জীববিজ্ঞান ২য় পত্র • Cumilla Board • কুমিল্লা বোর্ড ২০২৫
জীববিজ্ঞান ২য় পত্র প্রশ্ন
মানুষের মেরুদণ্ড কতগুলো কশেরুকা নিয়ে গঠিত যার একটি আংটি আকৃতির। এটি কঙ্কালতন্ত্রের একটি অংশ। মানুষের চলনে এই তন্ত্র ছাড়াও আরও একটিতন্ত্র গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা পালন করে।
- ক)(1)
টেন্ডন কী?
- খ)(2)
অস্থিসন্ধি বলতে কী বোঝায়?
- গ)(3)
উদ্দীপকের উল্লিখিত কশেরুকাটির চিহ্নিত চিত্রসহ গঠন বর্ণনা কর।
- ঘ)(4)
উদ্দীপকের উল্লিখিত দুই ধরনের তন্ত্রের সমন্বিত কার্যক্রমেই দেহ উপাঙ্গ সঞ্চালিত হয় বিশ্লেষণ কর।
উত্তর ও ব্যাখ্যা
- ক)
AI-তৈরি নমুনা উত্তর
পেশির প্রান্তভাগের যে শক্ত ও স্থিতিস্থাপক শ্বেত-তন্তুময় যোজক কলা পেশিকে অস্থির সাথে সংযুক্ত করে, তাকে টেন্ডন বলে।
- খ)
AI-তৈরি নমুনা উত্তর
দুই বা ততোধিক অস্থির সংযোগস্থলকে অস্থিসন্ধি বা সন্ধি (Joint) বলে। অস্থিসন্ধির কারণে কঙ্কালের বিভিন্ন অংশ পরস্পর যুক্ত থাকে এবং অঙ্গ-প্রত্যঙ্গ নড়াচড়া ও চলন সম্ভব হয়। গঠন ও কাজের ভিত্তিতে অস্থিসন্ধি প্রধানত তিন প্রকার: তন্তুময় অস্থিসন্ধি, তরুণাস্থিময় অস্থিসন্ধি এবং সাইনোভিয়াল অস্থিসন্ধি।
- গ)
AI-তৈরি নমুনা উত্তর
উদ্দীপকে উল্লিখিত আংটি আকৃতির কশেরুকাটি হলো মানুষের মেরুদণ্ডের প্রথম গ্রীবাদেশীয় কশেরুকা বা অ্যাটলাস (Atlas)।
অ্যাটলাসের গঠন:
১. আকৃতি: এটি সেন্ট্রামবিহীন এবং দেখতে একটি আংটির মতো।
২. অংশসমূহ: অ্যাটলাসে কোনো দেহ (সেন্ট্রাম) ও স্পাইনাস প্রসেস থাকে না। এটি মূলত দুটি চাপ বা আর্চ নিয়ে গঠিত— সম্মুখ আর্চ (Anterior arch) এবং পশ্চাৎ আর্চ (Posterior arch)।
৩. পার্শ্বীয় ভারি অংশ (Lateral masses): দুই আর্চের সংযোগস্থলে দুটি স্থূল পার্শ্বীয় অংশ থাকে। এদের উপরিভাগে সুপিরিয়র আর্টিকুলার ফ্যাসেট থাকে যা করোটির অক্সিপিটাল কন্ডাইলের সাথে যুক্ত হয়ে মাথা নাড়াতে সাহায্য করে। নিচের দিকে ইনফিরিয়র আর্টিকুলার ফ্যাসেট থাকে যা দ্বিতীয় কশেরুকা (অ্যাক্সিস)-এর সাথে যুক্ত হয়।
৪. ট্রান্সভার্স প্রসেস: প্রতিটি পার্শ্বীয় অংশ থেকে একটি করে ছোট ও চওড়া ট্রান্সভার্স প্রসেস বের হয়, যার মধ্যে ভার্টিব্রো-আর্টারিয়াল ক্যানাল থাকে।
৫. কশেরুকা ছিদ্র (Vertebral foramen): এর কেন্দ্রে একটি বৃহৎ গহ্বর থাকে যা ওডোন্টয়েড প্রসেস এবং সুষুম্নাকাণ্ডের জন্য বিভক্ত থাকে।
(পরীক্ষায় চিহ্নিত চিত্র অঙ্কন করতে হবে: সম্মুখ আর্চ, পশ্চাৎ আর্চ, সুপিরিয়র আর্টিকুলার ফ্যাসেট, ট্রান্সভার্স ফোরামেন ইত্যাদি নির্দেশ করে)। - ঘ)
AI-তৈরি নমুনা উত্তর
উদ্দীপকে উল্লিখিত দুটি তন্ত্র হলো কঙ্কালতন্ত্র এবং পেশিতন্ত্র। মানবদেহের উপাঙ্গ সঞ্চালন তথা চলন মূলত এই দুই তন্ত্রের সমন্বিত কার্যক্রমের ফসল। নিম্নে তা বিশ্লেষণ করা হলো:
১. কাঠামোগত ভিত্তি ও লিভার হিসেবে কঙ্কালতন্ত্র: কঙ্কালতন্ত্রের অস্থিগুলো দেহের অভ্যন্তরীণ শক্ত কাঠামো গঠন করে এবং পেশি সংযুক্তির তল তৈরি করে। অস্থি ও অস্থিসন্ধিগুলো চলনের সময় বিভিন্ন শ্রেণির লিভারের মতো কাজ করে যান্ত্রিক সুবিধা দেয়।
২. চালিকা শক্তি হিসেবে পেশিতন্ত্র: কঙ্কালপেশি টেন্ডনের মাধ্যমে অস্থির সাথে যুক্ত থাকে। কেন্দ্রীয় স্নায়ুতন্ত্র থেকে উদ্দীপনা এলে পেশিতে সংকোচন ঘটে, যা টেন্ডনের মাধ্যমে সংলগ্ন অস্থিতে টান (Tension) সৃষ্টি করে অস্থিকে নির্দিষ্ট দিকে টেনে নেয়।
৩. বিপরীতধর্মী বা অ্যান্টাগোনিস্টিক ক্রিয়া: উপাঙ্গের সঞ্চালনে পেশিগুলো যুগল হিসেবে কাজ করে। যেমন— হাতের ক্ষেত্রে বাইসেপস পেশি সংকুচিত হলে হাত বাঁকা হয় (ফ্লেক্সন) এবং ট্রাইসেপস পেশি শিথিল থাকে। আবার হাত সোজা করার সময় ট্রাইসেপস সংকুচিত হয় (এক্সটেনশন) এবং বাইসেপস শিথিল হয়।
৪. অস্থিসন্ধির ভূমিকা: সাইনোভিয়াল অস্থিসন্ধি এবং সাইনোভিয়াল ফ্লুইড ঘর্ষণ কমিয়ে সহজে উপাঙ্গের চলন নিশ্চিত করে। লিগামেন্ট অস্থিগুলোকে নিজ অবস্থানে ধরে রাখে।সুতরাং, পেশিতন্ত্রের সংকোচন-প্রসারণজনিত শক্তি এবং কঙ্কালতন্ত্রের অস্থি-অস্থিসন্ধির লিভার ক্রিয়া পরস্পরের সমন্বয়ে উপাঙ্গের সঠিক সঞ্চালন সম্পন্ন করে। একটি ব্যতীত অন্যটি কার্যকর হতে পারে না।
আরও প্রশ্ন অনুশীলন করতে অ্যাপে যাও