বাংলাদেশের ইতিহাস ও বিশ্বসভ্যতা • Chattogram Board • চট্টগ্রাম বোর্ড ২০২৪
বাংলাদেশের ইতিহাস ও বিশ্বসভ্যতা প্রশ্ন
- ক)(1)
প্যাপিরাস কী?
- খ)(2)
ধর্মীয় ক্ষেত্রে রোমানদের অবদান বর্ণনা করো।
- গ)(3)
চিত্র-১ এ প্রদর্শিত শিল্পকর্মটি কোন সভ্যতাকে নির্দেশ করে? স্থাপত্য ও ভাস্কর্য শিল্পে উক্ত সভ্যতার অবদান মূল্যায়ন করো।
- ঘ)(4)
"চিত্র-২ সভ্যতার বিকাশে শিক্ষাক্ষেত্রে এক যুগান্তকারী ভূমিকা পালন করে"- উক্তিটির যথার্থতা নিরূপণ করো।
উত্তর ও ব্যাখ্যা
- ক)
প্যাপিরাস হলো নীল নদের তীরে জন্মানো একধরনের নলখাগড়াজাতীয় গাছ, যার কাণ্ড থেকে প্রাচীন মিশরীয়রা লেখার উপকরণ (কাগজের মতো) তৈরি করত।
- খ)
ধর্মীয় ক্ষেত্রে রোমানদের গুরুত্বপূর্ণ অবদান হলো খ্রিষ্টধর্মের বিস্তারে ভূমিকা। শুরুতে রোমানরা বহু দেবদেবীর পূজা করত এবং গ্রিক দেবদেবীকে রোমান নামে গ্রহণ করে। পরে সম্রাট কনস্টানটাইন ৩১৩ খ্রিষ্টাব্দে খ্রিষ্টধর্মকে স্বীকৃতি দেন এবং পরবর্তীকালে এটি রোম সাম্রাজ্যের রাষ্ট্রধর্ম হয়। এর ফলে খ্রিষ্টধর্ম ইউরোপজুড়ে বিস্তার লাভ করে।
- গ)
চিত্র-১-এ দুটি পিরামিড দেখা যাচ্ছে। এই শিল্পকর্ম মিশরীয় সভ্যতাকে নির্দেশ করে।
স্থাপত্য ও ভাস্কর্যে মিশরীয়দের অবদান বিশাল।
১. পিরামিড: ফারাওদের সমাধি হিসেবে বিশাল পিরামিড নির্মিত হয়, যার মধ্যে গিজার পিরামিড বিশ্বখ্যাত। এতে তাদের প্রকৌশল ও গণিতজ্ঞানের পরিচয় মেলে।
২. মন্দির: কার্নাক ও লুক্সরের মতো বিশাল মন্দির তাদের স্থাপত্যের নিদর্শন।
৩. ভাস্কর্য: স্ফিংক্স ও ফারাওদের বিশাল মূর্তি তাদের ভাস্কর্যশিল্পের উৎকর্ষ প্রকাশ করে।এসব নিদর্শন আজও মিশরীয় সভ্যতার গৌরব বহন করছে এবং পরবর্তী সভ্যতার স্থাপত্যকেও প্রভাবিত করেছে।
- ঘ)
চিত্র-২-এ মিশরীয় হায়ারোগ্লিফিক লিপি দেখা যাচ্ছে। উক্তিটি যথার্থ।
১. লিখনপদ্ধতির উদ্ভাবন: ছবির মাধ্যমে লেখার এই পদ্ধতি মানুষকে জ্ঞান লিখে সংরক্ষণ করতে শেখায়। এতে শিক্ষার ভিত্তি তৈরি হয়।
২. প্যাপিরাসে লেখা: প্যাপিরাসে লেখার ফলে জ্ঞান ও তথ্য এক প্রজন্ম থেকে পরবর্তী প্রজন্মে পৌঁছাতে পেরেছে।
৩. বিদ্যাচর্চা: লিখিত ভাষার সাহায্যে মিশরীয়রা গণিত, জ্যামিতি, জ্যোতির্বিদ্যা ও চিকিৎসাবিদ্যার চর্চা করেছে। শিক্ষার্থীরা লিপিকরদের কাছে লিখতে-পড়তে শিখত।সুতরাং, হায়ারোগ্লিফিক লিপি শিক্ষার প্রসারে যুগান্তকারী ভূমিকা রেখেছে।
আরও প্রশ্ন অনুশীলন করতে অ্যাপে যাও