পৌরনীতি ও সুশাসন ২য় পত্র • Barishal Board • বরিশাল বোর্ড ২০২৩
পৌরনীতি ও সুশাসন ২য় পত্র প্রশ্ন
তাপস সোম একটি গুরুত্বপূর্ণ সংবিধানিক পদে নিয়োজিত আছেন। তিনি প্রজাতন্ত্রের পক্ষে আইনের জটিল প্রশ্নে মত প্রকাশ করেন। সরকারের আইন বিষয়ক উপদেষ্টা হিসেবেও তিনি দায়িত্ব পালন করেন। তিনি সুপ্রিম কোর্টের বিচারকের মর্যাদা ভোগ করেন।
- ক)(1)
মহাহিসাব নিরক্ষক ও নিয়ন্ত্রক পদে কে নিয়োগ দেন?
- খ)(2)
সাংবিধানিক প্রতিষ্ঠান বলতে কী বোঝায়?
- গ)(3)
উদ্দীপকের সাথে তোমার পঠিত কোনো সংবিধানিক প্রতিষ্ঠানের সাদৃশ্য আছে কি? ব্যাখ্যা কর।
- ঘ)(4)
আইনের শাসন প্রতিষ্ঠায় উদ্দীপকে বর্ণিত সাংবিধানিক প্রতিষ্ঠানের ভূমিকা বিশ্লেষণ কর।
উত্তর ও ব্যাখ্যা
- ক)
AI-তৈরি নমুনা উত্তর
গণপ্রজাতন্ত্রী বাংলাদেশের রাষ্ট্রপতি মহাহিসাব নিরীক্ষক ও নিয়ন্ত্রককে নিয়োগ দেন।
- খ)
AI-তৈরি নমুনা উত্তর
যেসব সরকারি প্রতিষ্ঠান বা সংস্থা সরাসরি দেশের সংবিধানের বিধান বা অনুচ্ছেদের মাধ্যমে গঠিত হয় এবং যাদের দায়িত্ব, ক্ষমতা ও মেয়াদ সংবিধান দ্বারা নির্ধারিত ও নিয়ন্ত্রিত হয়, সেগুলোকে সাংবিধানিক প্রতিষ্ঠান বলা হয়। যেমন— বাংলাদেশ নির্বাচন কমিশন, সরকারি কর্ম কমিশন (পিএসসি), অ্যাটর্নি জেনারেলের কার্যালয় এবং মহাহিসাব নিরীক্ষক ও নিয়ন্ত্রকের কার্যালয়।
- গ)
AI-তৈরি নমুনা উত্তর
উদ্দীপকের সাথে আমার পঠিত বাংলাদেশের অন্যতম সাংবিধানিক পদ ও প্রতিষ্ঠান 'অ্যাটর্নি জেনারেল' (Attorney General)-এর সাদৃশ্য রয়েছে।
বাংলাদেশ সংবিধানের ৬৪ অনুচ্ছেদ অনুযায়ী রাষ্ট্রপতি সুপ্রিম কোর্টের বিচারক হওয়ার যোগ্যতাসম্পন্ন কোনো ব্যক্তিকে বাংলাদেশের 'অ্যাটর্নি জেনারেল' পদে নিয়োগ দান করেন। অ্যাটর্নি জেনারেল হলেন সরকারের প্রধান আইন কর্মকর্তা ও আইন উপদেষ্টা। তিনি সরকারের পক্ষে আইনগত মতামত প্রদান করেন, আদালতে সরকারের প্রতিনিধিত্ব করেন এবং সংবিধান বা আইনের জটিল ব্যাখ্যায় আদালতের পরামর্শক হিসেবে ভূমিকা পালন করেন। পদমর্যাদায় তিনি বাংলাদেশ সুপ্রিম কোর্টের আপিল বিভাগের একজন বিচারকের সমমানের মর্যাদা ভোগ করেন।
উদ্দীপকের তাপস সোমও একটি সাংবিধানিক পদে নিয়োজিত থেকে সরকারের আইন উপদেষ্টা হিসেবে কাজ করছেন, রাষ্ট্রের পক্ষে আইনের জটিল বিষয়ে মতামত দিচ্ছেন এবং সুপ্রিম কোর্টের বিচারকের মর্যাদা ভোগ করছেন। অতএব, তাপস সোমের পদটি বাংলাদেশের 'অ্যাটর্নি জেনারেল'-এর কার্যালয়ের সাথে পুরোপুরি সাদৃশ্যপূর্ণ।
- ঘ)
AI-তৈরি নমুনা উত্তর
আইনের শাসন প্রতিষ্ঠায় উদ্দীপকে বর্ণিত সাংবিধানিক পদ তথা অ্যাটর্নি জেনারেলের ভূমিকা অপরিসীম।
অ্যাটর্নি জেনারেল রাষ্ট্রের প্রধান আইন কর্মকর্তা হিসেবে আইনের শাসন ও ন্যায়বিচার নিশ্চিতকরণে বহুমুখী ভূমিকা পালন করেন:
১. সরকারকে আইনসম্মত পরামর্শ দান: সরকার যাতে সংবিধান ও বিদ্যমান আইন লঙ্ঘন করে কোনো সিদ্ধান্ত না নেয়, সে বিষয়ে সঠিক ও নিরপেক্ষ আইনি পরামর্শ দিয়ে থাকেন অ্যাটর্নি জেনারেল। এর ফলে রাষ্ট্রের নির্বাহী বিভাগের কর্মকাণ্ডে আইনের অনুশাসন বজায় থাকে।
২. আদালতে রাষ্ট্রের প্রতিনিধিত্ব: রাষ্ট্রের বিরুদ্ধে বা রাষ্ট্রের পক্ষে যে-কোনো সাংবিধানিক জটিলতা, জনস্বার্থ রক্ষা এবং নাগরিকের মৌলিক অধিকার রক্ষার মামলায় তিনি রাষ্ট্রপক্ষের প্রতিনিধিত্ব করে ন্যায়বিচার প্রতিষ্ঠায় সহায়তা করেন।
৩. সংবিধান সংরক্ষণ: কোনো আইন বা সরকারি নীতি সংবিধানের পরিপন্থী কি না, তা পর্যালোচনার ক্ষেত্রে সুপ্রিম কোর্টে গুরুত্বপূর্ণ যুক্তিতর্ক উপস্থাপন করেন, যা সংবিধানের শ্রেষ্ঠত্ব রক্ষা করে।
৪. 'অ্যামিকাস কিউরি' বা আদালতের বন্ধু: অত্যন্ত জটিল কোনো সাংবিধানিক বা জাতীয় আইনগত বিষয়ে আদালত প্রায়শই অ্যাটর্নি জেনারেলের বিজ্ঞ মতামত গ্রহণ করেন, যা পক্ষপাতহীন ন্যায়বিচার ও আইনের শাসন নিশ্চিতে ভূমিকা রাখে।পরিশেষে বলা যায়, অ্যাটর্নি জেনারেল নির্বাহী বিভাগ ও বিচার বিভাগের মাঝে একটি আইনি সেতুবন্ধন হিসেবে কাজ করে রাষ্ট্র পরিচালনার প্রতিটি ক্ষেত্রে আইনের শাসন ও সাংবিধানিক ধারাবাহিকতা অক্ষুণ্ণ রাখতে কার্যকর অবদান রাখেন।
আরও প্রশ্ন অনুশীলন করতে অ্যাপে যাও