ভূগোল ২য় পত্র • শিল্প • Combined Board • রাজশাহী, কুমিল্লা, চট্টগ্রাম, ময়মনসিংহ বোর্ড ২০২৫

ভূগোল ২য় পত্র প্রশ্ন

  1. ক)

    লৌহ ও ইস্পাত শিল্প কী?

    (1)
  2. খ)

    'বাংলাদেশের ঔষধশিল্প একটি সম্ভাবনাময় খাত'- ব্যাখ্যা করো।

    (2)
  3. গ)

    উদ্দীপকে ইঙ্গিতকৃত 'ক' স্থানীয় শিল্পের সমস্যা ব্যাখ্যা করো।

    (3)
  4. ঘ)

    বাংলাদেশের অর্থনীতিতে উদ্দীপকে ইঙ্গিতকৃত শিল্পদ্বয়ের প্রভাব বিশ্লেষণ করো।

    (4)

উত্তর ও ব্যাখ্যা

  1. ক)

    AI-তৈরি নমুনা উত্তর

    লৌহ আকরিক থেকে প্রক্রিয়াজাতকরণের মাধ্যমে লোহা ও ইস্পাত উৎপাদন করার শিল্পকে লৌহ ও ইস্পাত শিল্প বলা হয়। এটি আধুনিক ভারী শিল্প ও যন্ত্রাংশ তৈরির মূল ভিত্তি হিসেবে পরিচিত।

  2. খ)

    AI-তৈরি নমুনা উত্তর

    বাংলাদেশের ঔষধশিল্প একটি অত্যন্ত সম্ভাবনাময় খাত। বর্তমানে দেশের মোট ঔষধ চাহিদার প্রায় ৯৮ শতাংশ স্থানীয়ভাবে উৎপাদিত হয়। আন্তর্জাতিক মানের আধুনিক প্রযুক্তি ও দক্ষ জনবল ব্যবহারের ফলে উৎপাদিত ঔষধের গুণগত মান নিশ্চিত করা সম্ভব হচ্ছে। এছাড়া বাংলাদেশ বর্তমানে যুক্তরাষ্ট্র, যুক্তরাজ্যসহ বিশ্বের শতাধিক দেশে ঔষধ রপ্তানি করে বিপুল বৈদেশিক মুদ্রা অর্জন করছে। সরকারের অনুকূল নীতি ও কাঁচামাল উৎপাদনের (API) উদ্যোগ বাস্তবায়িত হলে এটি তৈরি পোশাক শিল্পের মতো একটি শীর্ষ রপ্তানি খাতে পরিণত হতে পারে। তাই বাংলাদেশের ঔষধশিল্প একটি সম্ভাবনাময় খাত।

  3. গ)

    AI-তৈরি নমুনা উত্তর

    উদ্দীপকের মানচিত্রে 'ক' স্থানটি বাংলাদেশের উত্তরাঞ্চলকে নির্দেশ করছে, যা প্রধানত কৃষিভিত্তিক শিল্প (বিশেষ করে চিনি, তামাক, রেশম বা পাট শিল্প)-এর সাথে সম্পর্কিত।

    উত্তরাঞ্চলের কৃষিভিত্তিক শিল্পগুলোর প্রধান সমস্যাগুলো নিচে আলোচনা করা হলো:
    ১. কাঁচামালের অপর্যাপ্ততা ও অনিয়মিত সরবরাহ: কৃষকদের ন্যায্যমূল্য না পাওয়া এবং প্রতিকূল আবহাওয়ার কারণে আখ বা পাটের মতো কাঁচামালের উৎপাদন হ্রাস পায়, যা কারখানায় নিয়মিত সরবরাহে বিঘ্ন ঘটায়।
    ২. পুরাতন যন্ত্রপাতি ও আধুনিক প্রযুক্তির অভাব: এই অঞ্চলের বেশিরভাগ চিনি ও কৃষিভিত্তিক কলকারখানা অনেক পুরনো এবং এগুলোতে আধুনিক প্রযুক্তির ব্যবহার সীমিত হওয়ায় উৎপাদন ক্ষমতা কমে যাচ্ছে।
    ৩. মূলধনের অভাব ও ঋণের সীমাবদ্ধতা: কৃষিভিত্তিক শিল্পে দীর্ঘমেয়াদি বিনিয়োগ ও চলতি মূলধনের ঘাটতি রয়েছে।
    ৪. পরিবহন ও বাজারজাতকরণের সমস্যা: অনুন্নত যোগাযোগ ব্যবস্থা এবং পর্যাপ্ত হিমাগারের অভাবে প্রক্রিয়াজাত কৃষিপণ্য দ্রুত বাজারে পৌঁছানো এবং সংরক্ষণ করা কঠিন হয়ে পড়ে।
    ৫. জ্বালানি ও বিদ্যুৎ সংকট: নিরবচ্ছিন্ন গ্যাস ও বিদ্যুৎ সংযোগের অভাবে উৎপাদন ব্যাহত হয় এবং উৎপাদন ব্যয় বৃদ্ধি পায়।

