পৌরনীতি ও সুশাসন ২য় পত্র • Jashore Board • যশোর বোর্ড ২০২২
পৌরনীতি ও সুশাসন ২য় পত্র প্রশ্ন
X ও Y অংশ নিয়ে Z রাষ্ট্র গঠিত। Z রাষ্ট্রের শাসকগোষ্ঠী X অংশের মাত্র ৩% লোকের ভাষাকে রাষ্ট্রভাষা করার সিদ্ধান্ত নেয়।সরকারের এই সিদ্ধান্তের বিরুদ্ধে Y অংশের জনগণ তীব্র প্রতিবাদ করে। অবশেষে কয়েকজনের বুকের তাজা রক্তের বিনিময়ে তা প্রতিহত করে।
- ক)(1)
বাংলাকে পাকিস্তানের রাষ্ট্রভাষা হিসেবে কত সালে স্বীকৃতি দেওয়া হয়।
- খ)(2)
মৌলিক গণতন্ত্র বলতে কী বোঝায়?
- গ)(3)
উদ্দীপকের সাথে তোমার পঠিত কোন আন্দোলনের মিল রয়েছে? ব্যাখা কর।
- ঘ)(4)
তুমি কি মনে কর উক্ত আন্দোলনই বাংলাদেশ স্বাধীনতা সূত্রপাত করে? বিশ্লেষণ কর।
উত্তর ও ব্যাখ্যা
- ক)
AI-তৈরি নমুনা উত্তর
বাংলাকে ১৯৫৬ সালে পাকিস্তানের সংবিধানে অন্যতম রাষ্ট্রভাষা হিসেবে আনুষ্ঠানিকভাবে স্বীকৃতি দেওয়া হয়।
- খ)
AI-তৈরি নমুনা উত্তর
মৌলিক গণতন্ত্র হলো ১৯৫৯ সালে পাকিস্তানের তৎকালীন সামরিক শাসক ও রাষ্ট্রপতি ফিল্ড মার্শাল আইয়ুব খান কর্তৃক প্রবর্তিত এক বিশেষ ধরনের সীমিত ও পরোক্ষ নির্বাচনী ব্যবস্থা। এই ব্যবস্থায় পূর্ব ও পশ্চিম পাকিস্তান থেকে ৪০,০০০ করে মোট ৮০,০০০ (পরবর্তীতে ১,২০,০০০) নির্বাচিত স্থানীয় সরকার প্রতিনিধির সমন্বয়ে একটি নির্বাচকমণ্ডলী গঠন করা হতো। সাধারণ জনগণ প্রত্যক্ষ ভোটে কোনো জাতীয় বা প্রাদেশিক সরকার নির্বাচন করতে পারত না; কেবল এই মৌলিক গণতন্ত্রীরাই রাষ্ট্রপতি এবং জাতীয় ও প্রাদেশিক পরিষদের সদস্যদের নির্বাচিত করার ক্ষমতা ভোগ করতেন।
- গ)
AI-তৈরি নমুনা উত্তর
উদ্দীপকের সাথে আমাদের পঠিত ১৯৫২ সালের মহান 'ভাষা আন্দোলন'-এর সাদৃশ্য রয়েছে।
১৯৪৭ সালে দ্বিজাতিতত্ত্বের ভিত্তিতে ভারত বিভক্ত হয়ে পাকিস্তান রাষ্ট্রের জন্ম হয়, যার দুটি অংশ ছিল পূর্ব পাকিস্তান ও পশ্চিম পাকিস্তান। পাকিস্তানের মোট জনসংখ্যার প্রায় ৫৬% মানুষের ভাষা বাংলা হওয়া সত্ত্বেও শাসকগোষ্ঠী মাত্র ৩-৪% মানুষের ভাষা উর্দুকে একমাত্র রাষ্ট্রভাষা করার ষড়যন্ত্রে লিপ্ত হয়। এর বিরুদ্ধে পূর্ব পাকিস্তানের সচেতন ছাত্র-জনতা তীব্র আন্দোলন গড়ে তোলে। ১৯৫২ সালের ২১ ফেব্রুয়ারি ১৪৪ ধারা ভেঙে মিছিলে পাকিস্তানি পুলিশের গুলিতে বরকত, রফিক, সালাম, জব্বারসহ অনেকে শহীদ হন এবং বুকের তাজা রক্তের বিনিময়ে বাংলাকে অন্যতম রাষ্ট্রভাষা করার দাবি আদায় করা হয়।
