গার্হস্থ্য বিজ্ঞান • Dinajpur Board • দিনাজপুর বোর্ড ২০২৩

গার্হস্থ্য বিজ্ঞান প্রশ্ন

ফরিদ সাহেবের দুটি সন্তান নিশি ও নীরব। বড় মেয়ে নিশির বয়স ১০ বছর। তার শারীরিক বর্ধন ঠিকমত হচ্ছে না এবং চেহারাও ফ্যাকাশে হয়ে যাচ্ছে। অন্যদিকে ৪ বছর বয়সের নীরব ঠিকমতো পা সোজা করে হাঁটতে পারে না। তার বুকটা সরু হওয়ায় তাকে অনেকটা অস্বাভাবিক দেখায়।

  1. ক)

    চর্বিতে দ্রবণীয় ভিটামিন কাকে বলে?

    (1)
  2. খ)

    ভিটামিনের অপর নাম কী? ব্যাখ্যা করো।

    (2)
  3. গ)

    নিশি কোন রোগে ভুগছে? ব্যাখ্যা করো।

    (3)
  4. ঘ)

    নীরবের খাদ্য তালিকায় কোন ধরনের খাদ্য থাকা প্রয়োজন বলে তুমি মনে করো? মতামত দাও।

    (4)

উত্তর ও ব্যাখ্যা

  1. ক)

    যে ভিটামিন চর্বি বা তেলে দ্রবীভূত হয় এবং শরীরে সঞ্চিত থাকতে পারে, তাকে চর্বিতে দ্রবণীয় ভিটামিন বলে; যেমন ভিটামিন A, D, E ও K।

  2. খ)

    ভিটামিনের অপর নাম খাদ্যপ্রাণ।

    ভিটামিন শরীরে খুব অল্প পরিমাণে লাগে, কিন্তু শরীরের স্বাভাবিক বৃদ্ধি, রোগ প্রতিরোধ ও বিভিন্ন জৈব ক্রিয়া সুষ্ঠুভাবে চালানোর জন্য অপরিহার্য। এটি না থাকলে শরীর অসুস্থ হয়ে পড়ে এবং প্রাণশক্তি হ্রাস পায়; তাই একে খাদ্যপ্রাণ বলা হয়।

  3. গ)

    নিশির বয়স ১০ বছর, তার শারীরিক বর্ধন ঠিকমতো হচ্ছে না এবং চেহারা ফ্যাকাশে। এই লক্ষণগুলো রক্তশূন্যতা (অ্যানিমিয়া) রোগের।

    শরীরে আয়রন (লৌহ) ও অন্যান্য প্রয়োজনীয় উপাদানের অভাব হলে হিমোগ্লোবিন কম তৈরি হয়, ফলে রক্তের লোহিত কণিকা কমে যায়। এতে ত্বক ও চেহারা ফ্যাকাশে হয় এবং শরীর দুর্বল হয়ে বৃদ্ধি ব্যাহত হয়। সবুজ শাক, কলিজা, ডিম ইত্যাদি লৌহসমৃদ্ধ খাবার না খেলে বা খাদ্যে ঘাটতি থাকলে এ রোগ হতে পারে।

  4. ঘ)

    নীরবের বয়স ৪ বছর, সে ঠিকমতো পা সোজা করে হাঁটতে পারে না এবং তার বুক সরু। এই লক্ষণগুলো রিকেটস (Rickets) রোগের, যা ভিটামিন D ও ক্যালসিয়ামের অভাবে হয়। তাই তার খাদ্য তালিকায় এই উপাদানগুলোসমৃদ্ধ খাবার থাকা প্রয়োজন।

    ১. ভিটামিন D সমৃদ্ধ খাদ্য: ডিমের কুসুম, কলিজা, মাখন, দুধ ও সামুদ্রিক মাছ। এছাড়া সকালের সূর্যালোকে ত্বকে ভিটামিন D তৈরি হয়, তাই শিশুকে রোদে খেলতে দেওয়া উচিত।

    ২. ক্যালসিয়াম সমৃদ্ধ খাদ্য: দুধ ও দুগ্ধজাত খাবার, ছোট মাছ (কাঁটাসহ) ও সবুজ শাকসবজি, যা হাড় ও দাঁত শক্ত করে।

    ৩. সুষম খাদ্য: আমিষ ও অন্যান্য ভিটামিনসহ সুষম খাদ্য, যাতে হাড়ের সঠিক গঠন হয়।

    সুতরাং, নিয়মিত এসব খাবার ও রোদ পেলে নীরবের হাড় শক্ত হবে এবং সে স্বাভাবিকভাবে হাঁটতে পারবে।

আরও প্রশ্ন অনুশীলন করতে অ্যাপে যাও

সম্পর্কিত প্রশ্ন