ফিন্যান্স ব্যাংকিং ও বিমা ২য় পত্র • Rajshahi Board • রাজশাহী বোর্ড ২০১৯

ফিন্যান্স ব্যাংকিং ও বিমা ২য় পত্র প্রশ্ন

জনাব মামুন আমেরিকার একজন ক্রেতার কাছ থেকে ১,০০০ পিস শার্টের ক্রয়াদেশ পেয়েছেন। উক্ত ক্রেতার পক্ষে ও মামুনের অনুকূলে ব্যাংক একটি দলিল ইস্যু করে যেখানে ব্যাংক শর্ত দিল যে, বিল উপস্থাপনের সময় মালের চালানি রশিদ, বহনপত্র ও বিমাপত্র সংযুক্ত করতে হবে। জনাব মামুন ডলারের সাথে টাকার ক্রয়ক্ষমতার হ্রাস-বৃদ্ধির মাধ্যমে পণ্য মূল্য পরিশোধের চেয়ে মুদ্রার চাহিদা ও যোগানের পরিমাপের মাধ্যমে পণ্যের মূল্য গ্রহণে আগ্রহী।

  1. ক)

    রেমিটেন্স কী?

    (1)
  2. খ)

    ব্যাক টু ব্যাক প্রত্যয়পত্র বলতে কী বোঝায়?

    (2)
  3. গ)

    উদ্দীপকে বর্ণিত ব্যাংক কোন ধরনের দলিল ইস্যু করে? ব্যাখ্যা করো।

    (3)
  4. ঘ)

    পণ্যের মূল্য গ্রহণে জনাব মামুনের সিদ্ধান্তই সঠিক —তুমি কি একমত? ব্যাখ্যা করো।

    (4)

উত্তর ও ব্যাখ্যা

  1. ক)

    AI-তৈরি নমুনা উত্তর

    প্রবাসী কর্তৃক ব্যাংকিং বা অন্য কোনো অনুমোদিত চ্যানেলের মাধ্যমে স্বদেশে অর্থ বা মুদ্রা প্রেরণকে রেমিট্যান্স বা প্রবাসী আয় বলে।

  2. খ)

    AI-তৈরি নমুনা উত্তর

    মূল প্রত্যয়পত্র (Master L/C)-কে জামানত হিসেবে রেখে রপ্তানিকারক কর্তৃক পণ্য উৎপাদনের কাঁচামাল ইত্যাদি আমদানির সুবিধার্থে নতুন যে আরেকটি প্রত্যয়পত্র খোলা হয়, তাকে ব্যাক টু ব্যাক প্রত্যয়পত্র বলে।

    সাধারণত তৈরি পোশাক বা প্রক্রিয়াজাতকরণ শিল্পের রপ্তানিকারকরা বিদেশি ক্রেতার কাছ থেকে মূল ঋণপত্র পাওয়ার পর সেই ঋণপত্রের বিপরীতে দেশীয় বা আন্তর্জাতিক কাঁচামাল সরবরাহকারীর অনুকূলে এই প্রত্যয়পত্র ইস্যু করে থাকেন। এর ফলে রপ্তানিকারকের নিজস্ব অতিরিক্ত মূলধন বিনিয়োগ না করেই কাঁচামাল সংগ্রহ সহজ হয়।

  3. গ)

    AI-তৈরি নমুনা উত্তর

    উদ্দীপকে বর্ণিত ব্যাংকটি ‘শর্তযুক্ত বা তথ্যপত্রসহ ঋণপত্র/প্রত্যয়পত্র’ (Documentary Letter of Credit) ইস্যু করেছে।

    যে ঋণপত্রে আমদানিকারকের পক্ষে ইস্যুকারী ব্যাংক রপ্তানিকারককে এই মর্মে নিশ্চয়তা দেয় যে, পণ্যের জাহাজীকরণ বা প্রেরণের নির্দিষ্ট দলিলপত্রাদি (যেমন: চালানি রশিদ, বিল অব লেডিং বা বহনপত্র, বিমাপত্র ইত্যাদি) ব্যাংকে যথাযথভাবে উপস্থাপনের শর্তে পণ্যের মূল্য পরিশোধ করা হবে, তাকে তথ্যপত্রসহ বা শর্তযুক্ত ঋণপত্র বলে।

