পৌরনীতি ও সুশাসন ১ম পত্র • Combined Board • সমন্বিত বোর্ড ২০২৬ (অনিয়মিত)
পৌরনীতি ও সুশাসন ১ম পত্র প্রশ্ন
মৌলিক অধিকার নাগরিক জীবনের বিকাশ ও ব্যক্তির জন্য অপরিহার্য। একমাত্র রাষ্ট্র ঘোষিত জরুরি অবস্থার সময় কিংবা সংবিধান স্থগিত ও সংশোধন করা ব্যতীত কোনো সরকারই মৌলিক অধিকার খর্ব করতে পারে না। মৌলিক অধিকার ও মানবাধিকারের মধ্যে প্রকৃতিগত পার্থক্য খুব কম। অনেক মৌলিক অধিকার জাতিসংঘ ঘোষিত মানবাধিকারের স্থান পেয়েছে।
- ক)(1)
জাতিসংঘ কখন মানবাধিকার ঘোষণা করে?
- খ)(2)
সামাজিক অধিকার বলতে কী বোঝায়?
- গ)(3)
উদ্দীপকে যে দুইটি অধিকারের কথা উল্লেখ করা হয়েছে তাদের মধ্যে পার্থক্য নিরূপন কর।
- ঘ)(4)
উদ্দীপকে উল্লিখিত অধিকার “সুশাসন প্রতিষ্ঠায় একে অপরের সহায়ক ও পরিপূরক” — বিশ্লেষণ কর।
উত্তর ও ব্যাখ্যা
- ক)
AI-তৈরি নমুনা উত্তর
জাতিসংঘ ১৯৪৮ সালের ১০ই ডিসেম্বর মানবাধিকারের সার্বজনীন ঘোষণাপত্র (Universal Declaration of Human Rights) গ্রহণ করে।
- খ)
AI-তৈরি নমুনা উত্তর
সভ্য সমাজে স্বাধীন ও শান্তিময়ভাবে জীবনযাপনের জন্য রাষ্ট্র কর্তৃক প্রদত্ত সুযোগ-সুবিধাকে সামাজিক অধিকার বলে। যেমন—জীবনধারণের অধিকার, চলাফেরার অধিকার, সম্পত্তির অধিকার এবং মতপ্রকাশের অধিকার। এই অধিকারগুলো ব্যক্তির সামাজিক অস্তিত্ব ও ব্যক্তিত্ব বিকাশের জন্য অত্যন্ত প্রয়োজনীয়।
- গ)
AI-তৈরি নমুনা উত্তর
উদ্দীপকে মৌলিক অধিকার ও মানবাধিকারের কথা উল্লেখ করা হয়েছে। এদের মধ্যে কিছু মৌলিক পার্থক্য রয়েছে:
১. সংজ্ঞা ও ক্ষেত্র: মানবাধিকার হলো মানুষ হিসেবে জন্মগ্রহণের কারণে অর্জিত সার্বজনীন অধিকার, যা বিশ্বব্যাপী সব মানুষের ক্ষেত্রে প্রযোজ্য। অন্যদিকে, কোনো নির্দিষ্ট রাষ্ট্রের সংবিধানে যেসব মানবাধিকার অন্তর্ভুক্ত ও আইনের দ্বারা স্বীকৃত হয়, সেগুলোকে মৌলিক অধিকার বলে।
২. কার্যকারিতা ও সংরক্ষণ: মৌলিক অধিকার রাষ্ট্রীয় আইন ও সংবিধান দ্বারা সংরক্ষিত থাকে এবং তা লঙ্ঘিত হলে দেশের আদালতে প্রতিকার চাওয়া যায়। মানবাধিকার আন্তর্জাতিকভাবে স্বীকৃত হলেও প্রতিটি রাষ্ট্রে স্বয়ংক্রিয়ভাবে আইনগতভাবে বলবৎযোগ্য নাও হতে পারে।
৩. সীমানা: মানবাধিকারের ক্ষেত্র বিশ্বজনীন বা আন্তর্জাতিক, কিন্তু মৌলিক অধিকারের প্রয়োগ রাষ্ট্রীয় সীমানার মধ্যে সীমাবদ্ধ। - ঘ)
AI-তৈরি নমুনা উত্তর
উদ্দীপকে উল্লিখিত মৌলিক অধিকার ও মানবাধিকার সুশাসন প্রতিষ্ঠায় একে অপরের সহায়ক ও পরিপূরক—বক্তব্যটি যথার্থ।
মানবাধিকার ব্যক্তির মর্যাদা, স্বাধীনতা ও সাম্যের নিশ্চয়তা দেয়। যখন রাষ্ট্র এই আন্তর্জাতিক মানবাধিকারগুলোকে তার সংবিধানে মৌলিক অধিকার হিসেবে স্বীকৃতি দেয়, তখন নাগরিকের অধিকার রক্ষার আইনি বাধ্যবাধকতা তৈরি হয়। সুশাসনের মূল স্তম্ভগুলো—যেমন আইনের শাসন, জবাবদিহিতা, স্বচ্ছতা এবং জনগণের অংশগ্রহণ—মৌলিক অধিকার ও মানবাধিকারের নিশ্চয়তার মাধ্যমেই বাস্তবায়িত হয়।
নাগরিক যদি মতপ্রকাশ, আইনের আশ্রয়লাভ এবং রাজনৈতিক অংশগ্রহণের মতো মৌলিক অধিকার উপভোগ করতে না পারে, তবে সুশাসন প্রতিষ্ঠিত হতে পারে না। একইভাবে, বিশ্বজনীন মানবাধিকারের মানদণ্ড অনুসরণ করার মাধ্যমেই একটি গণতান্ত্রিক রাষ্ট্র ন্যায়বিচার ও সুশাসন নিশ্চিত করতে পারে। সুতরাং, মানবাধিকার এবং মৌলিক অধিকার পরস্পর সংযুক্ত হয়ে সমাজে সুশাসন প্রতিষ্ঠার পথ সুগম করে।
আরও প্রশ্ন অনুশীলন করতে অ্যাপে যাও