অর্থনীতি ২য় পত্র • Rajshahi Board • রাজশাহী বোর্ড ২০২২
অর্থনীতি ২য় পত্র প্রশ্ন
বৈদেশিক ঋণ ও সাহায্য দেশীয় অর্থনীতিকে গতিশীল করতে সাহায্য করে। তবে বেশিরভাগ ঋণ ও সাহায্যের সাথে কঠিন শর্ত থাকে। দাতা দেশসমূহ বিভিন্ন অজুহাতে দেশের অভ্যন্তরে হস্তক্ষেপ করে। স্বাধীনতার পর বাংলাদেশে প্রচুর বৈদেশিক ঋণ ও সাহায্য এসেছে যার বেশিরভাগই অপচয় ও দুর্নীতি হয়েছে। তাই আমাদের উচিত বৈদেশিক ঋণ ও সাহায্যের ওপর নির্ভরতা কমিয়ে নিত্যনতুন রপ্তানিমুখী দ্রব্যসমূহ উৎপাদন করা। ফলে এদেশ বৈদেশিক মুদ্রা অর্জনের মাধ্যমে স্বনির্ভরতা অর্জনের পথে এগিয়ে যাবে।
- ক)(1)
বিশ্বায়ন কী?
- খ)(2)
অপ্রচলিত রপ্তানি দ্রব্য বলতে কী বোঝায়?
- গ)(3)
উদ্দীপকের আলোকে বৈদেশিক ঋণ ও সাহায্যের ক্ষতিকর দিক উল্লেখ কর।
- ঘ)(4)
আমাদের দেশের অর্থনৈতিক স্বনির্ভরতা অর্জনের দিকসমূহ আলোচনা কর।
উত্তর ও ব্যাখ্যা
- ক)
AI-তৈরি নমুনা উত্তর
অর্থনৈতিক, সামাজিক ও সাংস্কৃতিক ক্ষেত্রে বিশ্বের বিভিন্ন দেশের মধ্যে পারস্পরিক যোগাযোগ ও পারস্পরিক নির্ভরশীলতা বৃদ্ধির মাধ্যমে সমগ্র বিশ্বকে একটি একক সমাজে বা বাজারে পরিণত করার প্রক্রিয়াকে বিশ্বায়ন (Globalization) বলে।
- খ)
AI-তৈরি নমুনা উত্তর
যেসব পণ্য অতীতে বিদেশে নিয়মিতভাবে উল্লেখযোগ্য পরিমাণে রপ্তানি করা হতো না, কিন্তু বর্তমানে আন্তর্জাতিক বাজারে যাদের চাহিদা সৃষ্টি হয়েছে এবং রপ্তানি তালিকায় নতুনভাবে স্থান পেয়ে বৈদেশিক মুদ্রা অর্জন করছে, সেগুলোকে অপ্রচলিত রপ্তানি দ্রব্য (Non-traditional export items) বলে।
উদাহরণস্বরূপ: তৈরি পোশাক, হিমায়িত চিংড়ি ও মাছ, চামড়াজাত দ্রব্যাদি, হস্তশিল্প, প্রক্রিয়াজাত খাদ্য, কৃষিজাত পণ্য ইত্যাদি বাংলাদেশের প্রধান অপ্রচলিত রপ্তানি দ্রব্য। এগুলো দেশের সামগ্রিক রপ্তানি আয়ে উল্লেখযোগ্য অবদান রাখছে।
- গ)
AI-তৈরি নমুনা উত্তর
উদ্দীপকে বৈদেশিক ঋণ ও সাহায্যের যেসব ক্ষতিকর বা নেতিবাচক দিকের কথা উল্লেখ করা হয়েছে, তা দেশের স্বকীয়তা ও টেকসই উন্নয়নের পরিপন্থী। নিম্নে তা বিশ্লেষণ করা হলো:
১. কঠিন শর্তযুক্ততা: বৈদেশিক ঋণ ও সাহায্যের সাথে দাতা দেশ ও সংস্থাগুলোর বিভিন্ন অনাকাঙ্ক্ষিত ও কঠোর শর্ত জুড়ে দেওয়া হয়, যা বাস্তবায়ন করতে গিয়ে গ্রহীতা দেশের অর্থনীতিতে সংকট সৃষ্টি হয়।
২. সার্বভৌমত্বে হস্তক্ষেপ: উদ্দীপকে বলা হয়েছে, দাতা দেশসমূহ ঋণের সূত্রে বিভিন্ন অজুহাতে দেশের অভ্যন্তরীণ নীতি নির্ধারণ ও রাজনীতিতে অনাকাঙ্ক্ষিত হস্তক্ষেপ করে, যার ফলে দেশের সার্বভৌমিকতা ক্ষুণ্ণ হয়।