    উদ্দীপকে দেখা যায়, জনাব মামুন আমেরিকার ক্রেতার অনুকূলে ১,০০০ পিস শার্ট রপ্তানির ক্রয়াদেশ পেয়েছেন। ক্রেতার পক্ষে সংশ্লিষ্ট ব্যাংক যে দলিল বা এলসি ইস্যু করে, তাতে শর্ত দেওয়া হয়েছে যে, বিল উপস্থাপনের সময় মালের চালানি রশিদ, বহনপত্র ও বিমাপত্র সংযুক্ত করতে হবে। অর্থাৎ পণ্যমূল্য পরিশোধের ক্ষেত্রে বাণিজ্যিক দলিলের শর্ত যুক্ত থাকায় এটি একটি শর্তযুক্ত প্রত্যয়পত্র বা তথ্যপত্রসহ ঋণপত্র।

  4. ঘ)

    AI-তৈরি নমুনা উত্তর

    হ্যাঁ, পণ্যের মূল্য গ্রহণে জনাব মামুনের সিদ্ধান্তটি বাস্তবসম্মত ও আধুনিক অর্থনৈতিক দৃষ্টিকোণ থেকে সঠিক—আমি এ বক্তব্যের সাথে একমত।

    বৈদেশিক মুদ্রার বিনিময় হার নির্ধারণে প্রধানত দুটি তত্ত্ব প্রচলিত: ক্রয়ক্ষমতা সমতা তত্ত্ব (Purchasing Power Parity Theory) এবং ভারসাম্য তত্ত্ব বা চাহিদা ও যোগান তত্ত্ব (Balance of Payments / Demand and Supply Theory)। ক্রয়ক্ষমতা সমতা তত্ত্বে দুটি দেশের পণ্যের মূল্যস্তর ও মুদ্রার অভ্যন্তরীণ ক্রয়ক্ষমতার হ্রাস-বৃদ্ধির ওপর ভিত্তি করে বিনিময় হার নির্ধারিত হয়, যা মূলত দীর্ঘমেয়াদি এবং বাস্তবে পরিবহন খরচ, শুল্ক ও অন্যান্য বাধার কারণে তাৎক্ষণিকভাবে কাজ করে না। অন্যদিকে, চাহিদা ও যোগান তত্ত্বের মাধ্যমে বাজারে মুদ্রার তৎকালীন প্রকৃত চাহিদা ও সরবরাহের ঘাত-প্রতিঘাতের ভিত্তিতে বাস্তবসম্মত ভাসমান বিনিময় হার নির্ধারিত হয়।

    উদ্দীপকে জনাব মামুন ডলারের সাথে টাকার ক্রয়ক্ষমতার হ্রাস-বৃদ্ধির মাধ্যমে পণ্যমূল্য নির্ধারণের চেয়ে বাজারে মুদ্রার চাহিদা ও যোগানের পরিমাপের মাধ্যমে (বাজারের বর্তমান বিনিময় হারে) মূল্য গ্রহণে আগ্রহী। আন্তর্জাতিক বাণিজ্যে মুদ্রার বাজারভিত্তিক চাহিদা ও যোগানের ভিত্তিতেই বর্তমান বিশ্বের অধিকাংশ দেশ ভাসমান বিনিময় হার পদ্ধতি অনুসরণ করে। এর মাধ্যমে বর্তমান বাজার পরিস্থিতির প্রকৃত প্রতিফলন ঘটে এবং রপ্তানিকারক মুদ্রার সঠিক বাজারমূল্য পেতে পারেন।

    সুতরাং, আধুনিক বৈদেশিক মুদ্রা বাজারের গতিশীলতা ও গ্রহণযোগ্যতার বিবেচনায় চাহিদা ও যোগানের ভিত্তিতে পণ্যের মূল্য নির্ধারণ ও গ্রহণের বিষয়ে জনাব মামুনের সিদ্ধান্ত সম্পূর্ণ সময়োপযোগী ও সঠিক।

আরও প্রশ্ন অনুশীলন করতে অ্যাপে যাও

সম্পর্কিত প্রশ্ন