অর্থনীতি ২য় পত্র • Cumilla Board • কুমিল্লা বোর্ড ২০১৭
অর্থনীতি ২য় পত্র প্রশ্ন
নব্বই দশকের শেষ দিকে বিশ্বায়ন ধারণার সাথে আমাদের পরিচিতি ঘটে। বিশ্বের প্রতিটি অঞ্চল স্বনির্ভর হওয়ার লক্ষ্যে BIMSTEC, ASEAN, SAPTA, EU গড়ে তুলেছে। যেখানে পুঁজি, শ্রম ও পণ্যের অবাধ প্রবাহ লক্ষ করা যায়। অন্যদিকে বিশ্বায়নের নেতিবাচক প্রভাবে অর্থনৈতিক ও সাংস্কৃতিক আগ্রাসনসহ সমাজের নৈতিক অবক্ষয় সৃষ্টি হয়েছে।
- ক)(1)
আমদানি কী?
- খ)(2)
আন্তর্জাতিক বাণিজ্য সংঘটিত হয় কেন?
- গ)(3)
বিশ্বায়নের ফলে আন্তর্জাতিক বাণিজ্যের গতিশীলতা বৃদ্ধি পেয়েছে- উদ্দীপকের আলোকে ব্যাখ্যা করো।
- ঘ)(4)
উদ্দীপকের আলোকে বাংলাদেশের অর্থনীতিতে বিশ্বায়নের প্রভাব আলোচনা করো।
উত্তর ও ব্যাখ্যা
- ক)
AI-তৈরি নমুনা উত্তর
দেশের অভ্যন্তরে প্রয়োজনীয় দ্রব্যের ঘাটতি মেটানোর জন্য নিজস্ব ভৌগোলিক সীমানার বাইরে অন্য কোনো দেশ থেকে পণ্য বা সেবা ক্রয় করে নিজ দেশে নিয়ে আসাকে আমদানি বলে।
- খ)
AI-তৈরি নমুনা উত্তর
বিভিন্ন দেশের মধ্যে প্রাকৃতিক সম্পদের অসম বণ্টন, ভৌগোলিক অবস্থান ও জলবায়ুগত ভিন্নতা, উৎপাদন খরচের তারতম্য এবং প্রযুক্তিগত দক্ষতার পার্থক্যের কারণে আন্তর্জাতিক বাণিজ্য সংঘটিত হয়। কোনো দেশের পক্ষে সকল প্রকার পণ্য স্বল্প ব্যয়ে ও দক্ষভাবে উৎপাদন করা সম্ভব নয়। ফলে প্রতিটি দেশ তুলনামূলক কম খরচে উৎপাদিত পণ্য রপ্তানি করে এবং বেশি খরচের পণ্য আমদানি করে পারস্পরিক অর্থনৈতিক সুবিধা অর্জন করার জন্য আন্তর্জাতিক বাণিজ্যে লিপ্ত হয়।
- গ)
AI-তৈরি নমুনা উত্তর
বিশ্বায়ন হলো এমন এক প্রক্রিয়া যার মাধ্যমে সমগ্র বিশ্ব একটি একক অর্থনৈতিক ও সামাজিক ব্যবস্থায় সমন্বিত হয়। এর প্রধান অনুষঙ্গ হলো বিশ্বজুড়ে পণ্য, সেবা, শ্রম ও পুঁজির অবাধ প্রবাহ নিশ্চিত করা।
