ব্যবসায় সংগঠন ও ব্যবস্থাপনা ২য় পত্র • Dhaka Board • ঢাকা বোর্ড ২০১৫
ব্যবসায় সংগঠন ও ব্যবস্থাপনা ২য় পত্র প্রশ্ন
পূর্ণিমা কনফেকশনারী-এর তথ্য নিম্নরূপ:
৩০ জুন'র হিসাব থেকে দেখা যায়, জানুয়ারি-এপ্রিল মাসে অবিক্রিত পণ্যের কারণে ১০ লক্ষ টাকা ক্ষতি হয়। মে মাসের শুরুতে বিক্রয় বিভাগে ২৫ জন কর্মী নিয়োগ দিলে অবস্থা স্বাভাবিক হয়। কিন্তু জুলাই মাসে উৎপাদন বিভাগের ১০ জন দক্ষ কর্মী চাকরি ছেড়ে গেলে প্রতিষ্ঠানটি নতুন সমস্যার সম্মুখীন হয়।
মাস | উৎপাদন (একক) | বিক্রয় (একক)
জানুয়ারি | ১০০০ | ৬০০
ফেব্রুয়ারি | ১০০০ | ৭০০
মার্চ | ১০০০ | ৬৫০
এপ্রিল | ১০০০ | ৬৭৫
মে | ১০০০ | ৯৯০
জুন | ১০০০ | ১০০০
- ক)(1)
নির্দেশনার ঐক্য নীতি কী?
- খ)(2)
“ব্যবস্থাপনা সর্বজনীন”— ব্যাখ্যা করো।
- গ)(3)
জানুয়ারি-এপ্রিল মাসে ক্ষতির জন্য ব্যবস্থাপনার কোন কাজের ব্যত্যয় দায়ী? ব্যাখ্যা করো।
- ঘ)(4)
নতুন সমস্যা সমাধানে কর্মী নিয়োগের পাশাপাশি প্রশিক্ষণ ও দিতে হবে— তুমি কী একমত? যুক্তিসহ মতামত দাও।
উত্তর ও ব্যাখ্যা
- ক)
AI-তৈরি নমুনা উত্তর
প্রতিষ্ঠানের একই ধরনের উদ্দেশ্যের জন্য একজন মাত্র পরিচালকের অধীনে একটিমাত্র সাধারণ পরিকল্পনা অনুসরণের নীতিকে নির্দেশনার ঐক্য নীতি বলে।
- খ)
AI-তৈরি নমুনা উত্তর
“ব্যবস্থাপনা সর্বজনীন”— এর অর্থ হলো দলবদ্ধ মানবীয় প্রচেষ্টায় উদ্দেশ্য অর্জনের ক্ষেত্রে ব্যবস্থাপনা সব ধরনের প্রতিষ্ঠানেই সমভাবে প্রযোজ্য ও অপরিহার্য।
গ্রিক দার্শনিক সক্রেটিস প্রথম ব্যবস্থাপনাকে সর্বজনীন হিসেবে উল্লেখ করেন। পরিবার, শিক্ষাপ্রতিষ্ঠান, হাসপাতাল, ধর্মীয় প্রতিষ্ঠান, রাষ্ট্র কিংবা বড় ব্যবসায় প্রতিষ্ঠান— যে কোনো প্রতিষ্ঠানে লক্ষ্য অর্জন করতে হলে পরিকল্পনা প্রণয়ন, সংগঠন, কর্মীসংস্থান, নির্দেশনা, প্রেষণা, সমন্বয় ও নিয়ন্ত্রণ প্রভৃতি ব্যবস্থাপকীয় কার্যাবলি সম্পাদন করতেই হয়। স্থান, কাল ও পাত্রভেদে লক্ষ্য ভিন্ন হতে পারে, কিন্তু ব্যবস্থাপনার মৌলিক নীতি ও কাজের কোনো পরিবর্তন হয় না বলেই ব্যবস্থাপনা সর্বজনীন।
- গ)
AI-তৈরি নমুনা উত্তর
জানুয়ারি-এপ্রিল মাসে ক্ষতির জন্য ব্যবস্থাপনার সমন্বয়সাধন (Co-ordinating) কাজের ব্যত্যয় দায়ী।
