ব্যবসায় উদ্যোগ • Barishal Board • বরিশাল বোর্ড ২০২৩
ব্যবসায় উদ্যোগ প্রশ্ন
দৃশ্যপট-১: খুলনার ব্যবসায়ী শাহীন ১০ প্রকারের চিংড়ি উৎপাদন করে দেশের বিভিন্ন স্থানে চাহিদা অনুযায়ী সরবরাহ করেন। এছাড়া ইউরোপের বিভিন্ন দেশেও তিনি চিংড়ি রপ্তানি করেন।দৃশ্যপট-২: গাজীপুরের শিল্পপতি ইকরাম তার নিজস্ব কারখানায় উৎপাদিত পোশাক বিক্রির জন্য দেশের বিভিন্ন শহরে Signal-1 নামে শোরুম স্থাপন করেন। বিক্রয় বাড়ানোর জন্য তিনি প্রত্যেকটি শোরুমে শিক্ষিত, স্মার্ট, দক্ষ ও জেন্ডার সচেতন বিক্রয়কর্মী নিয়োগ দেন। এভাবে ক্রেতাদের আস্থা অর্জন করে প্রতিষ্ঠানটি তাদেরকে স্থায়ী ক্রেতায় পরিণত করে।
- ক)(1)
বিপণন কী?
- খ)(2)
ক্রেতাকে বিভিন্ন রকম নমুনা প্রদান করা হয় কেন? ব্যাখ্যা করো।
- গ)(3)
শাহীনের ব্যবসায়ের ক্ষেত্রে বিপণনের কোন কাজটির প্রতি ইঙ্গিত দেওয়া হয়েছে? ব্যাখ্যা করো।
- ঘ)(4)
ইকরামের ব্যবসায়ে বিক্রয় বাড়ানোর জন্য গৃহীত কৌশল মূল্যায়ন করো।
উত্তর ও ব্যাখ্যা
- ক)
উৎপাদনকারী থেকে ভোক্তার কাছে পণ্য ও সেবা পৌঁছে দেওয়ার মাধ্যমে ভোক্তার চাহিদা পূরণ এবং প্রতিষ্ঠানের মুনাফা অর্জনের সমন্বিত কার্যক্রমকে বিপণন বলে।
- খ)
নমুনা দেখে ক্রেতা পণ্যের গুণ, মান, রং ও আকার সম্পর্কে ধারণা পায়। এতে পণ্যের প্রতি তার আস্থা তৈরি হয় এবং কেনার সিদ্ধান্ত নেওয়া সহজ হয়। বিক্রেতার জন্যও নমুনা একটি বিক্রয় প্রসারের কৌশল, কারণ নমুনা পছন্দ হলে ক্রেতা পণ্য কেনে এবং বিক্রয় বাড়ে। তাই ক্রেতাকে বিভিন্ন রকম নমুনা প্রদান করা হয়।
- গ)
শাহীন ১০ প্রকারের চিংড়ি উৎপাদন করে চাহিদা অনুযায়ী দেশের বিভিন্ন স্থানে সরবরাহ করেন এবং ইউরোপে রপ্তানি করেন। এখানে বিপণনের মান নির্ধারণ ও শ্রেণিবিন্যাস কাজটির প্রতি ইঙ্গিত করা হয়েছে।
পণ্যকে আকার, গুণ ও মান অনুযায়ী আলাদা আলাদা শ্রেণিতে ভাগ করাকে শ্রেণিবিন্যাস বলে। শাহীন চিংড়িকে ১০টি প্রকারে ভাগ করে আলাদা চাহিদার ক্রেতার কাছে সরবরাহ করেন। এতে ক্রেতা পছন্দ অনুযায়ী পণ্য পায় এবং দেশ-বিদেশের বাজারের চাহিদা পূরণ হয়। এর সাথে চাহিদা অনুযায়ী সরবরাহ ও রপ্তানির মাধ্যমে বিতরণ কাজও যুক্ত আছে।
- ঘ)
ইকরাম নিজের কারখানায় উৎপাদিত পোশাক বিক্রির জন্য বিভিন্ন শহরে Signal-1 শোরুম স্থাপন করেছেন এবং শিক্ষিত, স্মার্ট, দক্ষ ও জেন্ডার সচেতন বিক্রয়কর্মী নিয়োগ দিয়েছেন। তার গৃহীত কৌশলগুলো মূল্যায়ন করা হলো।
১. বিভিন্ন শহরে শোরুম স্থাপন: এর ফলে ক্রেতা সহজে পণ্য হাতের কাছে পায়। পণ্যের প্রদর্শন ও সহজলভ্যতা বিক্রয় বাড়ায়।
২. দক্ষ বিক্রয়কর্মী: শিক্ষিত ও দক্ষ কর্মী ক্রেতাকে পণ্যের গুণ ও ব্যবহার বুঝিয়ে সম্ভাষণ ও সেবা দিতে পারে। এটি ব্যক্তিগত বিক্রয়ের কার্যকর কৌশল।
৩. ক্রেতার আস্থা অর্জন: জেন্ডার সচেতন ও ভালো আচরণের কর্মীর মাধ্যমে ক্রেতা সন্তুষ্ট হয়, ফলে তারা স্থায়ী ক্রেতা হয়ে ওঠে।সুতরাং, ইকরামের কৌশলগুলো যথাযথ ও কার্যকর। এগুলোর মাধ্যমে বিক্রয় বৃদ্ধি ও স্থায়ী ক্রেতা তৈরি সম্ভব হয়েছে।
আরও প্রশ্ন অনুশীলন করতে অ্যাপে যাও