অর্থনীতি • বাংলাদেশের অর্থনীতি • Sylhet Board • সিলেট বোর্ড ২০২৫

অর্থনীতি প্রশ্ন

নিচের ছকটি লক্ষ করো:

ছক-A | ছক-B
ধান, গম, পাট, আলু, তৈলবীজ, বাঁশ | সিমেন্ট, চামড়া, কাগজ, পাটজাত দ্রব্য, ভোজ্যতৈল

  1. ক)

    SPM-এর পূর্ণরূপ কী?

    (1)
  2. খ)

    ছদ্মবেশী বেকারত্ব বলতে কী বোঝ?

    (2)
  3. গ)

    উদ্দীপকে ছক-B খাতের পণ্যগুলো বাংলাদেশের অর্থনীতিতে কোন খাতের অন্তর্ভুক্ত? ব্যাখ্যা করো।

    (3)
  4. ঘ)

    ছকে, উল্লিখিত ছক A ও B খাত দুটি বাংলাদেশের অর্থনৈতিক উন্নয়নে একে অপরের ওপর নির্ভরশীল- বিশ্লেষণ করো।

    (4)

উত্তর ও ব্যাখ্যা

  1. খ)

    কৃষিতে প্রয়োজনের অতিরিক্ত যে শ্রমিক নিয়োজিত থাকে এবং যাদের প্রান্তিক উৎপাদনশীলতা শূন্য, তাদের ছদ্মবেশী বা প্রচ্ছন্ন বেকার বলে। এদের আপাতদৃষ্টিতে কর্মরত মনে হলেও প্রকৃতপক্ষে এদের কাজের কোনো অবদান থাকে না।

    উদাহরণ: একজন কৃষক একাই দুই বিঘা জমি চাষ করে নির্দিষ্ট ফসল ফলায়। এখন তার দুই ছেলেও সেই জমিতে কাজে যোগ দিলে মনে হয় তিনজন কাজ করছে, কিন্তু মোট উৎপাদন আগের মতোই থাকে। তাই অতিরিক্ত দুজন ছদ্মবেশী বেকার।

  2. গ)

    উদ্দীপকের ছক-B খাতের পণ্যগুলো (সিমেন্ট, চামড়া, কাগজ, পাটজাত দ্রব্য, ভোজ্যতৈল) বাংলাদেশের অর্থনীতির শিল্প খাতের অন্তর্ভুক্ত।

    শিল্প খাত: প্রকৃতি প্রদত্ত সম্পদ বা কাঁচামাল বা প্রাথমিক দ্রব্যকে কারখানাভিত্তিক প্রস্তুতপ্রণালির মাধ্যমে মাধ্যমিক দ্রব্য বা চূড়ান্ত দ্রব্যে রূপান্তর করাকে শিল্প বলে। বাংলাদেশের জাতীয় আয় নির্ণয়ে ১৫টি খাতের মধ্যে খনিজ ও খনন, ম্যানুফ্যাকচারিং, বিদ্যুৎ-গ্যাস-পানি এবং নির্মাণ এ চারটি খাত মিলে সার্বিক শিল্প খাত গঠিত।

    উদ্দীপকের সাথে সম্পর্ক: ছক-B-এর সিমেন্ট, কাগজ ও পাটজাত দ্রব্য পাঠ্যবইয়ের তালিকায় ম্যানুফ্যাকচারিং খাতের বৃহৎ শিল্প এবং চামড়া মাঝারি শিল্পের উদাহরণ। এসব পণ্য কাঁচামাল (চুনাপাথর, কাঁচা পাট, চামড়া, তৈলবীজ ইত্যাদি) কারখানায় প্রক্রিয়াজাত করে তৈরি হয়। ভোজ্যতৈলও তৈলবীজ প্রক্রিয়াজাত করে উৎপাদিত শিল্পজাত পণ্য। অর্থাৎ এখানে প্রাথমিক দ্রব্য কারখানায় রূপান্তরিত হয়ে নতুন দ্রব্যে পরিণত হয়েছে, যা শিল্প খাতেরই বৈশিষ্ট্য।

