হিন্দু ধর্ম • Barishal Board • বরিশাল বোর্ড ২০২০

হিন্দু ধর্ম প্রশ্ন

অমল ও কমল দুই বন্ধু। অমল সাংসারিক কোনো কাজে মনোনিবেশ না করে বরং সকল কামনা-বাসনা ত্যাগ করে ঈশ্বর সাধনায় একাগ্রচিত্তে নিজেকে নিয়োজিত রাখেন। অপরদিকে কমল সকল সাংসারিক কাজ এবং অসহায় হতদরিদ্র ব্যক্তিদের সাধ্যমত সাহায্য করতে চেষ্টা করেন। তিনি তাদের মধ্যে ঈশ্বরের অস্তিত্ব উপলব্ধি করেন।

  1. ক)

    পরমাত্মা জীবের মধ্যে কীরূপে অবস্থান করেন?

    (1)
  2. খ)

    আত্মার সৃষ্টি বা বিনাশ নেই"- ব্যাখ্যা করো।

    (2)
  3. গ)

    অমল বাবুর উপাসনা পদ্ধতিটি পাঠ্যবইয়ের আলোকে বর্ণনা করো।

    (3)
  4. ঘ)

    "কমল বাবু আত্মারূপে জীবের মধ্যে ঈশ্বরের অস্তিত্ব উপলব্ধি করেন" -তোমার মতামতের স্বপক্ষে যুক্তি দাও।

    (4)

উত্তর ও ব্যাখ্যা

  1. ক)

    পরমাত্মা জীবের মধ্যে আত্মারূপে অবস্থান করেন।

  2. খ)

    আত্মা নিত্যবস্তু ও নিরাকার। আত্মা পরমাত্মারই অংশ, আর পরমাত্মা জন্ম-মৃত্যুহীন ও শাশ্বত। তাই জীবাত্মাও জন্ম-মৃত্যুহীন। জীবদেহের বিনাশ হয়, কিন্তু আত্মার বিনাশ হয় না। গীতায় (২/২০) শ্রীকৃষ্ণ বলেছেন, শরীরের বিনাশ ঘটলেও আত্মা বিনষ্ট হন না। আত্মা শুধু এক দেহ থেকে অন্য দেহে যান। তাই বলা হয়েছে আত্মার সৃষ্টি বা বিনাশ নেই।

  3. গ)

    অমল বাবু সংসারের কাজে মনোনিবেশ না করে কামনা-বাসনা ত্যাগ করে একাগ্রচিত্তে ঈশ্বর সাধনা করেন। এটি জ্ঞানযোগ পদ্ধতির উপাসনা।

    ১. জ্ঞানের অনুশীলনের মাধ্যমে পরম সত্তায় উপনীত হওয়ার সাধনাকে জ্ঞানযোগ বলে। আত্মতত্ত্ব ও পরমার্থতত্ত্ব জানাকে জ্ঞান বলা হয়।
    ২. জ্ঞানী উপলব্ধি করেন, তাঁর নিজের মধ্যে ও বিশ্বের সকল প্রাণীর মধ্যে একই চেতনা বা আত্মা রয়েছে এবং জীবাত্মা পরমাত্মারই অংশ।
    ৩. জ্ঞান লাভের জন্য শ্রদ্ধা, একনিষ্ঠতা ও সংযত ইন্দ্রিয় প্রয়োজন। গুরুর কাছে গিয়ে সেবা ও বিনীত প্রশ্নের মাধ্যমে জ্ঞান অর্জন করতে হয়।
    ৪. এর ফলে জ্ঞানীর পাপ বিনষ্ট হয় এবং তিনি পরম শান্তি লাভ করেন।

    অতএব, অমল বাবুর উপাসনা পদ্ধতি জ্ঞানযোগ।

  4. ঘ)

    কমল বাবু সাংসারিক কাজ করেন এবং অসহায় দরিদ্রদের সাধ্যমতো সাহায্য করে তাঁদের মধ্যে ঈশ্বরের অস্তিত্ব উপলব্ধি করেন। আমি এ মতের সঙ্গে একমত। যুক্তিগুলো নিচে দেওয়া হলো—

    ১. আত্মারূপে ঈশ্বর: পাঠ্যবইয়ে বলা হয়েছে পরমাত্মা জীবের মধ্যে আত্মারূপে অবস্থান করেন এবং জীবাত্মা পরমাত্মারই অংশ। তাই জীবসেবা প্রকৃতপক্ষে ঈশ্বরেরই সেবা।
    ২. রামকৃষ্ণের বাণী: ঠাকুর রামকৃষ্ণ বলেছেন 'যত্র জীব, তত্র শিব'। অর্থাৎ যেখানে জীব, সেখানেই শিব বা ঈশ্বর।
    ৩. কর্মযোগের আদর্শ: শ্রীকৃষ্ণ নিষ্কাম কর্মের কথা বলেছেন। ফলের আশা না করে অসহায়ের সেবা কর্মযোগ। এতে মোক্ষলাভ সম্ভব এবং ধর্মপথের উদ্দেশ্য 'আত্মমোক্ষায় জগদ্ধিতায় চ' পূর্ণ হয়।

    সুতরাং, কমল বাবু জীবের মধ্যে আত্মারূপে ঈশ্বরের অস্তিত্ব উপলব্ধি করেন, এ মন্তব্য যথার্থ।

আরও প্রশ্ন অনুশীলন করতে অ্যাপে যাও

সম্পর্কিত প্রশ্ন