সাহিত্য পাঠ • আত্মচরিত • Barishal Board • বরিশাল বোর্ড ২০২২
সাহিত্য পাঠ প্রশ্ন
সুন্দরগঞ্জ সরকারি প্রাথমিক বিদ্যালয়ের প্রধান শিক্ষক রায়হান চৌধুরী সত্যের পথে থেকে সারা জীবন অতিবাহিত করেছেন। তিনি মিথ্যা, ভÐামি পছন্দ করতেন না। তিনি মনে করতেন, মিথ্যা ক্ষণিকের লুকোচুরি খেলা যা মানুষের আত্মবিশ্বাসকে দুর্বল করে দেয়। শিক্ষার্থীদেরও তিনি মিথ্যাকে পরিহার করে সত্যের সুকঠিন পথে চলার উপদেশ দিতেন। তিনি শিক্ষার্থীদের বলতেন, “সত্যই একমাত্র নিজেকে পুরোপুরি আত্মবিশ্বাসের সাথে দাঁড়াতে সাহায্য করে।”
- ক)(1)
সবচেয়ে বড় ধর্ম কোনটি?
- খ)(2)
‘অভিশাপ-রথের সারথি’ কথাটি দ্বারা কী বোঝানো হয়েছে? ব্যাখ্যা কর।
- গ)(3)
উদ্দীপকের সাথে ‘আমার পথ’ প্রবন্ধের কোন বিশেষ দিকটির মিল রয়েছে? আলোচনা কর।
- ঘ)(4)
‘সত্যের সুকঠিন পথ’ বর্তমান সমাজ পরিবর্তনের আলোর পথ নির্দেশক- উদ্দীপক ও ‘আমার পথ’ প্রবন্ধের আলোকে ব্যাখ্যা কর।
উত্তর ও ব্যাখ্যা
- ক)
AI-তৈরি নমুনা উত্তর
কাজী নজরুল ইসলামের ‘আমার পথ’ প্রবন্ধ অনুসারে সবচেয়ে বড় ধর্ম হলো ‘মানুষ ধর্ম’।
- খ)
AI-তৈরি নমুনা উত্তর
‘অভিশাপ-রথের সারথি’ কথাটি দ্বারা সমাজের প্রচলিত জীর্ণতা, কুসংস্কার ও অন্যায়কে ধ্বংস করার বিদ্রোহী রূপকে বোঝানো হয়েছে।
প্রাবন্ধিক কাজী নজরুল ইসলাম সত্যের স্পষ্টভাষী প্রকাশকে কোনো কোনো ভণ্ড বা কুসংস্কারাচ্ছন্ন মানুষের কাছে ‘অভিশাপ’ মনে হতে পারে বলে উল্লেখ করেছেন। তবে এই তথাকথিত অভিশাপ মূলত পুরাতন ও অসত্যকে বিনাশ করে সত্য ও শুভকে প্রতিষ্ঠা করার সংকেত বহন করে। প্রাবন্ধিক নিজেকে সেই সত্যের রথের চালক বা সারথি হিসেবে উপস্থাপন করেছেন, যা সমাজের ভণ্ডামির অবসান ঘটিয়ে সত্যের জয়গান গাইতে উদ্যত।
- গ)
AI-তৈরি নমুনা উত্তর
উদ্দীপকের সাথে ‘আমার পথ’ প্রবন্ধের ‘সত্যের সাধনা ও আত্মবিশ্বাসের জাগরণ’— এই বিশেষ দিকটির গভীর মিল রয়েছে।
‘আমার পথ’ প্রবন্ধে প্রাবন্ধিক কাজী নজরুল ইসলাম স্পষ্ট ভাষায় বলেছেন যে, আত্মাকে চিনলে এবং সত্যকে অন্তরে ধারণ করলেই মানুষের মাঝে অটুট আত্মবিশ্বাস জন্ম নেয়। মিথ্যা বা ভণ্ডামি মানুষকে পরনির্ভরশীল ও ভীরু করে তোলে, অপরদিকে সত্যের সুকঠিন পথ মানুষকে নির্ভীক ও স্বাবলম্বী হতে শেখায়। সত্যের প্রকাশে কোনো লুকোচুরি বা দ্বিধা থাকতে পারে না।
উদ্দীপকের শিক্ষক রায়হান চৌধুরীও সত্যের পথে অবিচল থেকে মিথ্যা ও ভণ্ডামিকে ঘৃণা করেছেন। তিনি বিশ্বাস করতেন, মিথ্যা মানুষের ভেতরের আত্মবিশ্বাসকে বিনষ্ট করে এবং সত্যই মানুষকে দৃঢ় আত্মবিশ্বাসের সাথে দাঁড়াতে সহায়তা করে। সত্যনিষ্ঠা এবং আত্মবিশ্বাসী মানসিকতা গঠনের এই মূল সুরেই উদ্দীপকটি ‘আমার পথ’ প্রবন্ধের সাথে সাদৃশ্যপূর্ণ।
- ঘ)
AI-তৈরি নমুনা উত্তর
‘সত্যের সুকঠিন পথ’ বর্তমান সমাজ পরিবর্তনের আলোর পথ নির্দেশক— মন্তব্যটি উদ্দীপক এবং ‘আমার পথ’ প্রবন্ধের আলোকে অত্যন্ত যথার্থ ও বাস্তবসম্মত।
বর্তমান সমাজ অনেকাংশেই মিথ্যা, ভণ্ডামি, কপটতা ও পরনির্ভরশীলতায় নিমজ্জিত। মানুষ অন্যায়ের প্রতিবাদ করতে ভয় পায় এবং আত্মমর্যাদাহীন হয়ে অন্যের ওপর অন্ধভাবে নির্ভর করে। কাজী নজরুল ইসলাম তাঁর ‘আমার পথ’ প্রবন্ধে দেখিয়েছেন যে, নিজের মধ্যস্থ সত্যকে চেনা এবং তা নির্ভীক চিত্তে প্রকাশ করাই হলো মুক্তির উপায়। সত্যের পথ কঠিন ও কণ্টকাকীর্ণ হতে পারে, কিন্তু সেই সত্যই একমাত্র ভণ্ডামি ও অন্ধ আনুগত্য থেকে সমাজকে আলোর দিশা দিতে পারে।
উদ্দীপকের প্রধান শিক্ষক রায়হান চৌধুরীও শিক্ষার্থীদের এই শিক্ষাই দেন যে, মিথ্যা হলো ক্ষণিকের প্রতারণা যা আত্মবিশ্বাসকে চূর্ণ করে; পক্ষান্তরে সত্যের সুকঠিন পথই মানুষকে আত্মমর্যাদার সাথে দাঁড়াতে শেখায়। আজকের সমাজে যেখানে দুর্নীতির বিস্তার ও মূল্যবোধের অবক্ষয় প্রকট, সেখানে সত্যের সাধনাই একমাত্র ইতিবাচক পরিবর্তন আনতে পারে। সত্যের শক্তিতে বলীয়ান হয়ে তরুণ প্রজন্ম যদি মিথ্যার মুখোশ উন্মোচন করতে পারে, তবেই সমাজে সাম্য ও ন্যায়ের প্রতিষ্ঠা ঘটবে।
অতএব, অন্ধত্ব ও কুসংস্কার দূর করে একটি আলোকিত, আত্মনির্ভরশীল ও নৈতিক সমাজ গঠনের জন্য ‘সত্যের সুকঠিন পথ’ অনুসরণ করাই একমাত্র আলোর পথ নির্দেশক।
আরও প্রশ্ন অনুশীলন করতে অ্যাপে যাও