কৃষিশিক্ষা • Jashore Board • যশোর বোর্ড ২০২৪
কৃষিশিক্ষা প্রশ্ন
আজিজ মিয়া তার বাড়ির সামনে ৫০ শতাংশের ২.০০ মিটার গভীরতার পুকুরে মিশ্র মাছের চাষ করেন। বর্ষার শেষে তিনি লক্ষ করলেন তার পুকুরের মাছগুলোর কিছু সংখ্যক পেট ফুলে মরে ভেসে উঠেছে। তিনি এ. বিষয়ে উপজেলা মৎস্য কর্মকর্তার সাথে পরামর্শ করলে মৎস্য কর্মকর্তা তাকে কিছু পরামর্শ দেন। ফলে তার পুকুরে মাছের উৎপাদন আশানুরূপ পান'।
- ক)(1)
পারিবারিক খামার কাকে বলে?
- খ)(2)
মাছ খাবি খায় কেন? ব্যাখ্যা করো।
- গ)(3)
আজিজ মিয়ার পুকুরে যে রোগটি দেখা দিয়েছিল সে রোগটির লক্ষণ ও প্রতিকার বর্ণনা করো।
- ঘ)(4)
উদ্দীপকে মৎস্য কর্মকর্তার পরামর্শটি লাভজনক মৎস্যচাষে উক্তিটির যথার্থতা মূল্যায়ন করো।
উত্তর ও ব্যাখ্যা
- ক)
পরিবারের সদস্যদের শ্রম ও সহায়তায় বসতবাড়ির আশেপাশের জমিতে ফসল, গবাদিপশু, হাঁস-মুরগি ও মাছ উৎপাদনের যে সমন্বিত কার্যক্রম পরিচালিত হয়, তাকে পারিবারিক খামার বলে।
- খ)
পানিতে দ্রবীভূত অক্সিজেন (DO) কমে গেলে মাছ পানির উপরে ভেসে মুখ হা করে বাতাস নেওয়ার চেষ্টা করে, একেই মাছের খাবি খাওয়া বলে।
পুকুরে অতিরিক্ত সার বা খাদ্য দিলে, জৈব পদার্থ পচলে, অতিরিক্ত প্লাংকটন জন্মালে কিংবা মেঘলা আবহাওয়ায় ও ভোররাতে সালোকসংশ্লেষণ কমে গেলে পানিতে অক্সিজেনের ঘাটতি হয়। পুকুরে মাছের ঘনত্ব বেশি হলেও অক্সিজেন দ্রুত ফুরিয়ে যায়। এ অবস্থা দীর্ঘস্থায়ী হলে মাছ মারা যেতে পারে।
- গ)
আজিজ মিয়ার পুকুরের মাছের পেট ফুলে মরে ভেসে উঠেছে। এটি মাছের পেট ফোলা রোগ (Dropsy) এর লক্ষণ।
লক্ষণ:
১. মাছের পেট ফুলে যায় এবং পেটে পানি জমে।
২. মাছ খাবার খেতে চায় না, নিস্তেজ হয়ে পানির উপরে ভেসে থাকে।
৩. আঁইশ খাড়া হয়ে যায়, গায়ে ক্ষত দেখা দিতে পারে এবং শেষ পর্যন্ত মাছ মারা যায়।প্রতিকার:
১. আক্রান্ত ও মরা মাছ পুকুর থেকে তুলে মাটিতে পুঁতে ফেলতে হবে।
২. পুকুরে নিয়মিত চুন প্রয়োগ করে এবং প্রয়োজনে পানি পরিবর্তন করে পানির গুণাগুণ ঠিক রাখতে হবে।
৩. পরিমিত পরিমাণে মানসম্পন্ন খাদ্য দিতে হবে।
৪. রোগের মাত্রা বেশি হলে মৎস্য কর্মকর্তার পরামর্শ অনুযায়ী ওষুধ ব্যবহার করতে হবে। - ঘ)
মৎস্য কর্মকর্তার পরামর্শ অনুযায়ী পুকুর ব্যবস্থাপনার ফলে আজিজ মিয়ার মাছের উৎপাদন আশানুরূপ হয়েছে। এ থেকে বোঝা যায়, সঠিক পরামর্শ ও বৈজ্ঞানিক ব্যবস্থাপনা লাভজনক মৎস্যচাষের পূর্বশর্ত। উক্তিটি যথার্থ, কারণ:
১. রোগ নিয়ন্ত্রণ: সময়মতো রোগ শনাক্ত করে আক্রান্ত মাছ সরানো এবং চুন প্রয়োগসহ প্রতিকার নিলে মাছের মড়ক কমে ও ক্ষতি এড়ানো যায়।
২. পানির গুণাগুণ রক্ষা: বর্ষার পর পুকুরের পানি দূষিত হয় ও অক্সিজেন কমে যায়। পানি পরিবর্তন ও চুন প্রয়োগ করলে মাছ সুস্থভাবে বাড়ে।
৩. সুষম খাদ্য ও সার ব্যবস্থাপনা: পরিমিত খাদ্য ও সারে মাছের বৃদ্ধি ভালো হয়, খরচ কমে এবং ফলন বাড়ে।
৪. দক্ষ পরামর্শের সুবিধা: কর্মকর্তার পরামর্শে ভুল চিকিৎসা ও অপচয় এড়ানো যায়।সুতরাং, মৎস্য কর্মকর্তার পরামর্শ অনুসরণ করায় আজিজ মিয়ার মৎস্যচাষ লাভজনক হয়েছে এবং উক্তিটি যথার্থ।
আরও প্রশ্ন অনুশীলন করতে অ্যাপে যাও