সাহিত্য পাঠ • আঠারো বছর বয়স • Cumilla Board • কুমিল্লা বোর্ড ২০১৭

সাহিত্য পাঠ প্রশ্ন

ওরে নবীন ওরে আমার কাঁচাওরে সবুজ, ওরে অবুঝআধ-মরাদের ঘা মেরে তুই বাঁচারক্ত আলোর মদে মাতাল ভোরেআজকে যে যা বলে বলুক তোরে,সকল তর্ক হেলায় তুচ্ছ করেপুচ্ছটি তোর উচ্চে তুলে নাচা।আয় দুরন্ত, আয়রে আমার কাঁচা।।

  1. ক)

    সুকান্ত ভট্টাচার্য মৃত্যুর পূর্ব পর্যন্ত কোন পত্রিকার সম্পাদক ছিলেন?

    (1)
  2. খ)

    "এদেশের বুকে আঠারো আসুক নেমে"- পংক্তিটির তাৎপর্য ব্যাখ্যা করো।

    (2)
  3. গ)

    "উদ্দীপকে 'আঠারো বছর বয়স' কবিতায় বর্ণিত বিষয়ের আংশিক প্রতিফলন ঘটেছে"- উক্তিটি বিচার করো।

    (3)
  4. ঘ)

    'আঠারো বছর বয়স" কবিতায় এবং উদ্দীপকে মূলত তারুণ্যেরই জয়গান গাওয়া হয়েছে- এ বিষয়ে তোমার যৌক্তিক মতামত দাও।

    (4)

উত্তর ও ব্যাখ্যা

  1. ক)

    AI-তৈরি নমুনা উত্তর

    সুকান্ত ভট্টাচার্য মৃত্যুর পূর্ব পর্যন্ত 'দৈনিক স্বাধীনতা' পত্রিকার কিশোরদের পাতা 'কিশোর সভা'র সম্পাদক ছিলেন।

  2. খ)

    AI-তৈরি নমুনা উত্তর

    "এদেশের বুকে আঠারো আসুক নেমে" চরণটির মাধ্যমে কবি এদেশের মানুষের মাঝে তারুণ্যের নির্ভীক, অন্যায়ের বিরুদ্ধে প্রতিবাদী এবং প্রগতিশীল চেতনার বিকাশ প্রত্যাশা করেছেন।

    'আঠারো বছর বয়স' কবিতায় কবি দেখিয়েছেন যে আঠারো বছর বয়স হলো সাহসিকতা, ত্যাগ ও নতুন সৃষ্টির প্রতীক। এ বয়সে কোনো বাধা মানা হয় না, ন্যায়ের জন্য অকাতরে প্রাণ বিলিয়ে দেওয়া যায়। পরাধীনতা, জরা ও অন্যায়-অবিচারে জর্জরিত স্বদেশকে মুক্ত ও গতিশীল করতে কবি তারুণ্যের এই অপরাজেয় প্রাণশক্তির বিস্তার কামনা করেছেন বলেই এমন উক্তি করেছেন।

  3. গ)

    AI-তৈরি নমুনা উত্তর

    উদ্দীপকে রবীন্দ্রনাথ ঠাকুরের 'সবুজের অভিযান' কবিতার চরণে নবীন তারুণ্যের গতিশীল ও সংস্কারভাঙা রূপটি প্রতিফলিত হয়েছে, যা 'আঠারো বছর বয়স' কবিতার মূল ভাবের আংশিক প্রতিফলন।

    'আঠারো বছর বয়স' কবিতায় সুকান্ত ভট্টাচার্য আঠারো বছর বয়সের ইতিবাচক ও নেতিবাচক উভয় দিকই তুলে ধরেছেন। ইতিবাচক দিকে যেমন রয়েছে আত্মত্যাগ, সাহসিকতা, অন্যায়ের বিরুদ্ধে দাঁড়াবার তেজ; তেমনি নেতিবাচক দিকে রয়েছে তীব্র যন্ত্রণা, অনিশ্চয়তা, ভুল পথে চলার আশঙ্কা এবং দুর্যোগ-সংঘাতের ঝুঁকি।

    উদ্দীপকে কেবল তারুণ্যের ইতিবাচক, জরাগ্রস্ত সমাজকে আঘাত করে জাগিয়ে তোলার এবং বাধা না মেনে এগিয়ে যাওয়ার দুরন্ত রূপটি প্রকাশ পেয়েছে। কিন্তু আঠারো বছর বয়সের মনস্তাত্ত্বিক টানাপোড়েন, বেদনাবোধ ও বিপর্যয়ের আশঙ্কা উদ্দীপকে অনুপস্থিত। তাই বলা যায়, উদ্দীপকে 'আঠারো বছর বয়স' কবিতায় বর্ণিত বিষয়ের কেবল ইতিবাচক দিকটির অর্থাৎ আংশিক প্রতিফলন ঘটেছে—উক্তিটি যথার্থ।

  4. ঘ)

    AI-তৈরি নমুনা উত্তর

    'আঠারো বছর বয়স' কবিতা এবং উদ্দীপক—উভয় রচনাতেই মূলত স্থবিরতা ও অন্যায়ের বিরুদ্ধে তারুণ্যের অদম্য প্রাণশক্তি ও জয়গান প্রতিধ্বনিত হয়েছে, মন্তব্যটি অত্যন্ত যৌক্তিক।

    সুকান্ত ভট্টাচার্যের 'আঠারো বছর বয়স' কবিতায় তারুণ্যকে তুলে ধরা হয়েছে নতুন প্রাণ ও সৃষ্টির অগ্রদূত হিসেবে। এই বয়স ভীরু নয়, এ বয়স কোনো বাধা মানে না এবং দেশের যে কোনো সংকটে আত্মাহুতি দিতে দ্বিধাবোধ করে না। সমাজের সকল কুসংস্কার ও অন্যায়ের বিরুদ্ধে তরুণদের এই আত্মোৎসর্গকারী ভূমিকাই সমাজকে নবজন্ম দেয়।

    অনুরূপভাবে উদ্দীপকের অংশেও কবি নবীন, কাঁচা ও অবুঝ প্রাণদের আহ্বান জানিয়েছেন সমাজের 'আধ-মরা'দের আঘাত করে জাগিয়ে তুলতে। প্রচলিত যুক্তি, বিতর্ক ও ভয়কে তুচ্ছজ্ঞান করে বুক ফুলিয়ে চলার ডাক দেওয়া হয়েছে সেই দুরন্ত তরুণদেরই। উভয় স্থানেই সমাজদেহের স্থবিরতা দূর করার জন্য তরুণদের দুর্বার শক্তি ও নবজাগরণকেই একমাত্র অবলম্বন হিসেবে উপস্থাপন করা হয়েছে।

    সুতরাং দেখা যায়, উপস্থাপনভঙ্গিতে ভিন্নতা থাকলেও উভয় রচনার অন্তর্নিহিত সুর এক—তা হলো তারুণ্যের জয়গান এবং নবীনদের হাত ধরে সমাজ রূপান্তরের দৃঢ় প্রত্যয়।

আরও প্রশ্ন অনুশীলন করতে অ্যাপে যাও

সম্পর্কিত প্রশ্ন