ব্যবসায় সংগঠন ও ব্যবস্থাপনা ১ম পত্র • Cumilla Board • কুমিল্লা বোর্ড ২০২৫
ব্যবসায় সংগঠন ও ব্যবস্থাপনা ১ম পত্র প্রশ্ন
আলাল, দুলাল এবং হেলাল একটি অংশীদারি ব্যবসায়ের অংশীদার। আলাল ব্যবসায়ে সংশ্লিষ্ট কাজগুলোতে অংশগ্রহণ করে কিন্তু দুলাল টাকা দিয়েই ক্ষান্ত। সে কোনো কাজকরে না। এ দিকে হেলাল মূলধন দিতে না পারলেও সব কাজ করে থাকে। সকলেই মুনাফার অংশ পায়। কিন্তু অন্যান্য সুযোগ-সুবিধায় ভিন্নতা আছে। এক সময় আলাল অসুস্থ হয়ে মৃত্যুবরণ করে। অন্য অংশীদাররা প্রতিষ্ঠানটির ভবিষ্যৎ নিয়ে বেশ চিন্তিত।
- ক)(1)
আপাতদৃষ্টিতে অংশীদার কারা?
- খ)(2)
বোনাস শেয়ার বলতে কী বোঝায়?
- গ)(3)
উদ্দীপকের অংশীদারি ব্যবসায় প্রতিষ্ঠানে জনাব হেলাল কোন ধরনের অংশীদার? ব্যাখ্যা করো।
- ঘ)(4)
বিলোপসাধনই উদ্দীপকে উল্লিখিত ব্যবসায়ের একমাত্র পরিণতি- যুক্তিসহ বিশ্লেষণ করো।
উত্তর ও ব্যাখ্যা
- ক)
AI-তৈরি নমুনা উত্তর
ব্যবসায় থেকে অবসর গ্রহণ করার পরও যে অংশীদার তার মূলধন ব্যবসায় থেকে উত্তোলন না করে ঋণ হিসেবে রেখে দেয়, তাকে আপাতদৃষ্টিতে অংশীদার (Quasi Partner) বলে।
- খ)
AI-তৈরি নমুনা উত্তর
কোম্পানি তার সঞ্চিত তহবিল বা অবন্টিত মুনাফাকে মূলধনে রূপান্তরের উদ্দেশ্যে বিদ্যমান শেয়ারহোল্ডারদের মধ্যে বিনামূল্যে যে অতিরিক্ত শেয়ার বণ্টন করে, তাকে বোনাস শেয়ার বলে।
নগদ লভ্যাংশ প্রদান না করে কোম্পানি শেয়ার আকারে লভ্যাংশ প্রদান করলে নগদ অর্থ প্রতিষ্ঠানেই থেকে যায়, যা ব্যবসা সম্প্রসারণ ও কার্যনির্বাহী মূলধনের ঘাটতি পূরণে সহায়তা করে। বোনাস শেয়ার পাওয়ার ফলে শেয়ারহোল্ডারদের শেয়ারের সংখ্যা বৃদ্ধি পায়। - গ)
AI-তৈরি নমুনা উত্তর
উদ্দীপকের অংশীদারি ব্যবসায় প্রতিষ্ঠানে জনাব হেলাল হলেন একজন কর্মী অংশীদার (Working Partner)।
যে অংশীদার ব্যবসায়ের মূলধন সরবরাহ করে না কিন্তু নিজের দক্ষতা, শ্রম ও মেধা দিয়ে সক্রিয়ভাবে ব্যবসায় পরিচালনা ও ব্যবস্থাপনায় অংশ নেয়, তাকে কর্মী অংশীদার বলা হয়। চুক্তি অনুযায়ী এ ধরনের অংশীদাররা সাধারণ মুনাফার পাশাপাশি অতিরিক্ত পারিশ্রমিক বা সুযোগ-সুবিধা পেয়ে থাকেন।
উদ্দীপকে দেখা যায়, আলাল, দুলাল ও হেলালের মধ্যে হেলাল ব্যবসায়ে কোনো মূলধন প্রদান করেননি। তবে তিনি প্রতিষ্ঠানের সব ধরনের দৈনন্দিন পরিচালনা ও কার্যক্রমে সরাসরি অংশগ্রহণ করেন এবং মুনাফার অংশ পান। মূলধন না দিয়ে কেবল মেধা ও শ্রম দিয়ে ব্যবসা পরিচালনার দায়িত্ব পালন করায় হেলাল কর্মী অংশীদারের মর্যাদা লাভ করেছেন। - ঘ)
AI-তৈরি নমুনা উত্তর
বিলোপসাধনই উদ্দীপকে উল্লিখিত ব্যবসায়ের একমাত্র পরিণতি- বক্তব্যটি পুরোপুরি সঠিক নয়।
১৯৩২ সালের ভারতীয় অংশীদারি আইনের ৩৫ ধারা অনুযায়ী, অংশীদারদের মধ্যে বিপরীত কোনো চুক্তি না থাকলে কোনো একজন অংশীদারের মৃত্যুতে সাধারণ নিয়মে অংশীদারি ফার্মের বিলোপ ঘটে। উদ্দীপকে তিনজন অংশীদারের মধ্যে সক্রিয় অংশীদার আলাল মৃত্যুবরণ করায় প্রতিষ্ঠানটির ভবিষ্যৎ নিয়ে বাকিরা চিন্তিত। কিন্তু আইনের এ নিয়ম বাধ্যতামূলক নয়, বরং চুক্তির শর্তসাপেক্ষ।
যদি অংশীদারি চুক্তিতে এই মর্মে উল্লেখ থাকে যে কোনো অংশীদারের মৃত্যুতে প্রতিষ্ঠান বন্ধ হবে না, তবে জীবিত অংশীদাররা ব্যবসা চালিয়ে যেতে পারেন। এছাড়া অবশিষ্ট দুই অংশীদার (দুলাল ও হেলাল) পারস্পরিক সমঝোতা ও নতুন চুক্তির মাধ্যমে ব্যবসায়টি চালু রাখতে পারেন। অংশীদারি ব্যবসা চালিয়ে নেওয়ার জন্য ন্যূনতম সদস্যসংখ্যা ২ জন হওয়া প্রয়োজন, যা এখনও বহাল রয়েছে। তাই নতুন চুক্তি সম্পাদন বা মৃত অংশীদারের উত্তরাধিকারীকে অন্তর্ভুক্ত করার মাধ্যমে ব্যবসায়টি টিকিয়ে রাখা সম্ভব। সুতরাং বিলোপসাধনই এর একমাত্র পরিণতি নয়।
আরও প্রশ্ন অনুশীলন করতে অ্যাপে যাও