বিজ্ঞান • Jashore Board • যশোর বোর্ড ২০১৯

বিজ্ঞান প্রশ্ন

হবিগঞ্জ জেলার রতনপুর নামক স্থানে পরিত্যক্ত নলকূপ থেকে আগুন জ্বলতে দেখা যায়। খনিজ বিজ্ঞানীদের অবহিত করলে তারা পরীক্ষা-নিরীক্ষার পর উক্ত স্থানে দুই ধরনের জীবাশ্ম জ্বালানির অস্তিত্ব খুঁজে পান। এদের মধ্যে একটি তরল এবং অন্যটি গ্যাসীয়। আবার বড় নদীয়া নামক স্থানে অন্য আর এক ধরনের জীবাশ্ম জ্বালানি পাওয়া যায় যা ফার্ণ, শৈবাল, লতাপাতা থেকে তৈরি হয়েছে।

  1. ক)

    সাবসয়েল কাকে বলে?

    (1)
  2. খ)

    কাদা মাটি মৃৎশিল্পের উপযোগী- ব্যাখ্যা করো।

    (2)
  3. গ)

    তৃতীয় জ্বালানিটি কীভাবে তৈরি হয়? ব্যাখ্যা করো।

    (3)
  4. ঘ)

    রতনপুরে প্রাপ্ত দুই ধরনের জ্বালানিই উত্তোলন করা সম্ভব কি? যুক্তিসহ লেখো।

    (4)

উত্তর ও ব্যাখ্যা

  1. ক)

    মাটির দ্বিতীয় স্তরটিকে সাবসয়েল (Sub Soil) বা হরাইজোন B বলে। এ স্তরে সামান্য হিউমাস থাকে এবং এটি উপরের স্তর থেকে আসা খনিজ পদার্থে ভরা থাকে।

  2. খ)

    কাদা মাটির কণাগুলো খুব সূক্ষ্ম ও আঠালো হয় এবং এতে প্রচুর পানি ধারণ করার ক্ষমতা আছে। ভেজা অবস্থায় একে সহজে বিভিন্ন আকৃতি দেওয়া যায়, তাই এই মাটি দিয়ে ঘর সাজানোর তৈজসপত্র, এমনকি গহনাও তৈরি করা হয়। এছাড়া এতে খনিজ পদার্থের পরিমাণও বেশি। এ কারণে কাদা মাটি মৃৎশিল্পের উপযোগী।

  3. গ)

    তৃতীয় জ্বালানিটি হলো কয়লা। এটি জীবাশ্ম জ্বালানি, তবে গ্যাস ও তেলের থেকে এর গঠন প্রক্রিয়া আলাদা। কয়লা তৈরির ধাপ—
    ১. প্রায় ৩৫০ মিলিয়ন বছর আগে জলাভূমিতে জন্মানো ফার্ন, শৈবাল, গুল্ম ও অন্যান্য গাছপালা মরে ক্ষয়প্রাপ্ত হয়ে কার্বনের স্তর জলাভূমির তলদেশে জমা হয়।
    ২. এই স্তর ধীরে ধীরে পলি বা কাদার নিচে চাপা পড়ে এবং বাতাসের সংস্পর্শ থেকে বিচ্ছিন্ন হয়ে স্পঞ্জের মতো ছিদ্রযুক্ত জৈব পদার্থ পিট (Peat) তৈরি করে।
    ৩. পরে উচ্চ চাপ ও তাপে পিট পরিবর্তিত হয়ে কার্বনসমৃদ্ধ কয়লায় পরিণত হয়।

  4. ঘ)

    রতনপুরে প্রাপ্ত দুটি জ্বালানি হলো তরল জ্বালানি পেট্রোলিয়াম (খনিজ তেল) এবং গ্যাসীয় জ্বালানি প্রাকৃতিক গ্যাস। আমার মতে, দুটিই উত্তোলন করা সম্ভব।

    ১. প্রাকৃতিক গ্যাস ভূগর্ভের গ্যাসকূপে জমা থাকে। কূপ খনন করে গ্যাস পৃষ্ঠে আনা যায়, আর উদ্দীপকের নলকূপ থেকে আগুন জ্বলা প্রমাণ করে গ্যাস ভূপৃষ্ঠের কাছাকাছি পৌঁছে গেছে।
    ২. সাধারণত গ্যাসকূপে গ্যাস ও তেল একসাথে থাকে। তাই একই কূপ থেকে উভয়কে উত্তোলন করে প্রথমে তেলকে গ্যাস থেকে আলাদা করা হয়।
    ৩. এরপর পেট্রোলিয়ামকে পরিশোধন করে এবং গ্যাসকে প্রক্রিয়াজাত করে ব্যবহারের উপযোগী করা যায়।

    সুতরাং, উপযুক্ত প্রযুক্তি ও পরিকল্পনা থাকলে রতনপুরের তেল ও গ্যাস দুটিই উত্তোলন করা সম্ভব।

আরও প্রশ্ন অনুশীলন করতে অ্যাপে যাও

সম্পর্কিত প্রশ্ন