ব্যবসায় সংগঠন ও ব্যবস্থাপনা ১ম পত্র • Barishal Board • বরিশাল বোর্ড ২০২৫

ব্যবসায় সংগঠন ও ব্যবস্থাপনা ১ম পত্র প্রশ্ন

মি. হাবিব খুলনা শহরের স্থায়ী বাসিন্দা। তিনি. সেখানে একটি পলিথিনের কারখানা চালু করেন। কিন্তু বর্তমান সরকার পলিথিন উৎপাদন ও ব্যবহার নিষিদ্ধ করেছেন। সরকার এ বিষয়ে গণসচেতনতা বৃদ্ধির চেষ্টা করছেন।

  1. ক)

    CSR শব্দের পূর্ণরূপ কী?

    (1)
  2. খ)

    পলিথিন কীভাবে পরিবেশ দূষণ করে?

    (2)
  3. গ)

    উদ্দীপকে মি. হাসান সমাজের কোন পক্ষের প্রতি দায়িত্ব অবহেলা করেছেন? ব্যাখ্যা করো।

    (3)
  4. ঘ)

    "গণসচেতনতাই পারে পলিথিন উৎপাদন ও ব্যবহার বন্ধ করতে"-উদ্দীপকের • আলোকে উক্তিটির যথার্থতা মূল্যায়ন করো।

    (4)

উত্তর ও ব্যাখ্যা

  1. ক)

    AI-তৈরি নমুনা উত্তর

    CSR শব্দের পূর্ণরূপ হলো Corporate Social Responsibility (প্রাতিষ্ঠানিক সামাজিক দায়বদ্ধতা)।

  2. খ)

    AI-তৈরি নমুনা উত্তর

    পলিথিন একটি অপচনশীল বা নন-বায়োডিগ্রেডেবল পদার্থ, যা মাটিতে মিশে যায় না। ফলে এটি মাটির উর্বরতা নষ্ট করে, ভূগর্ভস্থ পানির সঞ্চালনে বাধা সৃষ্টি করে এবং ড্রেনেজ বা পয়ঃনিষ্কাশন ব্যবস্থাকে আবদ্ধ করে মারাত্মক জলাবদ্ধতা তৈরি করে। এছাড়াও পলিথিন পোড়ালে বিষাক্ত গ্যাস নির্গত হয়ে বায়ু দূষিত হয়। এভাবেই পলিথিন সামগ্রিক পরিবেশের মারাত্মক দূষণ ঘটায়।

  3. গ)

    AI-তৈরি নমুনা উত্তর

    উদ্দীপকে মি. হাবিব (প্রশ্নে উল্লিখিত মি. হাসান) সরকার এবং সাধারণ সমাজের প্রতি দায়িত্ব অবহেলা করেছেন।

    একটি ব্যবসায়ের অন্যতম গুরুত্বপূর্ণ সামাজিক দায়িত্ব হলো রাষ্ট্রীয় আইন মেনে চলা এবং পরিবেশ ও জনস্বাস্থ্যের সুরক্ষা নিশ্চিত করা। সরকার দেশের সার্বিক পরিবেশ সংরক্ষণের স্বার্থে আইন ও বিধিনিষেধ জারি করে, যা মান্য করা প্রতিটি নাগরিক ও ব্যবসায়ীর আবশ্যিক কর্তব্য।

    উদ্দীপকে দেখা যায়, বর্তমান সরকার পলিথিন উৎপাদন ও ব্যবহার নিষিদ্ধ করা সত্ত্বেও মি. হাবিব খুলনা শহরে পলিথিনের কারখানা চালু করেছেন। সরকারের আইন অমান্য করে ক্ষতিকর সামগ্রী উৎপাদন করার মাধ্যমে তিনি সরকারের প্রতি তাঁর দায়িত্ব চরমভাবে অবহেলা করেছেন। পাশাপাশি পরিবেশের ক্ষতিসাধন করে তিনি সাধারণ জনগণ ও বৃহত্তর সমাজের স্বার্থের ক্ষতি করেছেন।

  4. ঘ)

    AI-তৈরি নমুনা উত্তর

    "গণসচেতনতাই পারে পলিথিন উৎপাদন ও ব্যবহার বন্ধ করতে"—উক্তিটি অত্যন্ত যথার্থ ও যৌক্তিক।

    পলিথিন অত্যন্ত সহজলভ্য ও ব্যবহার উপযোগী হলেও এটি পরিবেশের জন্য চরম ক্ষতিকর। শুধু আইন প্রয়োগ করে পলিথিন বন্ধ করা সম্ভব হয় না, যদি না এর ক্ষতিকর দিক সম্পর্কে জনগণ সচেতন হয় এবং এর বিকল্প ব্যবহারে অভ্যস্ত হয়।

    উদ্দীপকে দেখা যায়, সরকার পলিথিনের ক্ষতিকর প্রভাব সম্পর্কে জনগণকে উদ্বুদ্ধ করতে গণসচেতনতা বৃদ্ধির চেষ্টা করছে। আইনের কঠোর প্রয়োগ থাকলেও অনেক ব্যবসায়ী আইন অমান্য করে পলিথিন উৎপাদন ও বাজারজাত করে। কিন্তু জনসাধারণ যদি পলিথিনের ভয়াবহ পরিণতি সম্পর্কে সচেতন হয়ে এটি ব্যবহার ও ক্রয় করা বন্ধ করে দেয়, তবে বাজারে পলিথিনের চাহিদা শূন্যের কোঠায় নেমে আসবে। চাহিদা না থাকলে ব্যবসায়ীরা পলিথিন উৎপাদনে নিরুৎসাহিত হবে এবং বিকল্প হিসেবে পাটের ব্যাগ বা কাগজের ঠোঙ্গার ব্যবহার বৃদ্ধি পাবে।

    সুতরাং, পরিবেশ সংরক্ষণ এবং পলিথিনের মতো ক্ষতিকর উপাদানের চিরতরে বিলুপ্তি ঘটাতে আইন প্রয়োগের পাশাপাশি ব্যাপক গণসচেতনতা তৈরিই সবচেয়ে কার্যকর ও শক্তিশালী মাধ্যম। তাই প্রদত্ত উক্তিটি সম্পূর্ণ যথার্থ।

আরও প্রশ্ন অনুশীলন করতে অ্যাপে যাও

সম্পর্কিত প্রশ্ন