উদ্দীপকে উল্লেখিত BIMSTEC, ASEAN, SAPTA এবং EU-এর মতো আঞ্চলিক জোটগুলোর মাধ্যমে সদস্য দেশগুলো বাণিজ্য বাধা ও শুল্ক হ্রাস করে পারস্পরিক বাণিজ্য বাড়িয়েছে। বিশ্বায়নের ফলে বাণিজ্য উদারীকরণ নীতি গৃহীত হয়েছে, যার মাধ্যমে দেশগুলোর মধ্যে শুল্ক ও অশুল্ক বাধা দূরীভূত হয়েছে। উদ্দীপকে যেমন বলা হয়েছে, পুঁজি, শ্রম ও পণ্যের অবাধ প্রবাহ সৃষ্টি হয়েছে, ফলে একটি দেশের পণ্য সহজেই অন্য দেশের বাজারে প্রবেশ করতে পারছে। পরিবহন ও তথ্যপ্রযুক্তির অভাবনীয় অগ্রগতির ফলে আন্তর্জাতিক বাজারে তথ্য আদান-প্রদান ও পণ্য সরবরাহ দ্রুততর হয়েছে, যা সামগ্রিকভাবে আন্তর্জাতিক বাণিজ্যের গতিশীলতাকে বহুগুণ বৃদ্ধি করেছে।
- ঘ)
AI-তৈরি নমুনা উত্তর
উদ্দীপকে বিশ্বায়নের যেমন ইতিবাচক দিক (পুঁজি, শ্রম ও পণ্যের অবাধ প্রবাহ) উল্লেখ করা হয়েছে, তেমনি নেতিবাচক দিক হিসেবে অর্থনৈতিক ও সাংস্কৃতিক আগ্রাসনের কথাও এসেছে। বাংলাদেশের অর্থনীতিতে বিশ্বায়নের উভয় ধরনের প্রভাব গভীরভাবে বিদ্যমান।
ইতিবাচক প্রভাব:
১. রপ্তানি বৃদ্ধি: বিশ্বায়নের ফলে উন্নত দেশগুলোতে বাংলাদেশের তৈরি পোশাক এবং অন্যান্য পণ্যের বাজার উন্মুক্ত হয়েছে, যা রপ্তানি আয়ের মূল চালিকাশক্তি।
২. জনশক্তি রপ্তানি ও রেমিট্যান্স: শ্রমবাজারের বিশ্বায়নের কারণে মধ্যপ্রাচ্যসহ পৃথিবীর বিভিন্ন দেশে বাংলাদেশি শ্রমিকরা কাজ করছেন এবং বিপুল পরিমাণ রেমিট্যান্স পাঠিয়ে অর্থনীতিকে সমৃদ্ধ করছেন।
৩. প্রত্যক্ষ বিদেশি বিনিয়োগ (FDI) ও প্রযুক্তি হস্তান্তর: উন্নত প্রযুক্তি ও বিদেশি পুঁজির আগমনে বাংলাদেশের শিল্পায়ন ও উৎপাদনশীলতা বৃদ্ধি পাচ্ছে।নেতিবাচক প্রভাব:
১. অসম প্রতিযোগিতা: দেশীয় ক্ষুদ্র ও কুটির শিল্প উন্নত দেশের বহুজাতিক কোম্পানির সস্তা ও মানসম্মত পণ্যের সাথে প্রতিযোগিতায় টিকে থাকতে পারছে না।
২. অর্থনৈতিক নির্ভরশীলতা ও বিশ্ববাজারের ধাক্কা: আন্তর্জাতিক বাজারে কাঁচামাল বা পণ্যের দামের ওঠানামা বাংলাদেশের অর্থনীতিকে সরাসরি ক্ষতিগ্রস্ত করে। উদ্দীপকের ভাষায়, বিশ্বায়নের ফলে অর্থনৈতিক আধিপত্য বা আগ্রাসন দেশীয় অর্থনীতির স্বয়ংসম্পূর্ণতাকে ব্যাহত করছে।সুতরাং বলা যায়, বিশ্বায়ন বাংলাদেশের অর্থনৈতিক প্রবৃদ্ধির বিশাল সুযোগ সৃষ্টি করলেও যথাযথ সুরক্ষামূলক নীতি না থাকলে তা দেশীয় অর্থনীতির জন্য বহুমুখী চ্যালেঞ্জ ডেকে আনে।
আরও প্রশ্ন অনুশীলন করতে অ্যাপে যাও