উদ্দীপকে দেখা যায়, X ও Y অংশ নিয়ে Z রাষ্ট্র গঠিত। সেখানে শাসকগোষ্ঠী মাত্র ৩% মানুষের ভাষাকে রাষ্ট্রভাষা করার অপচেষ্টা চালালে Y অংশের জনগণ প্রতিবাদ জানায় এবং তাজা রক্তের বিনিময়ে সেই চক্রান্ত প্রতিহত করে। উদ্দীপকের Z রাষ্ট্র তৎকালীন পাকিস্তান, X অংশ পশ্চিম পাকিস্তান ও Y অংশ তদানীন্তন পূর্ব পাকিস্তানের প্রতীক এবং ভাষা চাপিয়ে দেওয়ার প্রেক্ষাপটটি ১৯৫২ সালের ভাষা আন্দোলনের ঐতিহাসিক ঘটনার সুস্পষ্ট প্রতিফলন।
- ঘ)
AI-তৈরি নমুনা উত্তর
হ্যাঁ, আমি মনে করি উক্ত আন্দোলন অর্থাৎ ১৯৫২ সালের মহান ভাষা আন্দোলনই বাংলাদেশের স্বাধীনতার মূল সূত্রপাত করেছিল। নিচে এর যথার্থতা বিশ্লেষণ করা হলো:
১৯৪৭ সালে ধর্মীয় অনুভূতির ওপর ভিত্তি করে পাকিস্তান গঠিত হলেও পশ্চিম পাকিস্তানি শাসকগোষ্ঠীর বৈষম্যমূলক নীতি পূর্ব বাংলার মানুষকে অতি দ্রুত মোহমুক্ত করে। পাকিস্তানি ঔপনিবেশিক শাসকগোষ্ঠী শুরুতেই বাঙালির ভাষা ও সংস্কৃতির ওপর আঘাত হানে। ১৯৫২ সালের ২১ ফেব্রুয়ারি ছাত্র-জনতার বুকের রক্ত ঢেলে দিয়ে মাতৃভাষার সম্মান রক্ষা করার মাধ্যমে বাঙালির মনে প্রথম একটি পৃথক ও ধর্মনিরপেক্ষ জাতীয়তাবাদী চেতনার উন্মেষ ঘটে, যা 'বাঙালি জাতীয়তাবাদ' নামে পরিচিত।
ভাষা আন্দোলনের মাধ্যমেই বাঙালিরা প্রথম নিজেদের রাজনৈতিক, অর্থনৈতিক ও সাংস্কৃতিক স্বাধিকারের গুরুত্ব গভীরভাবে উপলব্ধি করে। এই চেতনার ধারাবাহিকতায় ১৯৫৪ সালের যুক্তফ্রন্ট নির্বাচন, ১৯৬২-এর শিক্ষা আন্দোলন, ১৯৬৬ সালের ঐতিহাসিক ছয় দফা আন্দোলন, ১৯৬৯-এর গণঅভ্যুত্থান এবং ১৯৭০-এর সাধারণ নির্বাচনে বাঙালির বিপুল বিজয় ঘটে। প্রতিটি আন্দোলন-সংগ্রামের প্রেরণার মূল উৎস ছিল একুশের আত্মত্যাগ ও জাতীয়তাবাদী চেতনা। পরিশেষে এই চেতনার চূড়ান্ত পরিণতি হিসেবে ১৯৭১ সালে নয় মাসের সশস্ত্র মুক্তিযুদ্ধের মাধ্যমে স্বাধীন সার্বভৌম বাংলাদেশের অভ্যুদয় ঘটে।
অতএব, বলা যায় ভাষা আন্দোলন কেবল মাতৃভাষার দাবি আদায়ের আন্দোলন ছিল না; বরং তা ছিল বাঙালির আত্মপরিচয় প্রতিষ্ঠা ও স্বাধীনতা অর্জনের প্রথম মাইলফলক। তাই ভাষা আন্দোলনই বাংলাদেশের স্বাধীনতার বীজ বপন করেছিল বা সূত্রপাত ঘটিয়েছিল।
আরও প্রশ্ন অনুশীলন করতে অ্যাপে যাও