যুক্তিবিদ্যা ২য় পত্র • Chattogram Board • চট্টগ্রাম বোর্ড ২০২৬
যুক্তিবিদ্যা ২য় পত্র প্রশ্ন
দৃষ্টান্ত-১ : রবীন্দ্রনাথ হন সৃজনশীলনজরুল হন সৃজনশীলসুকান্ত হন সৃজনশীলঅতএব, সকল কবি হন সৃজনশীল।দৃষ্টান্ত-২ : আমি এ যাবৎ যত পিৎজা খেয়েছি সবই সুস্বাদু।অতএব, সকল পিৎজাই সুস্বাদু।দৃষ্টান্ত-৩ : চতুর্ভুজ হলো চার বাহু দ্বারা বেষ্টিত সমতল ক্ষেত্র।
- ক)(1)
আরোহ কী?
- খ)(2)
আরোহমূলক লম্ফকে আরোহের প্রাণ বলা হয় কেন?
- গ)(3)
দৃষ্টান্ত-৩-এ নির্দেশিত আরোহের বৈশিষ্ট্যগুলো ব্যাখ্যা কর।
- ঘ)(4)
দৃষ্টান্ত-১ ও দৃষ্টান্ত-২-এ যে বিষয়ের পরিচয় পাওয়া যায় তার পার্থক্য নির্ণয় কর।
উত্তর ও ব্যাখ্যা
- ক)
AI-তৈরি নমুনা উত্তর
বিশেষ বিশেষ দৃষ্টান্ত বা ঘটনার অভিজ্ঞতার ওপর ভিত্তি করে একটি সার্বিক সংশ্লেষক যুক্তিবাক্য প্রতিষ্ঠা করার প্রক্রিয়াকে আরোহ অনুমান বলে।
- খ)
AI-তৈরি নমুনা উত্তর
জানা থেকে অজানায়, দৃশ্যমান থেকে অদৃশ্যমানে কিংবা বিশেষ থেকে সার্বিকে পদার্পণ করাকেই আরোহমূলক লম্ফ বলে। আরোহ অনুমানের মূল লক্ষ্য হলো বিশেষ দৃষ্টান্ত পর্যবেক্ষণ করে সমগ্র শ্রেণি সম্পর্কে সিদ্ধান্ত গ্রহণ করা। এই লম্ফ বা উল্লম্ফন না থাকলে কোনো সিদ্ধান্তই সার্বিক হতে পারে না এবং আরোহের কোনো নতুন জ্ঞানের সৃষ্টি হয় না। যুক্তিবিদ বেইন আরোহমূলক লম্ফকে আরোহের প্রাণ বা মূল বৈশিষ্ট্য হিসেবে অভিহিত করেছেন, কারণ এর মাধ্যমেই আরোহ তার স্বতন্ত্র মর্যাদা লাভ করে।
- গ)
AI-তৈরি নমুনা উত্তর
দৃষ্টান্ত-৩ এ নির্দেশিত বিষয়টি হলো 'যুক্তিসাম্যমূলক আরোহ' (Induction by Parity of Reasoning), যা অপ্রকৃত আরোহের একটি রূপ। এখানে একটি বিশেষ ক্ষেত্র (চতুর্ভুজ) সম্পর্কে যা সত্য বলে প্রমাণিত হয়, যুক্তির সমতার ভিত্তিতে সেই শ্রেণির সমজাতীয় সব ক্ষেত্রের জন্যই তা সত্য বলে গ্রহণ করা হয়।
এর প্রধান বৈশিষ্ট্যগুলো নিচে উল্লেখ করা হলো:
১. আরোহমূলক লম্ফের অনুপস্থিতি: এতে জানা থেকে অজানায় যাওয়ার মতো কোনো আরোহমূলক লম্ফ থাকে না, ফলে এটি অপ্রকৃত আরোহ।
২. যুক্তির সমতার ওপর নির্ভরশীল: কোনো একটি নির্দিষ্ট জ্যামিতিক প্রমাণের ভিত্তি অন্য সব অনুরূপ ক্ষেত্রের ওপর সমভাবে প্রযোজ্য ধরে নেওয়া হয়।
৩. সিদ্ধান্ত নিশ্চিত: এই অনুমানের সিদ্ধান্ত সম্ভাব্য নয়, বরং অবরোহ অনুমানের মতো সুনিশ্চিত হয়।
৪. সার্বিক সংশ্লেষক বাক্য গঠন করে না: এর সিদ্ধান্ত মূলত অবধারণ বা বিশ্লেষক প্রকৃতির হয়। - ঘ)
AI-তৈরি নমুনা উত্তর
উদ্দীপকের দৃষ্টান্ত-১ নির্দেশ করছে বৈজ্ঞানিক আরোহ এবং দৃষ্টান্ত-২ নির্দেশ করছে অবৈজ্ঞানিক আরোহ। এ দুটি বিষয়ের মধ্যে মৌলিক কিছু পার্থক্য বিদ্যমান:
১. কার্যকারণ সম্পর্ক: দৃষ্টান্ত-১ (বৈজ্ঞানিক আরোহ) প্রকৃতির নিয়মানুবর্তিতা নীতি ও কার্যকারণ সম্পর্কের ওপর ভিত্তি করে প্রতিষ্ঠিত। কিন্তু দৃষ্টান্ত-২ (অবৈজ্ঞানিক আরোহ) কেবল অবাধ ও অনুকূল অভিজ্ঞতার ওপর নির্ভরশীল; এতে কার্যকারণ সম্পর্কের কোনো বিচার করা হয় না।
২. সিদ্ধান্তের প্রকৃতি: দৃষ্টান্ত-১ এর সিদ্ধান্ত প্রায় নিশ্চিত বা অকাট্য হয়ে থাকে। পক্ষান্তরে, দৃষ্টান্ত-২ এর সিদ্ধান্ত সর্বদা সম্ভাব্য (probable), কারণ ভবিষ্যতে একটিমাত্র বিরুদ্ধ দৃষ্টান্ত এই সিদ্ধান্তকে মিথ্যা প্রমাণ করতে পারে।
৩. অভিজ্ঞতার প্রকৃতি: বৈজ্ঞানিক আরোহে ঘটনা গভীরভাবে বিশ্লেষণ ও পরীক্ষণ করা হয়। কিন্তু অবৈজ্ঞানিক আরোহে কেবল বাহ্যিক ও অবাধ অভিজ্ঞতার ওপর ভিত্তি করে একটি সার্বিক বাক্য গঠন করা হয়।
৪. বৈজ্ঞানিক মূল্য: বৈজ্ঞানিক আরোহের মূল্য অপরিসীম এবং এটি বিজ্ঞানের মৌলিক ভিত্তি। অপরপক্ষে, অবৈজ্ঞানিক আরোহ সাধারণ মানুষের দৈনন্দিন চিন্তার প্রতিফলন এবং এর মূল্য তুলনামূলকভাবে কম।সুতরাং, দৃষ্টান্ত-১ ও দৃষ্টান্ত-২ যথাক্রমে বৈজ্ঞানিক ও অবৈজ্ঞানিক আরোহের প্রতিনিধিত্ব করে এবং এদের মধ্যকার পার্থক্য গুণগত ও তাৎপর্যপূর্ণ।
আরও প্রশ্ন অনুশীলন করতে অ্যাপে যাও