বাংলা ২য় পত্র • Jashore Board • যশোর বোর্ড ২০১৯
বাংলা ২য় পত্র প্রশ্ন
3.1.
"উপসর্গের অর্থবাচকতা নেই, কিন্তু অর্থদ্যোতকতা আছে" — আলোচনা করো।
3.2.
অথবা, ব্যাসবাক্যসহ সমাস নির্ণয় করো (যেকোনো পাঁচটি):যুগান্তর, নদীমাতৃক, সৈন্যসামন্ত, আমরা, সপ্তর্ষি, সহোদর, অনাশ্রিত, চরণকমল।
উত্তর ও ব্যাখ্যা
AI-তৈরি নমুনা উত্তর
৩.১.
"উপসর্গের অর্থবাচকতা নেই, কিন্তু অর্থদ্যোতকতা আছে" — আলোচনা:
যেসব অর্থহীন অব্যয়সূচক শব্দাংশ ধাতু বা শব্দের পূর্বে বসে নতুন শব্দ গঠন করে এবং অর্থের পরিবর্তন, পরিবর্ধন বা সংকোচন ঘটায়, সেগুলোকে উপসর্গ বলে। উপসর্গের নিজস্ব কোনো অর্থ বা অর্থবাচকতা নেই, কিন্তু অন্য কোনো শব্দের পূর্বে যুক্ত হয়ে নতুন অর্থ সৃষ্টি করার বা দ্যোতনা তৈরি করার ক্ষমতা রয়েছে। তাই ব্যাকরণে বলা হয়— "উপসর্গের অর্থবাচকতা নেই, কিন্তু অর্থদ্যোতকতা আছে।"
ব্যাখ্যা ও উদাহরণ:
যেমন— 'প্র', 'পরা', 'পরি', 'অপ', 'বি', 'উপ' ইত্যাদি উপসর্গগুলোর নিজস্ব কোনো নির্দিষ্ট অর্থ নেই। এগুলো স্বাধীনভাবে বাক্যে ব্যবহৃত হয়ে কোনো ভাব প্রকাশ করতে পারে না। কিন্তু যখন এগুলো কোনো মূল শব্দের পূর্বে যুক্ত হয়, তখন নতুন অর্থ প্রকাশ করে।
উদাহরণস্বরূপ 'হার' একটি শব্দ, যার সাধারণ অর্থ গলার অলংকার বা পরাজয়। এই শব্দটির পূর্বে বিভিন্ন উপসর্গ যুক্ত হয়ে বিভিন্ন নতুন অর্থবোধক শব্দ তৈরি করে:
১. প্র + হার = প্রহার (আঘাত করা)
২. পরি + হার = পরিহার (বর্জন করা)
৩. উপ + হার = উপহার (উপঢৌকন বা ভেট)
৪. আ + হার = আহার (ভোজন বা খাওয়া)
৫. সং + হার = সংহার (বিনাশ বা হত্যা করা)
৬. বি + হার = বিহার (ভ্রমণ করা)
উপর্যুক্ত আলোচনা ও উদাহরণ থেকে স্পষ্ট প্রতীয়মান হয় যে, উপসর্গের নিজস্ব কোনো স্বতন্ত্র অর্থ বা অর্থবাচকতা না থাকলেও অন্য শব্দের পূর্বে বসে অর্থের নানারকম পরিবর্তন ও নতুন দ্যোতনা সৃষ্টির ক্ষমতা (অর্থদ্যোতকতা) অত্যন্ত তাৎপর্যপূর্ণ।
অথবা, ৩.২.
ব্যাসবাক্যসহ সমাস নির্ণয়:
১. যুগান্তর = অন্য যুগ (নিত্য সমাস)
২. নদীমাতৃক = নদী মাতা যার (বহুব্রীহি সমাস)
৩. সৈন্যসামন্ত = সৈন্য ও সামন্ত (দ্বন্দ্ব সমাস)
৪. আমরা = তুমি, সে ও আমি (নিত্য সমাস / একশেষ দ্বন্দ্ব সমাস)
৫. সপ্তর্ষি = সপ্ত (সাত) ঋষির সমাহার (দ্বিগু সমাস)
৬. সহোদর = সহ (সমান) উদর যার (বহুব্রীহি সমাস)
৭. অনাশ্রিত = নয় আশ্রিত (নঞ তৎপুরুষ সমাস)
৮. চরণকমল = চরণ কমলের ন্যায় (উপমিত কর্মধারয় সমাস)
আরও প্রশ্ন অনুশীলন করতে অ্যাপে যাও