৩. অপচয় ও দুর্নীতি: বৈদেশিক ঋণের মাধ্যমে আসা তহবিলের সুষ্ঠু তদারকি না থাকলে তার বেশিরভাগই অনুৎপাদনশীল খাতে অপচয় হয় এবং দুর্নীতির শিকার হয়ে অপব্যয় ঘটে, যা জাতীয় কোনো স্থায়ী সম্পদ সৃষ্টি করে না।
৪. ঋণের বোঝা বৃদ্ধি: ঋণ পরিশোধের উচ্চ সুদ ও কিস্তির চাপে দেশের অর্থনীতি জর্জরিত হয়ে পড়ে এবং একটি 'ঋণের ফাঁদ' (Debt Trap) তৈরি হয়।
সুতরাং, উদ্দীপকের আলোকে স্পষ্ট হয় যে বৈদেশিক ঋণ ও সাহায্য অর্থনীতির সাময়িক সহায়ক হলেও তা অভ্যন্তরীণ হস্তক্ষেপ, দুর্নীতির সুযোগ এবং দীর্ঘমেয়াদি অর্থনৈতিক পরনির্ভরতা বাড়িয়ে তোলে।
- ঘ)
AI-তৈরি নমুনা উত্তর
উদ্দীপকে বৈদেশিক ঋণ ও সাহায্যের ওপর নির্ভরতা কমিয়ে নিত্যনতুন রপ্তানিমুখী দ্রব্য উৎপাদনের মাধ্যমে স্বনির্ভরতা অর্জনের ওপর গুরুত্বারোপ করা হয়েছে। আমাদের দেশের অর্থনৈতিক স্বনির্ভরতা অর্জনের প্রধান দিকসমূহ নিচে আলোচনা করা হলো:
১. রপ্তানি পণ্যের বহুমুখীকরণ: বর্তমানে বাংলাদেশের রপ্তানি আয় মূলত তৈরি পোশাকের ওপর অতিমাত্রায় নির্ভরশীল। এই ঝুঁকি কমাতে চামড়া ও চামড়াজাত পণ্য, পাটজাত বহুমুখী পণ্য, ওষুধ, তথ্যপ্রযুক্তি (আইটি সেবা), জাহাজ নির্মাণ, সিরামিক এবং প্রক্রিয়াজাত কৃষিপণ্যের মতো নিত্যনতুন অপ্রচলিত পণ্যের উৎপাদন ও রপ্তানি বাড়াতে হবে।
২. নতুন আন্তর্জাতিক বাজার অনুসন্ধান: প্রচলিত ইউরোপ ও আমেরিকার বাজারের বাইরে আফ্রিকা, ল্যাটিন আমেরিকা ও এশিয়ার দেশগুলোতে বাংলাদেশি পণ্যের নতুন বাজার তৈরি করতে হবে।
৩. দেশীয় কাঁচামালের ব্যবহার ও ব্যাকওয়ার্ড লিংকেজ শিল্প স্থাপন: রপ্তানিমুখী শিল্পের প্রয়োজনীয় কাঁচামাল আমদানি না করে দেশেই উৎপাদন বাড়াতে হবে, ফলে রপ্তানি আয়ের নিট অংশ বৃদ্ধি পাবে।
৪. দক্ষ মানবসম্পদ সৃষ্টি ও রেমিট্যান্স বৃদ্ধি: প্রবাসে অদক্ষ শ্রমিকের পরিবর্তে দক্ষ ও কারিগরি জ্ঞানসম্পন্ন শ্রমিক প্রেরণের মাধ্যমে বৈদেশিক রেমিট্যান্স আয় বৃদ্ধি করা সম্ভব, যা বৈদেশিক মুদ্রার রিজার্ভ শক্তিশালী করবে।
৫. কৃষি ও খাদ্য নিরাপত্তা নিশ্চিতকরণ: খাদ্যে স্বয়ংসম্পূর্ণতা অর্জন করতে পারলে বিপুল পরিমাণ খাদ্য আমদানির ব্যয় হ্রাস পাবে, যা বৈদেশিক মুদ্রার সাশ্রয় ঘটাবে।
৬. দুর্নীতি প্রতিরোধ ও অপচয় রোধ: দেশীয় সম্পদের সর্বোচ্চ সদ্ব্যবহার এবং মেগা প্রকল্প বাস্তবায়নে স্বচ্ছতা নিশ্চিত করার মাধ্যমে অপচয় রোধ করতে হবে।
পরিশেষে বলা যায়, উদ্দীপকে নির্দেশিত রপ্তানিমুখী উন্নয়ন কৌশল এবং দেশীয় সম্পদের দক্ষ ব্যবহারের মাধ্যমেই বাংলাদেশ পরনির্ভরতা দূর করে দ্রুত অর্থনৈতিক স্বনির্ভরতা অর্জন করতে পারে।
আরও প্রশ্ন অনুশীলন করতে অ্যাপে যাও