যুক্তিবিদ্যা ২য় পত্র • Dinajpur Board • দিনাজপুর বোর্ড ২০১৯

যুক্তিবিদ্যা ২য় পত্র প্রশ্ন

হোসেন আলী একজন আরবি শিক্ষক। পুলিশের তালিকাভুক্ত সন্ত্রাসী হিমু হোসেন আলীর নিকট আরবি শেখেন। হোসেন আলী ও হিমু দেখতে প্রায় একই রকম। পুলিশ হিমুকে গ্রেফতার করতে গিয়ে হিমু মনে করে হোসেন আলীকে গ্রেফতার করে।

  1. ক)

    আরোহের প্রাণ কোনটি?

    (1)
  2. খ)

    অবৈধ সামান্যীকরণ ব্যাখ্যা করো।

    (2)
  3. গ)

    উদ্দীপকে পুলিশের সিদ্ধান্ত কোন আরোহকে ইঙ্গিত করে?

    (3)
  4. ঘ)

    উদ্দীপকে যে প্রকার আরোহের ইঙ্গিত পাওয়া যায় তোমার পাঠ্যবইয়ের আলোকে তার সাথে বৈজ্ঞানিক আরোহের পার্থক্য আলোচনা করো।

    (4)

উত্তর ও ব্যাখ্যা

  1. ক)

    AI-তৈরি নমুনা উত্তর

    আরোহের প্রাণ হলো 'আরোহমূলক উল্লম্ফন' (Inductive Leap)।

  2. খ)

    AI-তৈরি নমুনা উত্তর

    প্রকৃতির নিয়মানুবর্তিতা নীতি ও কার্যকারণ সম্পর্কের যথাযথ অনুসন্ধান না করে কেবল কয়েকটি দৃষ্টান্তের ওপর নির্ভর করে তাড়াহুড়ো করে কোনো সার্বিক সিদ্ধান্ত স্থাপন করলে যে অনুপপত্তি ঘটে, তাকে 'অবৈধ সামান্যীকরণ' (Illicit Generalization) বলে। যেমন— কেবল কয়েকজন অসৎ ব্যবসায়ীকে দেখে সিদ্ধান্ত নেওয়া যে, "সব ব্যবসায়ীই অসৎ"।

  3. গ)

    AI-তৈরি নমুনা উত্তর

    উদ্দীপকে পুলিশের সিদ্ধান্ত যুক্তিবিদ্যার 'সাদৃশ্যানুমান' (Analogy)-কে ইঙ্গিত করে, বিশেষ করে এটি একটি 'মন্দ বা দুষ্ট সাদৃশ্যানুমান' (Bad Analogy)।

    সাদৃশ্যানুমান হলো এমন এক প্রকার আরোহ অনুমান, যেখানে দুটি বস্তুর মধ্যে কয়েকটি বিষয়ে সাদৃশ্য দেখে অনুমান করা হয় যে তাদের মধ্যে অন্য কোনো বিষয়েও সাদৃশ্য থাকবে।

    উদ্দীপকে পুলিশ দেখতে পায় যে হোসেন আলী এবং তালিকাভুক্ত সন্ত্রাসী হিমুর শারীরিক গঠন ও চেহারায় মিল রয়েছে। এই বাহ্যিক চেহারার মিলের ভিত্তিতে পুলিশ হোসেন আলীকে হিমু বলে মনে করে এবং তাকে গ্রেফতার করে। এখানে কেবল বাহ্যিক ও অপ্রাসঙ্গিক সাদৃশ্যের ওপর ভিত্তি করে সিদ্ধান্ত নেওয়ায় এটি সাদৃশ্যানুমান (মন্দ সাদৃশ্যানুমান)-কে নির্দেশ করে।

  4. ঘ)

    AI-তৈরি নমুনা উত্তর

    উদ্দীপকে আরোহের যে রূপটি ইঙ্গিত করা হয়েছে তা হলো 'সাদৃশ্যানুমান' (বিশেষভাবে মন্দ সাদৃশ্যানুমান)। নিচে বৈজ্ঞানিক আরোহ ও সাদৃশ্যানুমানের মধ্যে পার্থক্য আলোচনা করা হলো:

    ১. প্রকৃতির নিয়মানুবর্তিতা ও কার্যকারণ সম্পর্ক: বৈজ্ঞানিক আরোহ প্রকৃতির একরূপতা নীতি ও কার্যকারণ সম্পর্কের ওপর প্রতিষ্ঠিত। পক্ষান্তরে, সাদৃশ্যানুমানে কার্যকারণ সম্পর্কের কোনো নিশ্চিত জ্ঞান থাকে না, এটি কেবল কয়েকটি বিষয়ের আপাত সাদৃশ্যের ওপর নির্ভর করে।

    ২. সিদ্ধান্তের প্রকৃতি: বৈজ্ঞানিক আরোহের সিদ্ধান্ত একটি সার্বিক সংশ্লেষক যুক্তিবাক্য এবং তা নিশ্চিত সত্য। কিন্তু সাদৃশ্যানুমানের সিদ্ধান্ত সর্বদা সম্ভাব্য (probable), কখনো নিশ্চিত নয়।

    ৩. দৃষ্টান্তের গুরুত্ব: বৈজ্ঞানিক আরোহে দৃষ্টান্তের গুণগত ও কার্যকারণ সম্পর্কযুক্ত দিক গুরুত্ব পায়। সাদৃশ্যানুমানে কেবল দুটি একক বস্তুর মধ্যে সাদৃশ্যের তুলনামূলক বিচার করা হয়।

    ৪. অনুমানের ভিত্তি: বৈজ্ঞানিক আরোহ গভীর পর্যবেক্ষণ ও পরীক্ষণ নির্ভর। কিন্তু সাদৃশ্যানুমান অনেক সময় বাহ্যিক ও আকস্মিক সাদৃশ্যের ওপর নির্ভর করে গড়ে ওঠে, যেমন উদ্দীপকে চেহারার মিল দেখে ভুল ব্যক্তি গ্রেফতার করা হয়েছে।

    অতএব, স্পষ্টতই বৈজ্ঞানিক আরোহ সাদৃশ্যানুমান অপেক্ষা অনেক বেশি সুনির্দিষ্ট, বৈজ্ঞানিক ও নিশ্চিত।

আরও প্রশ্ন অনুশীলন করতে অ্যাপে যাও

সম্পর্কিত প্রশ্ন