বাংলা ১ম পত্র • Barishal Board • বরিশাল বোর্ড ২০২৩
বাংলা ১ম পত্র প্রশ্ন
বাঙালি নারীর আত্ম জাগরণে যে নারীর অবদান বেশি, তিনি হলেন রোকেয়া সাখাওয়াত হোসেন। বিবাহের পর উদার মানসিকতার অধিকারী স্বামী সৈয়দ সাখাওয়াত হোসেনের পরম মমতায় ও সহযোগিতায় এবং নিজের ঐকান্তিক প্রচেষ্টায় তিনি স্বশিক্ষিত হয়ে উঠেন আত্মশুদ্ধি ও নিজের জানার জগৎকে পরিশুদ্ধ করার মধ্য দিয়ে তিনি সাহিত্যচর্চায় আত্মনিয়োগ করেন। তার সাহিত্য সাধনায় বাঙালি মুসলিম নারী সমাজই মুখ্য হয়ে ওঠেন। সাহিত্য সাধনায় যখন তিনি নিয়োজিত তখন হঠাৎ করে তাঁর প্রাণপ্রিয় স্বামী পরপারে যাত্রা করেন। এতে তিনি মর্মাহত হন। বিষাদপূর্ণ অন্তরে আপন কর্ম সম্পাদনের জন্য কলকাতায় সাখাওয়াত মেমোরিয়াল গালর্স স্কুল প্রতিষ্ঠা করেন। ফলে আজ বাঙালি নারী সমাজ মুক্ত-স্বাধীনভাবে উচ্চ শিক্ষা গ্রহণ করে সমাজে নিজেকে সুপ্রতিষ্ঠিত করছেন।
- ক)(1)
উত্তরী শব্দের অর্থ কী?
- খ)(2)
“বাতাবি নেবুর ফুল ফুটেছে কি? ফুটেছে কি আমের মুকুল"কবিতাংশে কবি কী বোঝাতে চেয়েছেন?
- গ)(3)
উদ্দীপকের বিষয়বস্তুর সাথে 'তাহারেই পড়ে মনে' কবিতার বিষয়বস্তুর সাদৃশ্য ও বৈসাদৃশ্য আলোচনা কর।
- ঘ)(4)
তুমি কি মনে কর যে উদ্দীপকের স্বামী বিয়োগের হাহাকার এবং 'তাহারেই পড়ে মনে কবিতায় কবির অন্তরের হাহাকার একই সূত্রে গাঁথা? পক্ষে বা বিপক্ষে যুক্তি দেখাও ।
উত্তর ও ব্যাখ্যা
- ক)
AI-তৈরি নমুনা উত্তর
'উত্তরী' শব্দের অর্থ চাদর বা উত্তরীয়।
- খ)
AI-তৈরি নমুনা উত্তর
উদ্ধৃত কবিতাংশে প্রকৃতির স্বাভাবিক সৌন্দর্য ও ঋতু পরিবর্তনের প্রতি কবির গভীর নির্লিপ্ততা ও উদাসীনতা প্রকাশ পেয়েছে।
বসন্ত ঋতুতে প্রকৃতিতে আম ও লেবুর মুকুল ফোটা স্বাভাবিক ঘটনা। কিন্তু কবি সুফিয়া কামাল স্বামী সৈয়দ নেহাল হোসেনের আকস্মিক মৃত্যুতে এক গভীর বিষাদে আচ্ছন্ন ছিলেন। প্রকৃতির বসন্ত বন্দনায় কবি কোনো আনন্দ বা উৎসাহ খুঁজে পাচ্ছিলেন না। তাই চারপাশের প্রাকৃতিক পরিবর্তনের খবর কবি নিজেই জানতেন না এবং ভক্তের প্রশ্নের উত্তরে উদাসীন কণ্ঠে এ প্রশ্নটি করেছেন।
- গ)
AI-তৈরি নমুনা উত্তর
উদ্দীপকের বিষয়বস্তুর সাথে 'তাহারেই পড়ে মনে' কবিতার বিষয়বস্তুর মধ্যে সাদৃশ্য হলো—স্বামীর মৃত্যুজনিত গভীর শোক ও শূন্যতা; আর বৈসাদৃশ্য হলো—শোক উত্তরণে কর্মোদ্যোগ বনাম কর্মবিমুখ নিঃসঙ্গ বিষাদ।
'তাহারেই পড়ে মনে' কবিতার মূল বিষয় হলো কবি সুফিয়া কামালের স্বামী ও কাব্যপ্রেরণার প্রধান উৎস সৈয়দ নেহাল হোসেনের অকাল প্রয়াণে কবির অন্তরে সৃষ্ট গভীর হাহাকার ও কর্মবিমুখতা। বসন্তের আগমনে প্রকৃতি অপরূপ সাজে সাজলেও কবির অন্তরে থাকে বিষাদের শীতের কুয়াশা, যা তাঁকে সাহিত্যচর্চা ও বসন্তবরণ থেকে পুরোপুরি নিরাসক্ত রাখে।
