হিন্দু ধর্ম • Cumilla Board • কুমিল্লা বোর্ড ২০২৪
হিন্দু ধর্ম প্রশ্ন
ক্ষমতাবান মহান একজনের বিশেষ ছয়টি গুণের জন্য তাঁকে বিশেষ নামে ডাকা হয়। তিনি ক্ষমতাবান হলেও ভক্তের ডাকে সাড়া দেন। প্রয়োজনে ভক্তের বোঝা নিজেই বহন করেন। জীবের ন্যায় দেহধারী হয়ে দুঃখ কষ্ট ভোগ করেন। অন্যদিকে, মেধা ও রোদেলা সকালে ঘুম থেকে উঠে স্নান সেরে পূজা-অর্চনা করে। মেধা মূর্তির সামনে বসে পূজা উপকরণ দ্বারা পূজা সম্পন্ন করে। রোদেলা একাকী নির্জন স্থানে চোখ বুজে বসে সৃষ্টিকর্তার আরাধনা করে।
- ক)(1)
পরমাত্মা কাকে বলে?
- খ)(2)
ঈশ্বররূপে বিভিন্ন দেব-দেবীর পূজা করা হয় কেন?
- গ)(3)
ক্ষমতাবান মহান একজনকে বিশেষ গুণের জন্য তাঁকে যে নামে ডাকা হয়, তাঁর স্বরূপ পাঠ্যপুস্তকের আলোকে ব্যাখ্যা করো।
- ঘ)(4)
উদ্দীপকের আলোকে মেধা ও রোদেলার আরাধনার ধরন বিশ্লেষণ করো।
উত্তর ও ব্যাখ্যা
- ক)
যোগীদের কাছে সর্বশক্তিমান ঈশ্বর যে রূপে পরিচিত এবং যিনি জীবের মধ্যে আত্মারূপে অবস্থান করেন, তিনিই পরমাত্মা।
- খ)
ঈশ্বর পরিপূর্ণ ভগবান না হলেও দেব-দেবীগণ তাঁর বিভিন্ন গুণ ও শক্তি ধারণ করে আছেন। যেমন, ব্রহ্মা সৃষ্টির দেবতা, বিষ্ণু পালনকর্তা, সরস্বতী বিদ্যার দেবী। ঈশ্বরের এক বা একাধিক গুণ বা শক্তি প্রকাশ করেন বলেই তাঁদেরকে ঈশ্বরের সাকার রূপ হিসেবে পূজা করা হয়। পূজায় সন্তুষ্ট হয়ে দেব-দেবীগণ পূজারির অভীষ্ট পূরণ করেন।
- গ)
উদ্দীপকে বর্ণিত ক্ষমতাবান মহান সত্তা হলেন ভগবান। ছয়টি বিশেষ গুণের জন্যই তাঁকে এই বিশেষ নামে ডাকা হয়।
হিন্দুধর্মে স্রষ্টাকে ব্রহ্ম, পরমেশ্বর, পরমাত্মা, ঈশ্বর ও ভগবান প্রভৃতি নামে অভিহিত করা হয়। জ্ঞানীর কাছে তিনি ব্রহ্ম, যোগীর কাছে পরমাত্মা এবং ভক্তের কাছে ভগবান। পাঠ্যবই অনুযায়ী ঈশ্বর বা ভগবান প্রধানত ছয়টি গুণে গুণান্বিত। এগুলো হলো ঐশ্বর্য, বীর্য, যশ, শ্রী, জ্ঞান ও বৈরাগ্য। ঈশ্বর এই মহাবিশ্বের সৃষ্টিকর্তা, পালনকর্তা ও সংহারকর্তা। তিনি নিরাকার, আবার প্রয়োজনে সাকার রূপ ধারণ করেন। ভগবান বিষ্ণু বিভিন্ন সময়ে অবতাররূপে পৃথিবীতে আসেন। তখন তিনি মানুষের মতোই মাতৃগর্ভে জন্ম নেন এবং সুখ-দুঃখ ভোগ করেন।
