‍অর্থনীতি ১ম পত্র • Combined Board • সমন্বিত বোর্ড ২০২৬ (অনিয়মিত)

‍অর্থনীতি ১ম পত্র প্রশ্ন

‘ক’ এমন একটি ব্যাংক যা বিনিময়ের মাধ্যম সৃষ্টি করে এবং ঋণ আমানত সৃষ্টি করে। অন্যদিকে ‘খ’ ব্যাংক খোলাবাজার নীতি প্রণয়নের মাধ্যমে মুদ্রাস্ফীতি নিয়ন্ত্রণ করে এবং সরকারের পরামর্শদাতা হিসেবে কাজ করে।

  1. ক)

    অর্থের মূল্য কী?

    (1)
  2. খ)

    শুধু কি চাহিদা আমানতই মুদ্রার যোগান নির্দেশ করে? ব্যাখ্যা কর।

    (2)
  3. গ)

    উদ্দীপকে ‘ক’ কোন ধরনের ব্যাংক? ব্যাখ্যা কর।

    (3)
  4. ঘ)

    ‘খ’ ব্যাংক চিহ্নিতপূর্বক উদ্দীপকে উল্লিখিত কার্যক্রম মুদ্রাস্ফীতি নিয়ন্ত্রণে কীভাবে কাজ করে? তোমার মতামত দাও।

    (4)

উত্তর ও ব্যাখ্যা

  1. ক)

    AI-তৈরি নমুনা উত্তর

    অর্থের ক্রয়ক্ষমতাকেই অর্থের মূল্য বলে, অর্থাৎ এক একক অর্থ দিয়ে সাধারণত যে পরিমাণ দ্রব্য বা সেবা ক্রয় করা যায় তাকে অর্থের মূল্য (Value of Money) বলা হয়।

  2. খ)

    AI-তৈরি নমুনা উত্তর

    না, শুধু চাহিদা আমানতই মুদ্রার যোগান নির্দেশ করে না। মুদ্রার সংকীর্ণ ধারণায় (M₁) মুদ্রার যোগান হলো জনগণের কাছে থাকা কাগুজে নোট ও ধাতব মুদ্রা (চলতি মুদ্রা বা C) এবং বাণিজ্যিক ব্যাংকে রক্ষিত তলবি বা চাহিদা আমানতের (DD) সমষ্টি। অর্থাৎ, M₁ = C + DD।

    তাছাড়া, মুদ্রার ব্যাপক ধারণায় (M₂) চাহিদা আমানতের পাশাপাশি মেয়াদি আমানতও (Time Deposit) অন্তর্ভুক্ত হয়। সুতরাং, বাজারে প্রচলিত কাগুজে নোট, ধাতব মুদ্রা এবং বিভিন্ন প্রকার আমানত মিলেই সামগ্রিক মুদ্রার যোগান গঠিত হয়, কেবল চাহিদা আমানত দ্বারা নয়।

  3. গ)

    AI-তৈরি নমুনা উত্তর

    উদ্দীপকে উল্লিখিত ‘ক’ হলো একটি বাণিজ্যিক ব্যাংক।

    বাণিজ্যিক ব্যাংক হলো এমন একটি আর্থিক প্রতিষ্ঠান যা মুনাফা অর্জনের উদ্দেশ্যে জনগণের সঞ্চিত অর্থ আমানত হিসেবে গ্রহণ করে এবং বিভিন্ন ব্যক্তি ও ব্যবসা প্রতিষ্ঠানে ঋণ প্রদান করে। এছাড়া এটি চেক, পে-অর্ডার ইত্যাদির মাধ্যমে বিনিময়ের মাধ্যম তৈরি করে।

    উদ্দীপকে দেখা যায়, ‘ক’ ব্যাংক বিনিময়ের মাধ্যম সৃষ্টি করে এবং ঋণ আমানত সৃষ্টি করে। ঋণ প্রদানের মাধ্যমে নতুন আমানত সৃষ্টি করা (ঋণ আমানত) এবং চেক বা ড্রাফট চালুর মাধ্যমে লেনদেন সম্পন্ন করা বাণিজ্যিক ব্যাংকের অন্যতম প্রধান মৌলিক বৈশিষ্ট্য। সুতরাং বৈশিষ্ট্য অনুযায়ী ‘ক’ একটি বাণিজ্যিক ব্যাংক।

  4. ঘ)

    AI-তৈরি নমুনা উত্তর

    উদ্দীপকে উল্লিখিত ‘খ’ ব্যাংকটি হলো একটি কেন্দ্রীয় ব্যাংক। কারণ এটি সরকারের আর্থিক পরামর্শদাতা এবং খোলাবাজার নীতির মতো মুদ্রানীতির হাতিয়ারের মাধ্যমে দেশের মুদ্রাস্ফীতি নিয়ন্ত্রণ করে।

    মুদ্রাস্ফীতি নিয়ন্ত্রণে ‘খ’ ব্যাংকের ভূমিকা ও কার্যক্রম:
    মুদ্রাস্ফীতি দেখা দিলে অর্থনীতিতে অর্থের যোগান স্বাভাবিকের চেয়ে বৃদ্ধি পায় এবং দ্রব্যের মূল্যস্তর বেড়ে যায়। কেন্দ্রীয় ব্যাংক খোলাবাজার নীতি (Open Market Operations) প্রয়োগ করে এই পরিস্থিতি নিয়ন্ত্রণ করে:
    ১. সরকারি ঋণপত্র ও সিকিউরিটিজ বিক্রয়: কেন্দ্রীয় ব্যাংক মুদ্রাস্ফীতি নিয়ন্ত্রণের জন্য খোলাবাজারে সাধারণ জনগণ ও বাণিজ্যিক ব্যাংকগুলোর কাছে সরকারি সিকিউরিটিজ, বন্ড ও বিল বিক্রয় করে।
    ২. নগদ অর্থ প্রত্যাহার: এসব সিকিউরিটিজ ক্রয়ের ফলে বাণিজ্যিক ব্যাংক ও জনগণের নগদ অর্থ কেন্দ্রীয় ব্যাংকের তহবিলে চলে আসে।
    ৩. ঋণদান ক্ষমতা হ্রাস: বাণিজ্যিক ব্যাংকগুলোর তারল্য বা অতিরিক্ত রিজার্ভ কমে যাওয়ার কারণে তাদের ঋণ প্রদানের সক্ষমতা মারাত্মকভাবে সংকুচিত হয়।
    ৪. সামগ্রিক চাহিদা ও মূল্যস্তর হ্রাস: ব্যাংকিং ঋণ হ্রাস পেলে সমাজে সামগ্রিক অর্থের যোগান ও বিনিয়োগ কমে যায়। এর ফলে সামগ্রিক চাহিদা হ্রাস পেয়ে দ্রব্যের মূল্যস্তর কমতে থাকে এবং মুদ্রাস্ফীতি নিয়ন্ত্রণে আসে।

    অতএব, কেন্দ্রীয় ব্যাংক কর্তৃক খোলাবাজার নীতি প্রয়োগ করে নগদ তহবিল তুলে নেওয়া মুদ্রাস্ফীতি প্রশমনের ক্ষেত্রে একটি অত্যন্ত কার্যকর ও সময়োপযোগী পদক্ষেপ।

আরও প্রশ্ন অনুশীলন করতে অ্যাপে যাও

সম্পর্কিত প্রশ্ন