সহপাঠ • উপন্যাস: লালসালু • Dinajpur Board • দিনাজপুর বোর্ড ২০১৯
সহপাঠ প্রশ্ন
মুরাদপুর একটি অবহেলিত গ্রাম। গ্রামটি যোগাযোগব্যবস্থায় যেমন পিছিয়ে তার চেয়ে বেশি শিক্ষায়। নারী নারী শিক্ষায় পিছিয়ে থাকায় গ্রামে বাল্যবিবাহ নিত্য নৈমিত্তিক ব্যাপার। গ্রামের ছেলে মনির হোসেন এমএসসি পাস করে সরকারি চাকরির সুযোগ পেয়ে গ্রহণ করেননি। তিনি গ্রামে প্রতিষ্ঠা করেন একটি বালিকা বিদ্যালয়। এছাড়া সেলাই ও কম্পিউটার প্রশিক্ষণ কেন্দ্র স্থাপন করে মেয়েদের কর্মমুখী শিক্ষায় উদ্বুদ্ধ করেন।
- ক)(1)
খালেক ব্যাপারীর দ্বিতীয় স্ত্রীর নাম কী?
- খ)(2)
"শস্যের চেয়ে টুপি বেশি, ধর্মের আগাছা বেশি,"- কথাটি দ্বারা কী বোঝানো হয়েছে?
- গ)(3)
উদ্দীপকের মুরাদপুর গ্রামের সমাজ বাস্তবতার সাথে 'লালসালু' উপন্যাসের মহব্বতনগর গ্রামের সমাজ বাস্তবতার তুলনা করো।
- ঘ)(4)
"উদ্দীপকের মনির কাঙ্ক্ষিত লক্ষ্যে পৌঁছাতে পারলেও 'লালসালু' উপন্যাসের আক্কাস সফল হয়নি।"- আলোচনা করো।
উত্তর ও ব্যাখ্যা
- ক)
AI-তৈরি নমুনা উত্তর
খালেক ব্যাপারীর দ্বিতীয় স্ত্রীর নাম তনু বিবি।
- খ)
AI-তৈরি নমুনা উত্তর
"শস্যের চেয়ে টুপি বেশি, ধর্মের আগাছা বেশি"—কথাটি দ্বারা মানুষের বেঁচে থাকার মৌলিক উপকরণের চেয়ে ধর্মের নামে কুসংস্কার ও ভণ্ডামির আধিক্যকে বোঝানো হয়েছে।
উপন্যাসের শুরুতে মজিদের আদি বাসস্থান যে অঞ্চলে, সেখানে ফসলের উৎপাদন ছিল অপ্রতুল, কিন্তু মানুষের মুখে ধর্মের বুলি এবং মাথায় টুপির সংখ্যা ছিল অতিরিক্ত। ধর্মচর্চার প্রকৃত শিক্ষা বা নৈতিকতার চেয়ে সেখানে ধর্মান্ধতা, কুসংস্কার ও ধর্মের বিকৃত রূপ বা আগাছার মতো অর্থহীন রীতিনীতির প্রাধান্য ছিল সবচেয়ে বেশি।
- গ)
AI-তৈরি নমুনা উত্তর
উদ্দীপকের মুরাদপুর গ্রাম এবং 'লালসালু' উপন্যাসের মহব্বতনগর গ্রামের সমাজবাস্তবতা মূলত অজ্ঞতা, কুসংস্কার ও শিক্ষাহীনতার দিক থেকে একই সূত্রে গাঁথা।
'লালসালু' উপন্যাসের মহব্বতনগর গ্রামটি ছিল আধুনিক শিক্ষাবঞ্চিত, কুসংস্কারাচ্ছন্ন ও ধর্মের নামে অন্ধবিশ্বাসে নিমজ্জিত এক জনপদ। গ্রামের মানুষের এই সরলতা ও অজ্ঞতাকে পুঁজি করে প্রতারক মজিদ একটি অজ্ঞাত মাজারকে কেন্দ্র করে তার ধর্মব্যবসা ও শাসনের জাল বিস্তার করেছিল। সেখানে নারী শিক্ষার কোনো সুযোগ ছিল না এবং সমাজে বাল্যবিবাহ ও বহুবিবাহ ছিল স্বাভাবিক ঘটনা।
উদ্দীপকের মুরাদপুর গ্রামটিও ঠিক একইভাবে শিক্ষাদীক্ষায় পিছিয়ে পড়া এবং যোগাযোগব্যবস্থায় অবহেলিত। সেখানেও নারী শিক্ষার অভাবে বাল্যবিবাহ নিত্যনৈমিত্তিক ব্যাপার। অজ্ঞতা ও অনগ্রসরতার যে অন্ধকার পরিবেশ মুরাদপুর গ্রামে বিরাজমান, ঠিক একই অন্ধকার ও পশ্চাৎপদ সমাজবাস্তবতা 'লালসালু' উপন্যাসের মহব্বতনগর গ্রামেও বিদ্যমান।
- ঘ)
AI-তৈরি নমুনা উত্তর
"উদ্দীপকের মনির কাঙ্ক্ষিত লক্ষ্যে পৌঁছাতে পারলেও 'লালসালু' উপন্যাসের আক্কাস সফল হয়নি"—উক্তিটি যথার্থ।
'লালসালু' উপন্যাসে আক্কাস ছিল মহব্বতনগর গ্রামের একজন সচেতন ও আধুনিক চিন্তার তরুণ। সে শহরের আলো দেখে গ্রামে একটি স্কুল প্রতিষ্ঠার উদ্যোগ নিয়েছিল, যাতে গ্রামের মানুষ অজ্ঞতার অন্ধকার থেকে মুক্তি পায়। কিন্তু গ্রামের ধর্মব্যবসায়ী মজিদ বুঝতে পেরেছিল যে গ্রামে শিক্ষার বিস্তার ঘটলে তার ভণ্ডামি ও অন্ধ কর্তৃত্বের অবসান ঘটবে। তাই মজিদ ধর্মীয় অনুভূতির অপব্যবহার করে দাড়ি না রাখার অজুহাতে আক্কাসকে চরিত্রহীন সাব্যস্ত করে এবং তার স্কুল প্রতিষ্ঠার স্বপ্নকে ধূলিসাৎ করে তাকে গ্রাম ছাড়তে বাধ্য করে।
অন্যদিকে, উদ্দীপকের মনির হোসেন উচ্চশিক্ষিত হয়েও নিজের স্বার্থ ত্যাগ করে নিজ অবহেলিত গ্রামে বালিকা বিদ্যালয় এবং সেলাই ও কম্পিউটার প্রশিক্ষণ কেন্দ্র স্থাপন করেন। তিনি প্রতিকূলতাকে জয় করে সফলভাবে নারী ও কর্মমুখী শিক্ষার বিস্তার ঘটিয়ে গ্রামের সমাজকে এগিয়ে নিতে সক্ষম হন।
আক্কাসের সমাজের মতো উদ্দীপকের সমাজেও অনগ্রসরতা ছিল, কিন্তু মনিরের দৃঢ় মনোবল ও পরিবর্তিত বাস্তবতায় তিনি কাঙ্ক্ষিত লক্ষ্যে পৌঁছাতে পেরেছেন। অথচ আক্কাস ধর্মান্ধ সমাজ ও মজিদের চক্রান্তের কাছে পরাজিত হয়ে ব্যর্থ হয়েছিল। তাই বলা যায়, প্রদত্ত বক্তব্যটি সম্পূর্ণ সত্য ও প্রাসঙ্গিক।
আরও প্রশ্ন অনুশীলন করতে অ্যাপে যাও