উদ্দীপকে বলা হয়েছে, এই মহান সত্তা ক্ষমতাবান হলেও ভক্তের ডাকে সাড়া দেন। প্রয়োজনে ভক্তের বোঝা নিজেই বহন করেন এবং জীবের ন্যায় দেহধারী হয়ে দুঃখ-কষ্ট ভোগ করেন। এগুলো ভগবানের স্বরূপের সাথে মেলে। ভক্ত যেভাবে তাঁকে ডাকে, তিনি সেভাবেই কৃপা করেন, গীতায় শ্রীকৃষ্ণ এ কথা বলেছেন (গীতা ৪/১১)। আবার ছয় গুণের কারণে যিনি ক্ষমতাবান, তিনিই অবতাররূপে দেহধারী হয়ে মানুষের মাঝে নেমে আসেন।
অতএব উদ্দীপকের মহান সত্তাই ছয় গুণসম্পন্ন, ভক্তবৎসল ও অবতাররূপে আবির্ভূত ভগবান।
- ঘ)
উদ্দীপকের মেধা ও রোদেলা ঈশ্বরের দুই ভিন্ন ধরনের আরাধনা করে। মেধা করে সাকার উপাসনা এবং রোদেলা করে নিরাকার উপাসনা। দুজনের পথ আলাদা হলেও লক্ষ্য একই, ঈশ্বরের সান্নিধ্য লাভ।
হিন্দুধর্মে বলা হয়েছে, বিশেষ পদ্ধতিতে ঈশ্বরের গুণগান করার রীতিকে উপাসনা বলে। উপাসনা সাধারণত দুই ধরনের। সাকার বা প্রতীক উপাসনা এবং নিরাকার বা নির্গুণ উপাসনা। ঈশ্বর একই থাকলেও সাধকের রুচি ও উপলব্ধি অনুযায়ী উপাসনার পদ্ধতি আলাদা হয়।
১. মেধার আরাধনা : মেধা সকালে স্নান সেরে মূর্তির সামনে বসে পূজা উপকরণ দিয়ে পূজা করে। এটি সাকার উপাসনা। এতে ব্রহ্মা, বিষ্ণু, শিব, সরস্বতী, লক্ষ্মী প্রভৃতি দেব-দেবীর প্রতিমাকে উদ্দেশ্য করে পূজা করা হয়। দেব-দেবী ঈশ্বরের গুণ ও শক্তির প্রকাশ। তাই প্রতিমার মধ্য দিয়ে ঈশ্বরের সেই গুণকেই পূজা করা হয়। একে সগুণ উপাসনা বা ভক্তিযোগ বলে। পূজায় সন্তুষ্ট হয়ে দেব-দেবী পূজারির অভীষ্ট পূরণ করেন।
২. রোদেলার আরাধনা : রোদেলা একাকী নির্জন স্থানে চোখ বুজে বসে সৃষ্টিকর্তার আরাধনা করে। এটি নিরাকার উপাসনা। এতে ঈশ্বরের কোনো প্রতিকৃতি থাকে না। অদৃশ্য ঈশ্বরকে উপলব্ধি করে ধ্যান সাধনার মাধ্যমে উপাসনা করা হয়। জ্ঞানযোগ এই উপাসনার একটি অংশ। নিরাকারবাদী যোগীরা ওঙ্কারধ্যানের মাধ্যমেও উপাসনা করেন।
৩. দুই পদ্ধতির তুলনা : সাকার উপাসনায় বাহ্যিক উপকরণ ও প্রতিমা থাকে, নিরাকার উপাসনায় থাকে অন্তরের একাগ্রতা। কিন্তু উভয় ক্ষেত্রেই উদ্দেশ্য হৃদয় পরিশুদ্ধ করা, মনের দৃঢ়তা বাড়ানো এবং ঈশ্বরের সান্নিধ্য ও শেষে মোক্ষ লাভ করা।
৪. হিন্দুধর্মের উদারতা : হিন্দুধর্মে সাকার ও নিরাকার উভয় প্রকার উপাসনার স্বাধীনতা আছে। গীতায় শ্রীকৃষ্ণ বলেছেন, যারা যেভাবে তাঁকে ভজনা করে, তিনি সেভাবেই কৃপা করেন।
সুতরাং মেধা সাকার এবং রোদেলা নিরাকার উপাসনার অনুসারী। দুজনের আরাধনাই একই ঈশ্বরের কাছে পৌঁছানোর বৈধ পথ।
আরও প্রশ্ন অনুশীলন করতে অ্যাপে যাও