে একটি স্বাধীন ও সার্বভৌম রাষ্ট্র হিসেবে বাংলাদেশের পথ চলায় পশ্চিমা শাসকগোষ্ঠী ছাড়াও বাধা হয়ে দাঁড়িয়েছিল এদেশীয় রাজাকার শ্রেণি। গণহত্যা, লুট, ধর্ষণ, অগ্নিসংযোগসহ নানা ঘৃণ্য কর্মকাণ্ডে শামিল হয় তারা। কিন্তু এদেশের স্বাধীনতার জয়যাত্রায় কোনোভাবেই তারা বাধা হয়ে দাঁড়াতে পারেনি। এদেশের সর্বস্তরের মানুষের সম্মিলিত প্রচেষ্টায় এদেশে স্বাধীন হয়েছে।
- ক)(1)
'সিরাজউদ্দৌলা' নাটকে কতটি অঙ্ক রয়েছে?
- খ)(2)
ঘসেটি বেগম কেন সিরাজের ধ্বংস কামনা করেন?
- গ)(3)
উদ্দীপকে উল্লিখিত রাজাকার 'সিরাজউদ্দৌলা' নাটকের কোন কোন চরিত্রগুলোর প্রতিনিধিত্ব করে? ব্যাখ্যা করো।
- ঘ)(4)
বাংলাদেশের সাধারণ জনগণ রাজাকারদের বিরুদ্ধে জেগে উঠলেও সিরাজউদ্দৌলার প্রজারা মীরজাফরদের বিরুদ্ধে জেগে ওঠেনি"- উক্তিটির যথার্থতা বিচার করো।
উত্তর ও ব্যাখ্যা
- ক)
AI-তৈরি নমুনা উত্তর
সিকান্দার আবু জাফরের 'সিরাজউদ্দৌলা' নাটকে মোট ৪টি অঙ্ক রয়েছে।
- খ)
AI-তৈরি নমুনা উত্তর
ঘসেটি বেগম নবাব আলীবর্দী খাঁর বড় কন্যা হওয়া সত্ত্বেও তার পালিত পুত্র শওকত জঙ্গ কিংবা একরামউদ্দৌলার বদলে কনিষ্ঠা ভগ্নির পুত্র সিরাজউদ্দৌলা বাংলার নবাব হওয়ায় তীব্র ঈর্ষান্বিত ও ক্ষুব্ধ ছিলেন। সিংহাসন দখলের স্বপ্নভঙ্গ এবং নিজের ধনসম্পদ ও প্রভাব হারানোর ক্ষোভ থেকে তিনি সিরাজউদ্দৌলাকে নিজের পরম শত্রু মনে করতেন। নবাবের চরম দুর্ভোগ ও পতন দেখার ব্যক্তিগত আক্রোশ থেকেই তিনি সিরাজের ধ্বংস কামনা করতেন।
- গ)
AI-তৈরি নমুনা উত্তর
উদ্দীপকে উল্লিখিত রাজাকার শ্রেণি 'সিরাজউদ্দৌলা' নাটকের মীরজাফর, উমিচাঁদ, রায়দুর্লভ, রাজবল্লভ ও জগতশেঠের মতো দেশদ্রোহী ও বিশ্বাসঘাতক চরিত্রগুলোর প্রতিনিধিত্ব করে।
নাটকে দেখা যায়, বাংলার স্বাধীন নবাব সিরাজউদ্দৌলা যখন দেশকে ব্রিটিশ ইস্ট ইন্ডিয়া কোম্পানির হাত থেকে রক্ষা করার চেষ্টা করছিলেন, তখন তাঁরই প্রধান সেনাপতি মীরজাফর এবং সভাসদ উমিচাঁদ, জগতশেঠরা নিজ স্বার্থ ও ক্ষমতার লোভে বহিরাগত ইংরেজদের সাথে গোপন ষড়যন্ত্রে লিপ্ত হয়। তারা পলাশীর যুদ্ধে নবাবের পক্ষে লড়াই না করে ইংরেজ ক্লাইভকে প্রত্যক্ষ ও পরোক্ষ সহায়তা করে বাংলার স্বাধীনতা ব্রিটিশদের হাতে তুলে দেয়।
একইভাবে ১৯৭১ সালে মুক্তিযুদ্ধের সময়ে রাজাকাররা পাকিস্তানি দখলদার বাহিনীর দোসর হিসেবে নিজ দেশের স্বাধীনতার বিরোধিতা করে হত্যা, লুটপাট ও বিশ্বাসঘাতকতায় লিপ্ত হয়েছিল। সুতরাং উদ্দীপকের রাজাকাররা নাটকের মীরজাফর গংদের মতোই দেশদ্রোহী বিশ্বাসঘাতক চরিত্রের প্রতীক।
- ঘ)
AI-তৈরি নমুনা উত্তর
প্রশ্নোক্ত উক্তিটি ঐতিহাসিক ও সামাজিক বাস্তবতার নিরিখে যথার্থ।
১৯৭১ সালে বাংলাদেশের মুক্তিযুদ্ধ ছিল একটি জনযুদ্ধ। পাকিস্তানি শোষক ও তাদের এদেশীয় দোসর রাজাকারদের নৃশংসতার বিরুদ্ধে দেশের ছাত্র, কৃষক, শ্রমিকসহ সর্বস্তরের সাধারণ মানুষ অস্ত্র হাতে নিয়ে একাত্ম হয়ে প্রতিরোধ গড়ে তুলেছিল। রাজনৈতিক সচেতনতা এবং জাতীয়তাবোধের ফলে জনগণ সক্রিয়ভাবে অংশ নিয়ে দেশকে স্বাধীন করেছিল।
অপরদিকে, ১৭৫৭ সালে পলাশীর যুদ্ধে নবাব সিরাজউদ্দৌলা মীরজাফরসহ দেশি-বিদেশি ষড়যন্ত্রকারীদের দ্বারা পরাজিত ও বন্দি হন। সেই সময়ে সাধারণ প্রজা বা জনগণের মধ্যে আধুনিক জাতীয়তাবাদী চেতনা ও রাজনৈতিক সচেতনতা ছিল না। যুদ্ধ ও শাসনকাজকে তারা কেবল রাজা-বাদশাহ ও অভিজাত শ্রেণির বিষয় বলেই মনে করত। ফলে মীরজাফরদের চূড়ান্ত বিশ্বাসঘাতকতার মাধ্যমে যখন স্বাধীনতার সূর্য অস্তমিত হচ্ছিল এবং সিরাজউদ্দৌলাকে বন্দি করে মুর্শিদাবাদের রাস্তায় ঘোরানো হচ্ছিল, তখন সাধারণ মানুষ কেবল নির্বাক দর্শকের ভূমিকায় ছিল; তারা সংগঠিত হয়ে মীরজাফরদের বিরুদ্ধে কোনো গণপ্রতিরোধ গড়ে তোলেনি।
অতএব, জনগণের সচেতনতার এই পার্থক্যের কারণে উক্তিটি সম্পূর্ণ যথার্থ।
আরও প্রশ্ন অনুশীলন করতে অ্যাপে যাও