পৌরনীতি ও নাগরিকতা • Cumilla Board • কুমিল্লা বোর্ড ২০২৫
পৌরনীতি ও নাগরিকতা প্রশ্ন
সাল | আন্দোলন | ফলাফল
১৯৫২ | ’ক’ | জাতীয়তাবাদের উদ্ভব
১৯৬৬ | ’খ’ | মুক্তির সনদ
- ক)(1)
কত সালে মুসলিমলীগ প্রতিষ্ঠিত হয়?
- খ)(2)
লাহোর প্রস্তাবকে 'পাকিস্তান প্রস্তাব' বলা হয় কেন? ব্যাখ্যা করো।
- গ)(3)
'ক' নির্দেশিত আন্দোলন কীভাবে জাতীয়তাবাদের উদ্ভব ঘটায়? ব্যাখ্যা করো।
- ঘ)(4)
'খ' আন্দোলনের মধ্যেই আমাদের স্বাধীনতার বীজ নিহিত- উক্তিটির যথার্থতা মূল্যায়ন করো।
উত্তর ও ব্যাখ্যা
- ক)
মুসলিম লীগ প্রতিষ্ঠিত হয় ১৯০৬ সালে।
- খ)
১৯৪০ সালে লাহোরে অনুষ্ঠিত মুসলিম লীগের অধিবেশনে এ কে ফজলুল হক প্রস্তাবটি উত্থাপন করেন। এতে ভারতের মুসলিম-প্রধান অঞ্চলগুলো নিয়ে স্বাধীন রাষ্ট্র গঠনের দাবি করা হয়। প্রস্তাবে 'পাকিস্তান' শব্দটি স্পষ্টভাবে ছিল না, কিন্তু হিন্দু-নিয়ন্ত্রিত পত্রপত্রিকা এটিকে 'পাকিস্তান প্রস্তাব' বলে প্রচার করে। পরে মুসলিম লীগও এ নামটি গ্রহণ করে। তাই লাহোর প্রস্তাবকে 'পাকিস্তান প্রস্তাব' বলা হয়।
- গ)
সালের ঘরে ১৯৫২ এবং ফলাফল জাতীয়তাবাদের উদ্ভব, তাই 'ক' হলো ভাষা আন্দোলন।
পাকিস্তান সরকার উর্দুকে একমাত্র রাষ্ট্রভাষা করার চেষ্টা করলে বাঙালি তা প্রত্যাখ্যান করে। ১৯৫২ সালের ২১ ফেব্রুয়ারি আন্দোলনে সালাম, রফিক, বরকত, জব্বারসহ অনেকে শহিদ হন। এ আন্দোলন বাঙালির মধ্যে নিজেদের ভাষা, সংস্কৃতি ও স্বাতন্ত্র্যবোধ জাগ্রত করে। এই বাঙালি জাতীয়তাবাদী চেতনা পরবর্তী সব আন্দোলনের ভিত্তি তৈরি করে। এভাবে ভাষা আন্দোলন জাতীয়তাবাদের উদ্ভব ঘটায়।
- ঘ)
১৯৬৬ সালের আন্দোলন হলো ছয় দফা আন্দোলন এবং এর ফলাফল মুক্তির সনদ। তাই 'খ' হলো ছয় দফা আন্দোলন। এই আন্দোলনের মধ্যেই স্বাধীনতার বীজ নিহিত, উক্তিটি যথার্থ।
১. স্বায়ত্তশাসনের দাবি: শেখ মুজিবুর রহমান ১৯৬৬ সালে ছয় দফা দাবি পেশ করেন। এতে অর্থনৈতিক ও রাজনৈতিক স্বায়ত্তশাসনের কথা ছিল।
২. বৈষম্যের বিরুদ্ধে প্রতিবাদ: পূর্ব পাকিস্তানের প্রতি অর্থনৈতিক ও রাজনৈতিক বৈষম্যের বিরুদ্ধে বাঙালির দাবি এতে স্পষ্ট ভাষা পায়।
৩. গণজাগরণ: ছয় দফা বাঙালিকে ঐক্যবদ্ধ করে এবং এর ধারাবাহিকতায় ১৯৬৯-এর গণঅভ্যুত্থান, ১৯৭০-এর নির্বাচন ও পরে ১৯৭১-এর মুক্তিযুদ্ধ সংগঠিত হয়।সুতরাং, ছয় দফা আন্দোলনই বাঙালির স্বাধীনতা সংগ্রামের ভিত্তি তৈরি করেছিল।
আরও প্রশ্ন অনুশীলন করতে অ্যাপে যাও