  4. ঘ)

    AI-তৈরি নমুনা উত্তর

    উদ্দীপকে ইঙ্গিতকৃত শিল্পদ্বয় হলো 'ক' দ্বারা নির্দেশিত কৃষিভিত্তিক শিল্প এবং 'খ' দ্বারা নির্দেশিত গ্যাসভিত্তিক শিল্প (প্রধানত সার শিল্প)। বাংলাদেশের সামগ্রিক অর্থনীতিতে এ দুটি শিল্পের প্রভাব অত্যন্ত সুদূরপ্রসারী।

    প্রথমত, কৃষিভিত্তিক শিল্প (যেমন: চিনি, চা, পাট, বস্ত্র ও খাদ্য প্রক্রিয়াকরণ শিল্প) বাংলাদেশের গ্রামীণ অর্থনীতির মেরুদণ্ড। এ শিল্পগুলো একদিকে স্থানীয় কৃষিপণ্যের বাজার ও সঠিক মূল্য নিশ্চিত করে এবং অন্যদিকে ব্যাপক কর্মসংস্থান সৃষ্টি করে। এর ফলে দারিদ্র্য বিমোচন ও গ্রামীণ মানুষের ক্রয়ক্ষমতা বৃদ্ধি পায়। এছাড়াও পাট ও চা রপ্তানির মাধ্যমে দেশ উল্লেখযোগ্য পরিমাণ বৈদেশিক মুদ্রা অর্জন করে।

    দ্বিতীয়ত, গ্যাসভিত্তিক শিল্প (বিশেষ করে তিতাস বা ব্রাহ্মণবাড়িয়া অঞ্চলে গড়ে ওঠা রাসায়নিক সার কারখানাগুলো) দেশের কৃষিখাতকে সরাসরি বাঁচিয়ে রেখেছে। বাংলাদেশ মূলত কৃষিপ্রধান দেশ। গ্যাসভিত্তিক ইউরিয়া সার কারখানাগুলো দেশের অভ্যন্তরীণ সারের সিংহভাগ চাহিদা পূরণ করে খাদ্যশস্যের উৎপাদন কয়েকগুণ বৃদ্ধি করেছে, যা জাতীয় খাদ্য নিরাপত্তা নিশ্চিত করে। অভ্যন্তরীণভাবে সার উৎপাদিত হওয়ায় প্রচুর বৈদেশিক মুদ্রার সাশ্রয় হয়।

    পরিশেষে বলা যায়, কৃষিভিত্তিক শিল্প যেখানে কর্মসংস্থান ও বৈদেশিক মুদ্রা অর্জনে ভূমিকা রাখছে, গ্যাসভিত্তিক সার শিল্প সেখানে সামগ্রিক কৃষির উৎপাদনশীলতা বৃদ্ধি ও খাদ্য স্বয়ংসম্পূর্ণতা বজায় রাখতে কাজ করছে। সুতরাং, এই শিল্পদ্বয়ের ভারসাম্যপূর্ণ বিকাশ বাংলাদেশের টেকসই অর্থনৈতিক প্রবৃদ্ধির মূল ভিত্তি।

আরও প্রশ্ন অনুশীলন করতে অ্যাপে যাও

সম্পর্কিত প্রশ্ন