উদ্দীপকে দেখা যায়, বেগম রোকেয়াও তাঁর স্বামীর অনুপ্রেরণায় সাহিত্যচর্চায় নিয়োজিত হন এবং স্বামীর অকালমৃত্যুতে গভীরভাবে মর্মাহত হন। এদিক থেকে উভয় ক্ষেত্রেই স্বামীর বিয়োগব্যথা সাদৃশ্যপূর্ণ। তবে বৈসাদৃশ্য হলো, রোকেয়া সাখাওয়াত হোসেন স্বামীশোককে শক্তিতে রূপান্তর করে মেয়েদের শিক্ষার জন্য 'সাখাওয়াত মেমোরিয়াল গার্লস স্কুল' প্রতিষ্ঠা করেন এবং সামাজিক কর্মকাণ্ডে ব্রতী হন। পক্ষান্তরে, 'তাহারেই পড়ে মনে' কবিতার কবি সুফিয়া কামাল শোকের অতল গহ্বরে ডুবে থেকে সব ধরনের সৃষ্টিশীল কাজ ও উচ্ছ্বাস থেকে সম্পূর্ণ নিষ্ক্রিয় ও উদাসীন থাকেন।
- ঘ)
AI-তৈরি নমুনা উত্তর
উদ্দীপকের স্বামী বিয়োগের হাহাকার এবং 'তাহারেই পড়ে মনে' কবিতায় কবির অন্তরের হাহাকার ব্যক্তিগত অনুভূতির দিক থেকে একই সূত্রে গাঁথা হলেও তার বহিঃপ্রকাশ ও পরিণতির দিক থেকে ভিন্ন রূপ ধারণ করেছে। নিচে এর স্বপক্ষে যুক্তি তুলে ধরা হলো:
উভয় ক্ষেত্রেই দেখা যায়, স্বামী ছিলেন তাঁদের পথপ্রদর্শক, পরম শুভাকাঙ্ক্ষী এবং প্রেরণার প্রধান উৎস। বেগম রোকেয়ার স্বামী সৈয়দ সাখাওয়াত হোসেনের পরম মমতা ও সহযোগিতায় রোকেয়া স্বশিক্ষিত হন ও সাহিত্যচর্চায় নামেন; ঠিক একইভাবে 'তাহারেই পড়ে মনে' কবিতার কবির স্বামী সৈয়দ নেহাল হোসেন ছিলেন তাঁর সাহিত্যচর্চার প্রথম প্রেরণা। ফলে উভয়ের ক্ষেত্রেই স্বামীর আকস্মিক তিরোধান এক অপরিসীম শূন্যতা ও বেদনাময় হাহাকারের জন্ম দেয়। এই শোকানুভূতি ও বিয়োগব্যথার গভীরতার দিক দিয়ে দুটি ঘটনাই এক সূত্রে গাঁথা।
তবে এই হাহাকারের প্রভাব ও উত্তরণের প্রতিক্রিয়া দুই ক্ষেত্রে ভিন্ন। কবিতায় কবি সুফিয়া কামাল গভীর বিষাদে নিমজ্জিত হয়ে বসন্তের রূপ-রস-গন্ধে নির্লিপ্ত হয়ে পড়েন। তাঁর মন বিষাদময় শীতের রিক্ততায় বন্দি থাকে এবং তিনি সাহিত্যসৃষ্টি থেকে নিজেকে গুটিয়ে নেন। কিন্তু উদ্দীপকের বেগম রোকেয়া বিষাদপূর্ণ অন্তরেও স্বামীর স্মৃতি ও স্বপ্নকে বাঁচিয়ে রাখতে কর্মযজ্ঞে ঝাঁপিয়ে পড়েন এবং নারী শিক্ষার প্রসারে স্কুল প্রতিষ্ঠা করে সমাজ বদলে দেন।
সুতরাং পরিশেষে বলা যায়, প্রিয়তম স্বামীর বিয়োগজনিত শোকের তীব্রতা ও অনুভূতির উৎসমূল এক ও অভিন্ন হলেও, শোকের প্রতিক্রিয়া হিসেবে একজনের মধ্যে কর্মবিমুখ উদাসীনতা এবং অন্যজনের মধ্যে আত্মশক্তির পুনর্জাগরণ ঘটেছে।
আরও প্রশ্ন অনুশীলন করতে অ্যাপে যাও