ভূগোল এবং পরিবেশ • Dinajpur Board • দিনাজপুর বোর্ড ২০২৩

ভূগোল এবং পরিবেশ প্রশ্ন

দৃশ্যকল্প-১: মি. মাসুদ মধ্য ইউরোপের একটি দেশে কর্মরত, যেখানে প্রতিবছর শীতকালে প্রচুর বৃষ্টিপাত হয়।দৃশ্যকল্প-২: মি. অপু ভারতের মেঘালয় রাজ্যের অধিবাসী। তার এক বাংলাদেশী আত্মীয় মেঘালয়ে বৈশাখ থেকে ভাদ্র মাস পর্যন্ত অবস্থান করে এবং ভারী বৃষ্টিপাত প্রত্যক্ষ করে। অবশেষে সেখানে বন্যা দেখা দিল।

  1. ক)

    আবহাওয়া কাকে বলে?.

    (1)
  2. খ)

    গ্রীষ্মকালে দিনের বেলায় সাগর উপকূলে ঠান্ডা অনুভূত হয় কেন? ব্যাখ্যা করো।

    (2)
  3. গ)

    মি. মাসুদের দেখা বৃষ্টিপাতটি কোন ধরনের? ব্যাখ্যা করো।

    (3)
  4. ঘ)

    মি. অপুর আত্মীয় যে ধরনের 'বৃষ্টিপাত দেখল, তার সাথে বাংলাদেশের বৃষ্টিপাতের কোনো মিল আছে কি? উত্তরের সপক্ষে যুক্তি দাও।

    (4)

উত্তর ও ব্যাখ্যা

  1. ক)

    কোনো স্থানের অল্প সময়ের (এক বা একাধিক দিনের) বায়ুমণ্ডলীয় অবস্থাকে আবহাওয়া বলে।

  2. খ)

    গ্রীষ্মকালে দিনের বেলায় স্থলভাগ সমুদ্রের চেয়ে দ্রুত উত্তপ্ত হয়। ফলে স্থলভাগের বায়ু হালকা হয়ে উপরে ওঠে এবং সেখানে নিম্নচাপ সৃষ্টি হয়। তখন সমুদ্রের তুলনামূলক শীতল ও উচ্চচাপের বায়ু স্থলভাগের দিকে ছুটে আসে, একে সমুদ্রবায়ু বলে। এ কারণে দিনের বেলায় সাগর উপকূলে ঠান্ডা অনুভূত হয়।

  3. গ)

    দৃশ্যকল্প-১ এ মধ্য ইউরোপে শীতকালে মি. মাসুদের দেখা বৃষ্টিপাতটি ঘূর্ণি বৃষ্টি (Cyclonic Rain)।

    ঘূর্ণি বৃষ্টি কী: বায়ুমণ্ডলে কোনো অঞ্চলে নিম্নচাপ কেন্দ্র সৃষ্টি হলে জলভাগের উপর থেকে জলীয়বাষ্পপূর্ণ উষ্ণ বায়ু এবং স্থলভাগের উপর থেকে শুষ্ক শীতল বায়ু একই নিম্নচাপ কেন্দ্রের দিকে ছুটে আসে। শীতল বায়ু ভারী বলে উষ্ণ আর্দ্র বায়ু তার উপরে ধীরে ধীরে উঠতে থাকে। উপরে ওঠার সময় বায়ু ঠান্ডা হয়ে জলীয়বাষ্প ঘনীভূত হয় এবং বৃষ্টিপাত ঘটে। এ বৃষ্টি সাধারণত দীর্ঘস্থায়ী হয়।

    উদ্দীপকের সাথে সম্পর্ক: মি. মাসুদ মধ্য ইউরোপের একটি দেশে কর্মরত, যেখানে প্রতিবছর শীতকালে প্রচুর বৃষ্টি হয়। এখানে সাগর থেকে আসা উষ্ণ আর্দ্র বায়ু এবং স্থলভাগের শীতল বায়ুর মিলনে নিম্নচাপ কেন্দ্র সৃষ্টি হয় এবং দীর্ঘস্থায়ী বৃষ্টি ঘটে। মধ্য ইউরোপের বিভিন্ন দেশে শীতকালে এরূপ বৃষ্টিপাতই দেখা যায়।

    সুতরাং, মি. মাসুদের দেখা বৃষ্টিপাতটি ঘূর্ণি বৃষ্টি।

  4. ঘ)

    মি. অপুর আত্মীয় মেঘালয়ে বৈশাখ থেকে ভাদ্র মাস পর্যন্ত যে ভারী বৃষ্টিপাত দেখেছেন, তা শৈলোৎক্ষেপ বৃষ্টিপাত (Orographic Rain)। আমার মতে এর সাথে বাংলাদেশের বৃষ্টিপাতের যথেষ্ট মিল আছে।

    শৈলোৎক্ষেপ বৃষ্টি কী: জলীয়বাষ্পপূর্ণ উষ্ণ বায়ু পাহাড় বা পর্বতে বাধা পেয়ে ঢাল বেয়ে উপরে ওঠে, শীতল হয়ে ঘনীভূত হয় এবং প্রচুর বৃষ্টি ঘটায়।

    ১. বর্ষাকালের মৌসুমি বায়ু: বাংলাদেশে বর্ষাকালে দক্ষিণ-পশ্চিম মৌসুমি বায়ু ভারত মহাসাগর ও বঙ্গোপসাগরের উপর দিয়ে আসার সময় প্রচুর জলীয়বাষ্প সংগ্রহ করে। এ জলীয়বাষ্প শৈলোৎক্ষেপ প্রক্রিয়ায় বাংলাদেশে প্রচুর বৃষ্টিপাত ঘটায়। বছরের মোট বৃষ্টির প্রায় ৮০ ভাগ এ সময়ে হয়। মেঘালয়েও একই বায়ু পাহাড়ে বাধা পেয়ে ভারী বৃষ্টি ঘটায়।
    ২. একই সময়কাল: মেঘালয়ে বৈশাখ থেকে ভাদ্র মাস পর্যন্ত বৃষ্টি হয়। বাংলাদেশেও গ্রীষ্মের শেষ ও বর্ষাকালে ভারী বৃষ্টিপাত হয়। অর্থাৎ বৃষ্টির মৌসুম প্রায় একই।
    ৩. ভৌগোলিক সম্পর্ক: মেঘালয় বাংলাদেশের উত্তরে অবস্থিত। সেখানের ভারী বৃষ্টির পানি নদী বেয়ে সিলেট, সুনামগঞ্জসহ উত্তর-পূর্বাঞ্চলে নেমে আসে এবং বন্যার সৃষ্টি করে। উদ্দীপকে মেঘালয়ে বন্যার উল্লেখ তাই বাংলাদেশের সাথে সংযোগ নির্দেশ করে।
    ৪. পার্থক্য: মেঘালয়ে পাহাড়ের কারণে বৃষ্টির পরিমাণ অনেক বেশি। বাংলাদেশের সমতলে কিছু ক্ষেত্রে পরিচলন বৃষ্টি ও ঘূর্ণি বৃষ্টিও হয়।

    সুতরাং, বৃষ্টিপাতের ধরন ও মৌসুম একই হওয়ায় মেঘালয় ও বাংলাদেশের বৃষ্টিপাতের মধ্যে মিল আছে।

আরও প্রশ্ন অনুশীলন করতে অ্যাপে যাও

সম্পর্কিত প্রশ্ন