বাংলাদেশের ইতিহাস ও বিশ্বসভ্যতা • Chattogram Board • চট্টগ্রাম বোর্ড ২০২৬

বাংলাদেশের ইতিহাস ও বিশ্বসভ্যতা প্রশ্ন

দৃশ্য-১ : স্নেহ তার ভাইয়ের সাথে জামালপুরের গারো পাহাড়ে যায়। এই প্রথম তার পাহাড় দেখার অভিজ্ঞতা হয়। সে দেখে এখানে অনেক উঁচু উঁচু পাহাড় এবং সেখানে ক্ষুদ্র নৃগোষ্ঠীরা বসবাস করছে।
দৃশ্য-২ : রাহিবুল জনগণের ভোটে ইউনিয়ন পরিষদের চেয়ারম্যান নির্বাচিত হয়। নির্বাচিত হওয়ার পর এলাকার প্রতিনিধি হিসাবে বিভিন্ন উন্নয়ন কাজ সম্পাদন করেন।

  1. ক)

    জিগুরাত কী?

    (1)
  2. খ)

    মায়া সভ্যতা কী? ব্যাখ্যা করো।

    (2)
  3. গ)

    দৃশ্য-১ এর বসতির ন্যায় পাহাড়ের উপর কোন সভ্যতা গড়ে উঠেছে? ব্যাখ্যা করো।

    (3)
  4. ঘ)

    দৃশ্য-২ এ রাহিবুল কোন সরকার ব্যবস্থার মাধ্যমে প্রতিনিধি নির্বাচিত হয়েছে? এই সরকার ব্যবস্থা বর্তমান পৃথিবীতে এত জনপ্রিয় কেন? বিশ্লেষণ করো।

    (4)

উত্তর ও ব্যাখ্যা

  1. ক)

    জিগুরাত হলো প্রাচীন মেসোপটেমিয়ার মানুষের পাহাড়সদৃশ সিঁড়ির ধাপ কেটে তৈরি ধর্মমন্দির।

  2. খ)

    মায়া সভ্যতা আমেরিকার তিনটি প্রাচীন সভ্যতার একটি। এটি গুয়াতেমালা ও মেক্সিকোর পূর্বাঞ্চলে গড়ে ওঠে। মায়ারা প্রায় ৮০০টির বেশি ছবি বা চিহ্ন দিয়ে লিপি তৈরি করেছিল এবং গাছের বাকলের কাগজে কোডেক্স নামের বই বানাত। তারা শিম, ভুট্টা প্রভৃতি চাষ করত এবং বর্ষপঞ্জিকা তৈরি করেছিল। স্থাপত্য কাঠামোতেও তারা দক্ষ ছিল।

  3. গ)

    দৃশ্য-১ এর বসতির ন্যায় পাহাড়ের ওপর ইনকা সভ্যতা গড়ে উঠেছে।

    স্নেহ গারো পাহাড়ে উঁচু পাহাড় ও ক্ষুদ্র নৃগোষ্ঠীর বসতি দেখেছে। ইনকা সভ্যতাও পেরুর আন্দিজ পর্বতমালার পাহাড়ি এলাকায় গড়ে ওঠে।

    ১. ইনকাদের হারানো শহর মাচুপিকচু উরুবামবা নদীর ধারে সমুদ্রপৃষ্ঠ থেকে প্রায় ২৪০০ ফুট উচ্চতায় অবস্থিত।
    ২. ১৯১১ সালে হিরাম বিংহাম এর নিদর্শন আবিষ্কার করেন।
    ৩. ইনকা সাম্রাজ্য উত্তরে ইকুয়েডর থেকে দক্ষিণে চিলির মধ্যভাগ পর্যন্ত আন্দিজ পর্বতমালা জুড়ে বিস্তৃত ছিল।

    পাহাড়ি অঞ্চলে নগর গড়ার এই মিলের কারণে ইনকা সভ্যতাকেই বোঝানো হয়েছে।

  4. ঘ)

    দৃশ্য-২ এ রাহিবুল গণতান্ত্রিক সরকারব্যবস্থার মাধ্যমে জনগণের ভোটে প্রতিনিধি নির্বাচিত হয়েছেন। প্রাচীন গ্রিসের নগররাষ্ট্র এথেন্সে এর সূচনা হয় এবং পেরিক্লিসের সময় চূড়ান্ত রূপ পায়। বর্তমান বিশ্বে এ ব্যবস্থা জনপ্রিয় হওয়ার কারণ—

    ১. জনগণের অংশগ্রহণ: জনগণ ভোট দিয়ে নিজেদের প্রতিনিধি নির্বাচন করে, ফলে শাসনে তাদের মতামত প্রতিফলিত হয়।
    ২. অধিকার ও সমতা: সব নাগরিক রাজনৈতিক অধিকার ভোগ করে। পেরিক্লিস প্রশাসন ও বিচারে নাগরিকদের অবাধ অংশগ্রহণের অধিকার দিয়েছিলেন।
    ৩. জবাবদিহি: নির্বাচিত প্রতিনিধি জনগণের কাছে দায়বদ্ধ থাকেন এবং উন্নয়নমূলক কাজ করেন, যেমন রাহিবুল করেছেন।

    সুতরাং, জনগণের শাসন ও অধিকার নিশ্চিত করে বলেই গণতন্ত্র বর্তমান পৃথিবীতে এত জনপ্রিয়।

আরও প্রশ্ন অনুশীলন করতে অ্যাপে যাও

সম্পর্কিত প্রশ্ন