    অতএব, ছক-B-এর পণ্যগুলো বাংলাদেশের অর্থনীতির শিল্প খাতকে নির্দেশ করে।

  3. ঘ)

    আমি মনে করি, ছক-A (ধান, গম, পাট, আলু, তৈলবীজ, বাঁশ) কৃষি খাত এবং ছক-B (সিমেন্ট, চামড়া, কাগজ, পাটজাত দ্রব্য, ভোজ্যতৈল) শিল্প খাতকে নির্দেশ করে; আর বাংলাদেশের অর্থনৈতিক উন্নয়নে এ দুই খাত পরস্পর নির্ভরশীল ও একে অপরের পরিপূরক।

    পাঠ্যবইয়ে বলা হয়েছে, কৃষি খাতের আধুনিকায়নের জন্য প্রয়োজনীয় সরঞ্জাম ও সার জোগায় শিল্প খাত, আর শিল্পের প্রসারের জন্য কাঁচামাল আসে কৃষি খাত থেকে। নিচে নির্ভরশীলতার ক্ষেত্রগুলো বিশ্লেষণ করা হলো।

    ১. কাঁচামালের জন্য নির্ভরশীলতা: আমাদের দেশের অধিকাংশ শিল্প কৃষিভিত্তিক। উদ্দীপকের ছক-A-এর পাট থেকে ছক-B-এর পাটজাত দ্রব্য, তৈলবীজ থেকে ভোজ্যতৈল তৈরি হয়। পাঠ্যবই অনুযায়ী পাট, চা, চামড়া, চিনি ও কাগজ শিল্প প্রধান কাঁচামালের জন্য কৃষির ওপর নির্ভরশীল। বাঁশও ক্ষুদ্র শিল্পের কাঁচামাল। কৃষি পর্যাপ্ত কাঁচামাল না জোগালে এসব শিল্প সচল থাকতে পারে না।

    ২. কৃষির আধুনিকায়নে শিল্পের অবদান: কৃষিতে ব্যবহৃত যন্ত্রপাতি, সার, কীটনাশক ও ওষুধ শিল্পে উৎপাদিত হয়। এসবের ব্যবহারে ধান, গম, আলুর ফলন বাড়ে এবং খাদ্যে স্বয়ংসম্পূর্ণতা অর্জন সহজ হয়। শিল্প খাত দুর্বল হলে কৃষি আধুনিক হতে পারবে না।

    ৩. বাজার সৃষ্টি: শিল্পের কাঁচামালের চাহিদা বাড়লে কৃষক উৎপাদিত পণ্যের ন্যায্য দাম পায়, ফলে কৃষকের আয় ও ক্রয়ক্ষমতা বাড়ে। বর্ধিত ক্রয়ক্ষমতা দিয়ে কৃষক সিমেন্ট, কাগজ, ভোজ্যতৈল প্রভৃতি শিল্পজাত দ্রব্য কেনে, যা শিল্পের বাজার সম্প্রসারণ করে।

    ৪. কর্মসংস্থান ও মূলধন গঠন: কৃষি খাতে ছদ্মবেশী বেকারত্ব রয়েছে। শিল্পের প্রসার ঘটলে কৃষি থেকে উদ্বৃত্ত শ্রমিক শিল্প খাতে কাজ পায়। কৃষকের আয় বাড়লে সঞ্চয় ও মূলধন গঠন বাড়ে এবং তা শিল্পে বিনিয়োগ করা যায়। এছাড়া কৃষিতে খাদ্যে স্বয়ংসম্পূর্ণতা এলে আমদানি ব্যয় বাঁচে, যা শিল্পোন্নয়নে ব্যয় করা যায়।

    সুতরাং, কৃষি খাত শিল্পকে কাঁচামাল ও বাজার দেয়, আর শিল্প খাত কৃষিকে উপকরণ ও যন্ত্রপাতি দেয়। দেশের অর্থনৈতিক উন্নয়ন, খাদ্যে স্বয়ংসম্পূর্ণতা ও আত্মনির্ভরশীলতার জন্য দুই খাতের একসঙ্গে উন্নতি অপরিহার্য।

আরও প্রশ্ন অনুশীলন করতে অ্যাপে যাও

সম্পর্কিত প্রশ্ন