প্রতিষ্ঠানের বিভিন্ন বিভাগ, ব্যক্তি ও কাজের মধ্যে ভারসাম্য ও যোগসূত্র স্থাপন করে একটি সাধারণ উদ্দেশ্য অর্জনের প্রক্রিয়াকে সমন্বয়সাধন বলে। সমন্বয়ের অভাবে প্রতিষ্ঠানের এক বিভাগের কাজের সাথে অন্য বিভাগের অমিল দেখা দেয়।
উদ্দীপকে পূর্ণিমা কনফেকশনারীতে জানুয়ারি থেকে এপ্রিল পর্যন্ত প্রতি মাসে উৎপাদন হয়েছে ১০০০ একক, কিন্তু বিক্রয় হয়েছে যথাক্রমে ৬০০, ৭০০, ৬৫০ ও ৬৭৫ একক। ফলে প্রতি মাসেই উল্লেখযোগ্য পরিমাণ পণ্য অবিক্রিত থেকে যায় এবং চার মাসে ১০ লক্ষ টাকার ক্ষতি হয়। এখানে উৎপাদন বিভাগ ও বিপণন/বিক্রয় বিভাগের মধ্যে কোনো সুষ্ঠু সমন্বয় ছিল না। বিক্রয় সক্ষমতা না বাড়িয়ে অধিক উৎপাদন করায় পণ্য অবিক্রিত থেকে আর্থিক ক্ষতি হয়েছে। সুতরাং সমন্বয়সাধনের ব্যত্যয়ই এ ক্ষতির প্রধান কারণ।
- ঘ)
AI-তৈরি নমুনা উত্তর
হ্যাঁ, নতুন সমস্যা সমাধানে নতুন কর্মী নিয়োগের পাশাপাশি তাদের উপযুক্ত প্রশিক্ষণ প্রদান করতে হবে— আমি এ বক্তব্যের সাথে সম্পূর্ণরূপে একমত।
প্রতিষ্ঠানের কাজ সুষ্ঠুভাবে সম্পাদনের জন্য উপযুক্ত সংখ্যক কর্মী নিয়োগ করা যেমন জরুরি, তেমনই কর্মীদের কার্যদক্ষতা ও কর্মক্ষমতা বৃদ্ধির জন্য নিয়মিত প্রশিক্ষণ প্রদান করাও সমভাবে গুরুত্বপূর্ণ। প্রশিক্ষণ কর্মীর জ্ঞান, দক্ষতা ও মনোবল বৃদ্ধি করে এবং অপচয় হ্রাস করে।
উদ্দীপকে দেখা যায়, বিক্রয় বিভাগে কর্মী নিয়োগের ফলে বিক্রয় সমস্যা সমাধান হলেও জুলাই মাসে উৎপাদন বিভাগ থেকে ১০ জন দক্ষ কর্মী চাকরি ছেড়ে দেন। উৎপাদন একটি কারিগরি ও সংবেদনশীল কাজ। সেখানে দক্ষ কর্মীর ঘাটতি হলে উৎপাদনের গতি ব্যাহত হবে, পণ্যের গুণগত মান হ্রাস পাবে এবং প্রতিষ্ঠান আবারও বিপর্যয়ের মুখে পড়বে।
এমতাবস্থায় প্রতিষ্ঠানটিকে দ্রুত নতুন কর্মী নিয়োগ দিতে হবে। তবে শুধু নতুন কর্মী নিয়োগ করাই যথেষ্ট নয়; কারণ নতুন কর্মীরা শুরুতেই দক্ষ ও প্রতিষ্ঠানের কাজের ধরনের সাথে পরিচিত থাকে না। তাদের যথাযথ প্রশিক্ষণ দিয়ে দক্ষ করে গড়ে না তুললে সাবেক দক্ষ কর্মীদের অভাব পূরণ করা সম্ভব হবে না। সুতরাং নতুন কর্মী নিয়োগের পাশাপাশি প্রশিক্ষণ নিশ্চিত করাই বর্তমান সংকট সমাধানের সর্বোৎকৃষ্ট উপায়।
আরও প্রশ্ন অনুশীলন করতে অ্যাপে যাও