পৌরনীতি ও নাগরিকতা • Cumilla Board • কুমিল্লা বোর্ড ২০২৪

পৌরনীতি ও নাগরিকতা প্রশ্ন

দৃশ্যকল্প-১: সুমন ফেব্রুয়ারির এক সকালে তার দাদার সাথে খালি পায়ে হাতে ফুল নিয়ে শহীদ মিনারে যায়। রাস্তায় শতশত মানুষের এরূপ দৃশ্য তাকে মুগ্ধ করে এবং দিনটি সম্পর্কে তাকে কৌতূহলী করে তোলে। তাই সে তার দাদার কাছে দিনটির তাৎপর্য সম্পর্কে জানতে চায়।দৃশ্যকল্প-২: স্বাধীনতার পূর্বে পাকিস্তানে সমমনা পাঁচটি রাজনৈতিক দল নিয়ে একটি নির্বাচনি জোট গঠন করা হয়। এ জোটের নির্বাচনি কর্মসূচি ছিলো ২১ দফা।

  1. ক)

    কীসের ভিত্তিতে পাকিস্তান রাষ্ট্রের সৃষ্টি হয়?

    (1)
  2. খ)

    আগরতলা মামলা কেন দায়ের করা হয়েছিল?

    (2)
  3. গ)

    দৃশ্যকল্প-১-এ কোন আন্দোলনের প্রতি ইঙ্গিত করা হয়েছে? পাঠ্যবইয়ের আলোকে ব্যাখ্যা করো।

    (3)
  4. ঘ)

    দৃশ্যকল্প-২-এর নির্বাচনি জোট তৎকালীন পূর্ব পাকিস্তানের স্বাধিকার আন্দোলনকে আরও যৌক্তিক প্রমাণ করেছিল- তুমি কি একমত? মতামত দাও!

    (4)

উত্তর ও ব্যাখ্যা

  1. ক)

    দ্বিজাতি তত্ত্বের ভিত্তিতে, অর্থাৎ ধর্মের ভিত্তিতে পাকিস্তান রাষ্ট্রের সৃষ্টি হয়।

  2. খ)

    ১৯৬৮ সালের জানুয়ারিতে পাকিস্তান সরকার আগরতলা মামলা দায়ের করে। অভিযোগ ছিল যে শেখ মুজিবুর রহমানসহ কিছু বাঙালি সামরিক-বেসামরিক ব্যক্তি ভারতের সহায়তায় আগরতলায় বসে পূর্ব পাকিস্তানকে বিচ্ছিন্ন করার ষড়যন্ত্র করেছেন।

    প্রকৃতপক্ষে ৬ দফা আন্দোলনের ক্রমবর্ধমান জনপ্রিয়তা দমন এবং শেখ মুজিবুর রহমানকে বাঙালির নেতৃত্ব থেকে সরিয়ে দেওয়ার উদ্দেশ্যেই এ মামলা দায়ের করা হয়েছিল।

  3. গ)

    দৃশ্যকল্প-১-এ ভাষা আন্দোলনের প্রতি ইঙ্গিত করা হয়েছে।

    সুমন ফেব্রুয়ারির সকালে দাদার সাথে খালি পায়ে ফুল নিয়ে শহীদ মিনারে যায়। এটি ২১ শে ফেব্রুয়ারি শহীদ দিবসের চিত্র।

    পাকিস্তান সৃষ্টির পর ১৯৪৮ সালে উর্দুকে একমাত্র রাষ্ট্রভাষা করার ঘোষণা দেওয়া হলে বাঙালিরা প্রতিবাদে ফেটে পড়ে। বাংলা ভাষাকে রাষ্ট্রভাষা করার দাবিতে আন্দোলন গড়ে ওঠে। ১৯৫২ সালের ২১ শে ফেব্রুয়ারি ১৪৪ ধারা ভেঙে মিছিল করলে পুলিশের গুলিতে সালাম, বরকত, রফিক, জব্বারসহ অনেকে শহীদ হন। তাদের আত্মত্যাগের ফলে ১৯৫৬ সালের সংবিধানে বাংলা অন্যতম রাষ্ট্রভাষার স্বীকৃতি পায়। শহীদদের স্মরণে সুমনের মতো মানুষ প্রতি বছর শহীদ মিনারে শ্রদ্ধা জানায়।

  4. ঘ)

    দৃশ্যকল্প-২-এর নির্বাচনি জোট হলো ১৯৫৪ সালের যুক্তফ্রন্ট, যার নির্বাচনি কর্মসূচি ছিল ২১ দফা। আমি একমত যে, এটি পূর্ব পাকিস্তানের স্বাধিকার আন্দোলনকে আরও যৌক্তিক প্রমাণ করেছিল।

    ১. জনগণের স্পষ্ট রায়: ২১ দফার ভিত্তিতে নির্বাচনে যুক্তফ্রন্ট ২৩৭টি মুসলিম আসনের মধ্যে ২২৩টিতে জয়ী হয়। এতে প্রমাণ হয়, বাঙালিরা মুসলিম লীগের শাসন ও বৈষম্য প্রত্যাখ্যান করেছে।
    ২. বাঙালির দাবির প্রতিফলন: ২১ দফায় বাংলাকে রাষ্ট্রভাষা করা, স্বায়ত্তশাসন, ভূমি ও কৃষি সংস্কার ইত্যাদি দাবি ছিল, যা পূর্ব বাংলার মানুষের আশা-আকাঙ্ক্ষার প্রকাশ।
    ৩. কেন্দ্রীয় সরকারের অগণতান্ত্রিক আচরণ: নির্বাচনের পর কেন্দ্রীয় সরকার যুক্তফ্রন্ট মন্ত্রিসভা ভেঙে দেয় এবং ৯২-ক ধারা জারি করে। এতে স্পষ্ট হয়, কেন্দ্রের অধীনে থেকে বাঙালির অধিকার আদায় সম্ভব নয়, ফলে স্বায়ত্তশাসনের দাবি আরও জোরালো হয়।
    ৪. পরবর্তী আন্দোলনের ভিত্তি: এ জয় পরবর্তীকালে ৬ দফা, ১৯৬৯ এর গণঅভ্যুত্থান ও স্বাধিকার আন্দোলনের পথ প্রস্তুত করে।

    সুতরাং, যুক্তফ্রন্টের নির্বাচনি বিজয় পূর্ব পাকিস্তানের স্বাধিকার আন্দোলনকে আরও যৌক্তিক ও শক্তিশালী করেছিল।

আরও প্রশ্ন অনুশীলন করতে অ্যাপে যাও

সম্পর্কিত প্রশ্ন