উৎপাদন ব্যাবস্থাপনা ও বিপণন ১ম পত্র • Jashore Board • যশোর বোর্ড ২০১৯
উৎপাদন ব্যাবস্থাপনা ও বিপণন ১ম পত্র প্রশ্ন
মি. তাহা ২০১৭ সালে নিজস্ব ১০ বিঘা জমিতে ১৫ কোটি টাকা মূলধন ও ১০০ জন শ্রমিক নিয়ে একটি মিনি জুট মিলস্ স্থাপন করেন। তার সুদক্ষ পরিচালনায় প্রতিষ্ঠানটির উৎপাদিত পণ্যের সুনাম ও বাজার চাহিদা বাড়ে। ফলে ব্যবসায় সম্প্রসারণের লক্ষ্যে ২০১৮ সালে তিনি নতুন ১০০ জন শ্রমিক নিয়োগ দেন এবং আরও ২০ কোটি টাকাব্যাংক ঋণ নেন। উৎপাদনে গতিশীলতা আসায় মি. তাহা বিদেশের বাজারে পণ্য রপ্তানির উদ্দেশ্যে আরও ২৫ কোটি টাকা ব্যাংক ঋণ নিয়ে অতিরিক্ত ২০০ জন শ্রমিক নিয়োগ দেওয়ার সিদ্ধান্ত নিয়েছেন।
- ক)(1)
স্থায়ী ব্যয় কী?
- খ)(2)
“কাম্য উৎপাদন মাত্রা সর্বোচ্চ উৎপাদন স্তরকে নির্দেশ করে” ব্যাখ্যা করো ।
- গ)(3)
‘জাতীয় শিল্পনীতি ২০১৬' অনুসারে ২০১৮ সালে মি. তাহার প্রতিষ্ঠানটি কোন মাত্রার এন্টারপ্রাইজের অন্তর্ভুক্ত? ব্যাখ্যা করো ।
- ঘ)(4)
মি. তাহার সিদ্ধান্ত বাস্তবায়িত হলে প্রতিষ্ঠানের মাত্রা বিবেচনায় ধরন উল্লেখপূর্বক এর অর্থনৈতিক গুরুত্ব মূল্যায়ন করো ।
উত্তর ও ব্যাখ্যা
- ক)
AI-তৈরি নমুনা উত্তর
উৎপাদনের পরিমাণ হ্রাস বা বৃদ্ধি পেলেও স্বল্পকালে যে ব্যয়ের কোনো পরিবর্তন হয় না, অর্থাৎ যা অপরিবর্তিত থাকে, তাকে স্থায়ী ব্যয় বলে।
- খ)
AI-তৈরি নমুনা উত্তর
কাম্য উৎপাদন মাত্রা বলতে উৎপাদনের এমন একটি দক্ষ স্তরকে বোঝায় যেখানে গড় উৎপাদন ব্যয় সর্বনিম্ন হয়।
উৎপাদন বৃদ্ধির সাথে সাথে একটি নির্দিষ্ট পর্যায় পর্যন্ত অভ্যন্তরীণ ও বাহ্যিক ব্যয়সংকোচনের সুবিধার কারণে একক প্রতি গড় ব্যয় কমতে থাকে। যে স্তরে গড় ব্যয় সর্বনিম্ন হয়, তা-ই কাম্য উৎপাদন মাত্রা। কিন্তু এর চেয়ে বেশি উৎপাদন করতে গেলে অপব্যয়সংকোচন ঘটে গড় ব্যয় বৃদ্ধি পায়। তাই কাম্য উৎপাদন মাত্রাই হলো সর্বোচ্চ দক্ষতার সাথে উৎপাদনের সেই স্তর, যা কারিগরি ও অর্থনৈতিক বিবেচনায় প্রতিষ্ঠানের জন্য সর্বোচ্চ কাম্য উৎপাদন স্তর হিসেবে গণ্য হয়। - গ)
AI-তৈরি নমুনা উত্তর
‘জাতীয় শিল্পনীতি ২০১৬’ অনুসারে ২০১৮ সালে মি. তাহার প্রতিষ্ঠানটি মাঝারি (Medium) শিল্পের অন্তর্ভুক্ত।
জাতীয় শিল্পনীতি ২০১৬ অনুযায়ী, উৎপাদনমুখী মাঝারি শিল্প বলতে বোঝায় যে প্রতিষ্ঠানে জমি এবং কারখানা ভবন ব্যতিরেকে স্থায়ী সম্পদের মূল্য প্রতিস্থাপন ব্যয়সহ ১৫ কোটি টাকার অধিক এবং অনধিক ৫০ কোটি টাকা কিংবা যে প্রতিষ্ঠানে ১২১ জন থেকে অনধিক ৩০০ জন শ্রমিক নিয়োজিত রয়েছে।
