সহপাঠ • নাটক: সিরাজউদ্দৌলা • Cumilla Board • কুমিল্লা বোর্ড ২০১৭

সহপাঠ প্রশ্ন

হাজার বছরের শ্রেষ্ঠ বাঙালি, অবিসংবাদিত নেতা বঙ্গবন্ধু শেখ মুজিবুর রহমান। রাজনীতিতে, শাসনকার্যে সর্বদাই তিনি ছিলেন আপসহীন। সুষ্ঠু, গণতন্ত্রের স্বার্থে অত্যাচারী, শোষক, দ্বৈচরাচারী শাসকের বিরুদ্ধে লড়াই করে গেছেন আজীবন। ১৯৫২, ১৯৬৬, ১৯৬৯, ১৯৭০, সর্বোপরি ১৯৭১ সালে তাঁর বলিষ্ঠ নেতৃত্বের মৌলিকত্ব অনস্বীকার্য। তাঁর যথার্থ নেতৃত্ব ও দিক-নির্দেশনায় স্বাধীন সার্বভৌম বাংলাদেশ নামক রাষ্ট্রের জন্ম। অথচ দেশে স্বাধীনের পর বঙ্গবন্ধুর বিশ্বাস ও উদারতার সুযোগ নিয়ে এদেশের বসবাসকারী পাকিস্তানের দোসররা গভীর ষড়যন্ত্রের শিকড় গেড়ে বসে। সেই ষড়যন্ত্রের চরম পরিণতি ঘটে ১৯৭৫ সালের ১৫ আগস্ট জাতির পিতাকে সপরিবার নির্মমভাবে হত্যার মাধ্যমে।

  1. ক)

    সিকান্দার আবু জাফর কোন সাহিত্য পত্রিকার সম্পাদক ছিলেন?

    (1)
  2. খ)

    'ওর কাছে সব কিছুই যেন বড় রকমের জুয়ো খেলা'- উক্তিটি ব্যাখ্যা করো।

    (2)
  3. গ)

    উদ্দীপকের বঙ্গবন্ধুর সাথে 'সিরাজউদ্দৌলা' নাটকের সাদৃশ্যপূর্ণ চরিত্রটি আলোচনা করো।

    (3)
  4. ঘ)

    'উদ্দীপকের বঙ্গবন্ধু এবং তোমার পঠিত নাটকের সিরাজউদ্দৌলা একই সূত্রে গাঁথা।'- মন্তব্যটির যথার্থতা প্রমাণ করো।

    (4)

উত্তর ও ব্যাখ্যা

  1. ক)

    AI-তৈরি নমুনা উত্তর

    সিকান্দার আবু জাফর সাহিত্য পত্রিকা 'সমকাল'-এর সম্পাদক ছিলেন।

  2. খ)

    AI-তৈরি নমুনা উত্তর

    উক্তিটি দিয়ে ইংরেজদের স্বার্থপর, ঝুঁকিপ্রবণ এবং মুনাফালোভী আগ্রাসী মানসিকতাকে বোঝানো হয়েছে।

    'সিরাজউদ্দৌলা' নাটকে উমিচাঁদ বা ইংরেজ ব্যবসায়ীদের মানসিকতা বিশ্লেষণ করতে গিয়ে তাদের সমস্ত পদক্ষেপকে জুয়া খেলার সাথে তুলনা করা হয়েছে। ব্যবসায়িক স্বার্থে ও ক্ষমতার লোভে তারা যেকোনো অনৈতিক ঝুঁকি নিতে প্রস্তুত থাকত। নীতি-নৈতিকতা বিসর্জন দিয়ে চরম লাভ বা লোকসানের হিসেব করাই ছিল তাদের নীতি, যা উক্তিটির মূল ভাব।

  3. গ)

    AI-তৈরি নমুনা উত্তর

    উদ্দীপকের বঙ্গবন্ধুর সাথে 'সিরাজউদ্দৌলা' নাটকের দেশপ্রেমিক নায়ক নবাব সিরাজউদ্দৌলার চরিত্রের সাদৃশ্য রয়েছে।

