ব্যবসায় উদ্যোগ • Jashore Board • যশোর বোর্ড ২০২৪
ব্যবসায় উদ্যোগ প্রশ্ন
জনাব আলম ও তার চার বন্ধু অনলাইনে পোশাক বিক্রি করার জন্য "পারফেক্ট ফ্যাশনস" নামে একটি সংগঠন চুক্তির ভিত্তিতে গড়ে তোলেন। তাদের প্রতিষ্ঠানে জনাব আলম ও তার এক বন্ধু পরিচালক হিসাবে দায়িত্ব পালন করেন। তাদের প্রদত্ত মূলধনের পরিমাণ দুই কোটি টাকা। ব্যবসায়টি লাভজনক হওয়ায় তারা সংগঠনের ধরন পরিবর্তন করে তা সম্প্রসারণের সিদ্ধান্ত নিলেন। ব্যাংক ঋণের জটিলতার কথা চিন্তা করে তারা নিজেদের মধ্যে শেয়ার বিক্রয়ের মাধ্যমে অতিরিক্ত তিন কোটি টাকা মূলধন সংগ্রহের সিদ্ধান্ত নিলেন।
- ক)(1)
সমবায়ের প্রধান নীতিটি কী?
- খ)(2)
সংগঠন কখন নামের অংশ হিসেবে সমবায় শব্দটি ব্যবহার করতে পারবে? ব্যাখ্যা করো।
- গ)(3)
মালিকানার ভিত্তিতে প্রথম পর্যায়ে গঠিত "পারফেক্ট ফ্যাশনস" সংগঠনটি কোন ধরনের? ব্যাখ্যা করো।
- ঘ)(4)
পারফেক্ট ফ্যাশনস' প্রতিষ্ঠানটি পরবর্তীতে কোম্পানি সংগঠনের ধরন অনুযায়ী মূলধন সংগ্রহ করার যৌক্তিকতা বিশ্লেষণ করো।
উত্তর ও ব্যাখ্যা
- ক)
সমবায়ের প্রধান নীতি হলো সমমনা, সমপেশা ও অর্থনৈতিক দিক থেকে সমশ্রেণির লোকেদের একতা।
- খ)
সমবায় আইন ২০০১ অনুযায়ী সমবায় সমিতি হিসেবে নিবন্ধিত বা অনুমোদিত হলেই কোনো সংগঠন তার নামের অংশ হিসেবে 'সমবায়' বা Cooperative শব্দটি ব্যবহার করতে পারে। নিবন্ধন ছাড়া কোনো ব্যক্তি, সংঘ বা সংগঠন এই শব্দ ব্যবহার করতে পারে না। নিবন্ধন ব্যতীত 'সমবায়' শব্দের ব্যবহার নিষিদ্ধ।
- গ)
প্রথম পর্যায়ে গঠিত 'পারফেক্ট ফ্যাশনস' সংগঠনটি মালিকানার ভিত্তিতে অংশীদারি ব্যবসায়।
১. দুই বা ততোধিক ব্যক্তি চুক্তির ভিত্তিতে মূলধন বিনিয়োগ করে একত্রে ব্যবসায় পরিচালনা করলে এবং লাভ-ক্ষতি ভাগ করে নিলে তা অংশীদারি ব্যবসায়।
২. উদ্দীপকে আলম ও তাঁর চার বন্ধু মিলে চুক্তির ভিত্তিতে সংগঠন গড়েছেন এবং সবাই মূলধন দিয়েছেন।
৩. তাঁদের মধ্যে আলম ও এক বন্ধু ব্যবসায় পরিচালনার দায়িত্ব পালন করছেন।অতএব, মালিকানার ভিত্তিতে সংগঠনটি অংশীদারি ব্যবসায়।
- ঘ)
পারফেক্ট ফ্যাশনস ব্যাংকঋণের জটিলতা এড়াতে নিজেদের মধ্যে শেয়ার বিক্রি করে ৩ কোটি টাকা তুলতে চায়। এটি প্রাইভেট লিমিটেড কোম্পানি গঠনের মাধ্যমে মূলধন সংগ্রহের পদ্ধতি। প্রাইভেট লিমিটেড কোম্পানির সদস্যরা শুধু নিজেরাই শেয়ার কিনতে পারেন, জনগণের কাছে শেয়ার বিক্রির আমন্ত্রণ নিষিদ্ধ। এর যৌক্তিকতা:
১. ঋণের ঝামেলা এড়ানো: শেয়ার বিক্রির টাকা ফেরত দিতে হয় না এবং ব্যাংকঋণের জটিলতা বা সুদের চাপ থাকে না।
২. সীমিত দায়: কোম্পানিতে সদস্যদের দায় শেয়ার মূল্যের মধ্যে সীমাবদ্ধ, অংশীদারি ব্যবসায়ের মতো অসীম নয়।
৩. নিয়ন্ত্রণ বজায় রাখা: শেয়ার জনসাধারণের কাছে বিক্রি করা যায় না বলে মালিকানা ও নিয়ন্ত্রণ পরিচিত গোষ্ঠীর হাতেই থাকে।
৪. সদস্যসংখ্যা: এই কোম্পানিতে সর্বনিম্ন ২ জন ও সর্বোচ্চ ৫০ জন সদস্য থাকতে পারে, ৫ জন বন্ধুর জন্য এটি উপযোগী।সুতরাং, প্রাইভেট লিমিটেড কোম্পানির ধরন অনুযায়ী নিজেদের মধ্যে শেয়ার বিক্রি করে মূলধন সংগ্রহের সিদ্ধান্ত যৌক্তিক।
আরও প্রশ্ন অনুশীলন করতে অ্যাপে যাও