বিজ্ঞান • Mymensingh Board • ময়মনসিংহ বোর্ড ২০২৫

বিজ্ঞান প্রশ্ন

গভীর সমুদ্রের তাপমাত্রা ২৭০ সেলসিয়াসের বেশি হলে সেখান থেকেই এক প্রকার দুর্যোগ সৃষ্টি হয়। আর একটি দুর্যোগ সৃষ্টি হয়েছিল ১৯৮৯ সালে, ঢাকা জেলার ডেমরা থানায়, যার বাতাসের গতিবেগ ছিল ঘণ্টায় প্রায় ৬০০-৭০০ কিলোমিটারের মধ্যে। এ রকম দুর্যোগ যে কোনো স্থানেই সংঘটিত হতে পারে।

  1. ক)

    প্রকৃতি সংরক্ষণশীলতা কাকে বলে?

    (1)
  2. খ)

    জনসংখ্যা বৃদ্ধি পরিবেশগত সমস্যার অন্যতম কারণ কেন?

    (2)
  3. গ)

    প্রথম দুর্যোগটির কবল থেকে রেহাই পেতে বাংলাদেশের প্রেক্ষাপটে করণীয় কী? ব্যাখ্যা কর।

    (3)
  4. ঘ)

    প্রথম দুর্যোগটি মোকাবেলায়, পূর্ব প্রস্তুতির সুযোগ থাকলেও দ্বিতীয় দুর্যোগটির ক্ষেত্রে তা সম্ভব নয়- বিশ্লেষণ কর।

    (4)

উত্তর ও ব্যাখ্যা

  1. ক)

    প্রকৃতির বিভিন্ন সম্পদ ও উপাদানকে সুষ্ঠু ও যুক্তিসংগতভাবে ব্যবহার করে ভবিষ্যৎ প্রজন্মের জন্য রক্ষা করা এবং পরিবেশের ভারসাম্য বজায় রাখাকে প্রকৃতি সংরক্ষণশীলতা বলে।

  2. খ)

    জনসংখ্যা বৃদ্ধি পেলে খাদ্য, বাসস্থান, জ্বালানি ও অন্যান্য প্রয়োজন বেড়ে যায়। এসব প্রয়োজন মেটাতে বন কেটে ফেলা হয়, কৃষিজমি ও নদী-জলাশয় ভরাট হয় এবং শিল্পকারখানা বাড়ে। ফলে বর্জ্য ও দূষণ বাড়ে এবং প্রাকৃতিক সম্পদের ওপর চাপ পড়ে। এভাবে জনসংখ্যা বৃদ্ধি পরিবেশগত সমস্যার অন্যতম কারণ হয়।

  3. গ)

    উদ্দীপকের প্রথম দুর্যোগটি ঘূর্ণিঝড়, যা গভীর সমুদ্রে তাপমাত্রা বেশি হলে সৃষ্টি হয়। ঘূর্ণিঝড়ের কবল থেকে রেহাই পেতে বাংলাদেশের প্রেক্ষাপটে করণীয়—
    ১. আবহাওয়া অধিদপ্তরের আগাম সতর্কবার্তা ও বিপদ-সংকেত প্রচার করা এবং মানুষকে সময়মতো জানানো।
    ২. উপকূলীয় অঞ্চলে পর্যাপ্ত ঘূর্ণিঝড় আশ্রয়কেন্দ্র নির্মাণ ও রক্ষণাবেক্ষণ করা এবং মানুষকে নিরাপদে সরিয়ে নেওয়া।
    ৩. উপকূলে বেড়িবাঁধ নির্মাণ এবং ম্যানগ্রোভ ও সবুজ বেষ্টনী গড়ে তোলা, যা ঝড়ের গতি ও জলোচ্ছ্বাসের ক্ষতি কমায়।
    ৪. স্বেচ্ছাসেবক প্রশিক্ষণ ও জনসচেতনতা বাড়ানো। এতে ক্ষয়ক্ষতি অনেকটা কমে।

  4. ঘ)

    প্রথম দুর্যোগটি ঘূর্ণিঝড় এবং দ্বিতীয়টি টর্নেডো। ঘূর্ণিঝড় মোকাবেলায় পূর্বপ্রস্তুতির সুযোগ থাকলেও টর্নেডোর ক্ষেত্রে তা সম্ভব নয়।

    ১. ঘূর্ণিঝড় সমুদ্রে সৃষ্টি হয়ে কয়েক দিন ধরে অগ্রসর হয়। উপগ্রহ ও রাডারের সাহায্যে এর সৃষ্টি, গতিপথ ও শক্তি আগে থেকে জানা যায়। তাই সতর্কসংকেত দিয়ে মানুষকে আশ্রয়কেন্দ্রে নেওয়া সম্ভব হয়।
    ২. টর্নেডো হঠাৎ সৃষ্টি হয়, খুব ক্ষুদ্র এলাকায় সংঘটিত হয় এবং মাত্র কয়েক মিনিট স্থায়ী হয়। এর সৃষ্টি ও গতিপথ আগে নির্ভুলভাবে জানা কঠিন।
    ৩. টর্নেডোর বাতাসের গতিবেগ অত্যন্ত বেশি এবং ক্ষতি তাৎক্ষণিক হয়, ফলে সতর্ক হওয়ার সময় থাকে না।

    সুতরাং, পূর্বাভাসের সুযোগ থাকার কারণে ঘূর্ণিঝড়ের পূর্বপ্রস্তুতি সম্ভব হলেও টর্নেডোর ক্ষেত্রে তা সম্ভব নয়।

আরও প্রশ্ন অনুশীলন করতে অ্যাপে যাও

সম্পর্কিত প্রশ্ন