    উদ্দীপকে বঙ্গবন্ধু শেখ মুজিবুর রহমানকে চিত্রিত করা হয়েছে এক আপসহীন, দেশপ্রেমিক ও শোষণের বিরুদ্ধে আজীবন সংগ্রামী নেতা হিসেবে, যিনি দেশকে ভালোবেসে মানুষের ওপর গভীর বিশ্বাস রেখেছিলেন। কিন্তু শেষ পর্যন্ত স্বাধীনতাবিরোধী ও ঘাপটি মেরে থাকা বিশ্বাসঘাতকদের ষড়যন্ত্রের শিকার হয়ে তাঁকে সপরিবারে প্রাণ দিতে হয়।

    'সিরাজউদ্দৌলা' নাটকের নবাব সিরাজউদ্দৌলাও ছিলেন দেশের স্বাধীনতার প্রশ্নে আপসহীন এবং প্রজার কল্যাণে নিবেদিতপ্রাণ শাসক। ইংরেজদের শোষণ ও আগ্রাসনের হাত থেকে বাংলাকে রক্ষা করতে তিনি ছিলেন দৃঢ়প্রতিজ্ঞ। তবে তিনি স্বদেশি লোক ও অমাত্যদের অতিরিক্ত বিশ্বাস করেছিলেন, যা তাঁর জন্য কাল হয়ে দাঁড়ায়। দেশপ্রেম, শোষকের বিরুদ্ধে অবস্থান এবং শেষ পর্যন্ত বিশ্বাসঘাতকদের চক্রান্তে নির্মমভাবে নিহত হওয়ার ক্ষেত্রে উদ্দীপকের বঙ্গবন্ধুর সাথে সিরাজউদ্দৌলার চরিত্রটির গভীর সাদৃশ্য দেখা যায়।

  4. ঘ)

    AI-তৈরি নমুনা উত্তর

    'উদ্দীপকের বঙ্গবন্ধু এবং তোমার পঠিত নাটকের সিরাজউদ্দৌলা একই সূত্রে গাঁথা'— মন্তব্যটি তাঁদের দেশপ্রেম, আপসহীনতা এবং নির্মম ট্র্যাজেডির প্রেক্ষাপটে যথার্থ ও তাৎপর্যপূর্ণ।

    উদ্দীপকে বঙ্গবন্ধু শেখ মুজিবুর রহমানের আজীবন সংগ্রাম, শোষক পাকিস্তানি শাসকগোষ্ঠীর বিরুদ্ধে লড়াই, দেশকে স্বাধীন করা এবং পরিশেষে ঘরের শত্রুদের ঘৃণ্য ষড়যন্ত্রে সপরিবারে আত্মাহুতির চিত্র তুলে ধরা হয়েছে।

    একইভাবে 'সিরাজউদ্দৌলা' নাটকে দেখা যায়, নবাব সিরাজউদ্দৌলা বাংলার স্বাধীনতা ও সার্বভৌমত্ব রক্ষার জন্য বিদেশি বেনিয়া শক্তি ইংরেজদের বিরুদ্ধে লড়াই করেছেন। দেশমাতৃকাকে রক্ষা করতে গিয়ে তিনি বারবার বিশ্বাসঘাতক মীর জাফর, জগৎশেঠ ও ঘসেটি বেগমদের ক্ষমা করে দেশের স্বার্থে ঐক্যবদ্ধ হতে আহ্বান জানিয়েছেন। কিন্তু এই উদারতা ও বিশ্বাসের সুযোগ নিয়ে ঘাতকচক্র পলাশীর যুদ্ধে তাঁকে পরাজিত করে এবং মোহাম্মদী বেগকে দিয়ে তাঁকে নির্মমভাবে হত্যা করায়।

    বঙ্গবন্ধু ও নবাব সিরাজউদ্দৌলা—উভয়েই ছিলেন মাটির মানুষ, চরম দেশপ্রেমিক এবং শোষণের বিরুদ্ধে সোচ্চার। দুজনেই বিশ্বাস করেছিলেন নিজ দেশের মানুষকে, আর নির্মম পরিহাসে উভয়েরই পতন ঘটে ঘরের শত্রুদের চক্রান্তে ও বিশ্বাসঘাতকতায়। ফলে তাঁদের জীবনসংগ্রাম ও ট্র্যাজিক পরিণতির ঐতিহাসিক মেলবন্ধন তাঁদেরকে একই সূত্রে গেঁথেছে। তাই মন্তব্যটি সর্বাংশে সত্য।

আরও প্রশ্ন অনুশীলন করতে অ্যাপে যাও

সম্পর্কিত প্রশ্ন