উদ্দীপকে দেখা যায়, ২০১৮ সালে মি. তাহা ব্যবসায় সম্প্রসারণের জন্য আরও ১০০ জন শ্রমিক নিয়োগ দেন (মোট শ্রমিক সংখ্যা দাঁড়ায় ১০০ + ১০০ = ২০০ জন) এবং আরও ২০ কোটি টাকা ঋণ নিয়ে মোট বিনিয়োগ বাড়িয়ে ৩৫ কোটি টাকা করেন (১৫ কোটি + ২০ কোটি টাকা)। যেহেতু প্রতিষ্ঠানটিতে শ্রমিকের সংখ্যা ২০০ জন (যা ১২১-৩০০ জনের মধ্যে পড়ে) এবং স্থায়ী বিনিয়োগ ৩৫ কোটি টাকা (যা ১৫ কোটি থেকে ৫০ কোটি টাকার মধ্যে পড়ে), তাই এটি জাতীয় শিল্পনীতি ২০১৬ অনুযায়ী মাঝারি শিল্পের অন্তর্ভুক্ত।
- ঘ)
AI-তৈরি নমুনা উত্তর
মি. তাহার সিদ্ধান্ত বাস্তবায়িত হলে প্রতিষ্ঠানটির মাত্রা বিবেচনায় এটি একটি 'বৃহৎ শিল্প' বা এন্টারপ্রাইজে পরিণত হবে।
জাতীয় শিল্পনীতি ২০১৬ অনুসারে, উৎপাদনমুখী শিল্পের ক্ষেত্রে জমি ও কারখানা ভবন ব্যতিরেকে স্থায়ী সম্পদের মূল্য প্রতিস্থাপন ব্যয়সহ ৫০ কোটি টাকার বেশি হলে কিংবা ৩০০ জনের অধিক শ্রমিক নিয়োজিত থাকলে তাকে বৃহৎ শিল্প বলা হয়। উদ্দীপকে মি. তাহা আরও ২৫ কোটি টাকা ব্যাংক ঋণ নিয়ে (মোট বিনিয়োগ ৩৫ + ২৫ = ৬০ কোটি টাকা) এবং অতিরিক্ত ২০০ জন শ্রমিক নিয়োগ (মোট শ্রমিক সংখ্যা ২০০ + ২০০ = ৪০০ জন) করার সিদ্ধান্ত নেন। ফলে শ্রমিক সংখ্যা ৩০০ জন অতিক্রম করায় এবং বিনিয়োগ ৫০ কোটি টাকা ছাড়িয়ে যাওয়ায় প্রতিষ্ঠানটি বৃহৎ শিল্পের রূপ লাভ করবে।
অর্থনৈতিক গুরুত্ব মূল্যায়ন:
১. বৈদেশিক মুদ্রা অর্জন: মি. তাহা বিদেশের বাজারে পণ্য রপ্তানির সিদ্ধান্ত নিয়েছেন, যা দেশের বৈদেশিক মুদ্রার রিজার্ভ বৃদ্ধি করতে গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা রাখবে।
২. কর্মসংস্থান সৃষ্টি: মোট ৪০০ জন শ্রমিকের স্থায়ী কাজের সুযোগ সৃষ্টি হবে, যা দেশের বেকারত্ব হ্রাসে সহায়ক।
৩. কাঁচামালের সঠিক ব্যবহার: পাটজাত পণ্য উৎপাদনের মাধ্যমে দেশের অভ্যন্তরীণ কাঁচামালের (পাট) সর্বোচ্চ ব্যবহার নিশ্চিত হবে এবং কৃষক ন্যায্যমূল্য পাবে।
৪. জাতীয় আয় ও জিডিপি বৃদ্ধি: বৃহৎ পরিসরে উৎপাদনের মাধ্যমে অধিক মূল্য সংযোজিত হয়ে জাতীয় প্রবৃদ্ধিতে অবদান রাখবে।অতএব, মি. তাহার এই সিদ্ধান্ত বাস্তবায়ন হলে দেশের সার্বিক অর্থনৈতিক উন্নয়নে এটি অত্যন্ত ইতিবাচক ভূমিকা পালন করবে।
আরও প্রশ্ন অনুশীলন করতে অ্যাপে যাও