যুক্তিবিদ্যা ১ম পত্র • Sylhet Board • সিলেট বোর্ড ২০১৭

যুক্তিবিদ্যা ১ম পত্র প্রশ্ন

  1. ক)

    কারণ কী?

    (1)
  2. খ)

    কারণ ও শর্ত এক নয় কেন?

    (2)
  3. গ)

    উদ্দীপকের সাথে তোমার পাঠ্যপুস্তকের কোন বিষয়ের মিল রয়েছে?

    (3)
  4. ঘ)

    উদ্দীপকে উল্লেখিত মতবাদটি কি গ্রহণযোগ্য? তোমার মতামত দাও।

    (4)

উত্তর ও ব্যাখ্যা

  1. ক)

    AI-তৈরি নমুনা উত্তর

    যুক্তিবিদ কার্ভেথ রিডের মতে, গুণের দিক থেকে কারণ হলো কার্যের নিয়ত, শর্তহীন ও অব্যবহিত পূর্ববর্তী ঘটনা এবং পরিমাণের দিক থেকে কারণ হলো কার্যের সমান। সংক্ষেপে, কার্য সংগঠনের জন্য প্রয়োজনীয় অনুকূল ও প্রতিকূল শর্তসমূহের সমষ্টিই হলো কারণ।

  2. খ)

    AI-তৈরি নমুনা উত্তর

    কারণ ও শর্ত এক নয়, কারণ এদের মধ্যে সামগ্রিক ও আংশিক সম্পর্ক রয়েছে। কারণ হলো কার্যের পূর্ববর্তী কোনো ঘটনার অনুকূল ও প্রতিকূল সব শর্তের সমষ্টি। পক্ষান্তরে, শর্ত হলো কারণের একটি অপরিহার্য অংশবিশেষ মাত্র। একাধিক সদর্থক ও নঞর্থক শর্ত একত্রে মিলিত হয়ে একটি কারণ গঠন করে, তাই শর্ত কখনো এককভাবে পূর্ণ কারণ হতে পারে না।

  3. গ)

    AI-তৈরি নমুনা উত্তর

    উদ্দীপকের সাথে পাঠ্যপুস্তকের যুক্তিবিদ্যা দ্বিতীয় পত্রের 'বহুকারণবাদ' (Plurality of Causes) প্রত্যয়টির মিল রয়েছে।

    উদ্দীপকের ছকে দেখা যাচ্ছে, 'তাপ' রূপ একটি কার্য বিভিন্ন উৎস যেমন—সূর্যালোক, আগুন এবং বিদ্যুৎ থেকে সৃষ্টি হতে পারে। অর্থাৎ একই কার্য ভিন্ন ভিন্ন সময়ে ভিন্ন ভিন্ন কারণের দ্বারা উৎপন্ন হচ্ছে। বহুকারণবাদের মূল কথা হলো, একই কার্য সবসময় একটি নির্দিষ্ট কারণ দ্বারা উৎপন্ন না হয়ে বিভিন্ন সময়ে বিভিন্ন কারণ দ্বারা উৎপন্ন হতে পারে। জন স্টুয়ার্ট মিল ও কার্ভেথ রিডের মতো যুক্তিবিদরা বহুকারণবাদের সমর্থক ছিলেন। উদ্দীপকে তাপকে একটি সাধারণ কার্য হিসেবে উপস্থাপন করে সূর্যালোক, আগুন ও বিদ্যুৎকে এর পৃথক পৃথক কারণ হিসেবে দেখানো হয়েছে, যা সরাসরি বহুকারণবাদ ধারণাকে প্রতিফলিত করে।

  4. ঘ)

    AI-তৈরি নমুনা উত্তর

    উদ্দীপকে উল্লেখিত 'বহুকারণবাদ' মতবাদটি বৈজ্ঞানিক ও যুক্তিবিদ্যার মৌলিক নিয়মের দৃষ্টিকোণ থেকে গ্রহণযোগ্য নয়। নিচে আমার মতামত তুলে ধরা হলো:

    ১. কার্যকারণ নিয়মের লঙ্ঘন: যুক্তিবিদ্যার মৌলিক কার্যকারণ নীতি অনুসারে, 'একই কারণের একই কার্য থাকে এবং একই কার্যের একটিই কারণ থাকে।' বহুকারণবাদ এই সার্বিক নিয়মকে অস্বীকার করে।

    ২. কার্যের সাধারণীকরণ বা শিথিল অর্থ গ্রহণ: বহুকারণবাদীরা কার্যকে সুনির্দিষ্টভাবে বিবেচনা না করে সাধারণ বা ব্যাপক অর্থে গ্রহণ করেন। যেমন—উদ্দীপকে 'তাপ'কে একটি সাধারণ কার্য বলা হয়েছে। কিন্তু সূর্যালোকজাত তাপ, আগুন থেকে উৎপন্ন তাপ এবং বিদ্যুৎজাত তাপের প্রকৃতি, তীব্রতা ও গুণগত বৈশিষ্ট্য সম্পূর্ণ আলাদা। এদেরকে বৈজ্ঞানিকভাবে বিশ্লেষণ করলে দেখা যায় প্রতিটি ভিন্ন কার্যের জন্য সুনির্দিষ্ট ভিন্ন কারণ বিদ্যমান।

    ৩. কারণের শিথিল অর্থ গ্রহণ: একইভাবে কারণকে সাধারণ অর্থে বিবেচনা না করে যদি বিশেষ বৈজ্ঞানিক রূপে বিশ্লেষণ করা হয়, তবে দেখা যাবে আণবিক বা পরমাণবিক গতির ফলেই শেষ পর্যন্ত সব ক্ষেত্রে তাপ সৃষ্টি হয়। অর্থাৎ প্রকৃত কারণ একটাই—পদার্থের অণুগুলোর গতি বৃদ্ধি।

    অতএব, সাধারণ বা লৌকিক দৃষ্টিতে বহুকারণবাদ বাস্তব মনে হলেও গভীর বৈজ্ঞানিক ও যুক্তিভিত্তিক বিচারে এটি একটি ভ্রান্ত ও অগ্রহণযোগ্য মতবাদ।

আরও প্রশ্ন অনুশীলন করতে অ্যাপে যাও

সম্পর্কিত প্রশ্ন