পৌরনীতি ও নাগরিকতা • Sylhet Board • সিলেট বোর্ড ২০২৫
পৌরনীতি ও নাগরিকতা প্রশ্ন
ঘটনা-১: লেখাপড়া না জানা জমির মিয়া আঙুলের টিপসই দিয়ে মহাজনের নিকট থেকে ২,০০০ টাকা ঋণ নেয়। এক বছর পর ঋণ পরিশোধ করতে গিয়ে সে জানতে পারে তাকে ঋণসমেত ১০,০০০ টাকা পরিশোধ করতে হবে।ঘটনা-২: সালেহাকে তার বাবা ৫ লক্ষ টাকা দিয়ে বেকার রায়হানের কাছে বিয়ে দেন। রায়হান আরও টাকার জন্য সালেহার ওপর শারীরিক ও মানসিক নির্যাতন শুরু করে। উপায়ান্তর না দেখে সালেহার বাবা থানায় অভিযোগ করলে পুলিশ রায়হানকে গ্রেপ্তার করে আদালতে সোপর্দ করে।
- ক)(1)
খাদ্যনিরাপত্তা কাকে বলে?
- খ)(2)
জলবায়ু পরিবর্তন বাংলাদেশের অস্তিত্বের জন্য হুমকি হিসেবে বিবেচিত কেন? ব্যাখ্যা করো।
- গ)(3)
জমির মিয়ার সমস্যাটির সামাজিক প্রভাব ব্যাখ্যা করো।
- ঘ)(4)
সালেহার বাবার গৃহীত পদক্ষেপই কি নারী নির্যাতন রোধে যথেষ্ট? তোমার উত্তরের সপক্ষে মতামত দাও।
উত্তর ও ব্যাখ্যা
- ক)
খাদ্যনিরাপত্তা হলো এমন অবস্থা, যখন একটি দেশের সব মানুষ সবসময় পর্যাপ্ত, নিরাপদ ও পুষ্টিকর খাদ্য সংগ্রহ ও ভোগ করার সুযোগ পায়।
- খ)
বাংলাদেশ নিম্ন ভূমির দেশ এবং বঙ্গোপসাগরের উপকূলে অবস্থিত। জলবায়ু পরিবর্তনের ফলে সমুদ্রপৃষ্ঠের উচ্চতা বৃদ্ধি পেলে উপকূলীয় এলাকা তলিয়ে যাওয়ার ঝুঁকি বাড়ে। এছাড়া বন্যা, ঘূর্ণিঝড়, জলোচ্ছ্বাস ও লবণাক্ততা বৃদ্ধির কারণে কৃষি, বাসস্থান ও মানুষের জীবনজীবিকা ক্ষতিগ্রস্ত হয়। এ কারণে জলবায়ু পরিবর্তন বাংলাদেশের জন্য বড় হুমকি।
- গ)
জমির মিয়া নিরক্ষর হওয়ায় ২,০০০ টাকা ঋণের বিপরীতে এক বছরে ১০,০০০ টাকা পরিশোধে বাধ্য হয়। এটি নিরক্ষরতা ও অশিক্ষার ফলে মহাজনের শোষণের উদাহরণ।
এর সামাজিক প্রভাব:
১. দারিদ্র্য বৃদ্ধি: অতিরিক্ত সুদের চাপে গরিব মানুষ আরও নিঃস্ব হয়ে যায়।
২. সম্পদ হারানো: ঋণ শোধ করতে না পারলে জমি বা সম্পত্তি বিক্রি করতে হয়।
৩. সামাজিক বৈষম্য ও অস্থিরতা: ধনী ও গরিবের ব্যবধান বাড়ে এবং সমাজে বিরোধ ও অসন্তোষ সৃষ্টি হয়।
৪. শিক্ষার সুযোগ হ্রাস: পরিবারগুলো সন্তানদের শিক্ষার খরচ চালাতে পারে না, ফলে অশিক্ষার চক্র চলতে থাকে। - ঘ)
সালেহার বাবা থানায় অভিযোগ করেছেন এবং পুলিশ রায়হানকে গ্রেপ্তার করে আদালতে সোপর্দ করেছে। এটি আইনি ব্যবস্থা নেওয়ার একটি গুরুত্বপূর্ণ ও সঠিক পদক্ষেপ। তবে আমার মতে, এটিই নারী নির্যাতন রোধে যথেষ্ট নয়।
১. সামাজিক সচেতনতা: যৌতুক ও নির্যাতনের মূলে আছে কুসংস্কার ও নারীর প্রতি নেতিবাচক দৃষ্টিভঙ্গি। সচেতনতা না বাড়লে শুধু শাস্তি দিয়ে এ সমস্যা দূর হয় না।
২. আইনের কার্যকর প্রয়োগ: যৌতুক নিরোধ ও নারী নির্যাতন দমন সংক্রান্ত আইন আছে, কিন্তু দ্রুত বিচার ও শাস্তি নিশ্চিত না হলে অপরাধ কমে না।
৩. নারীর ক্ষমতায়ন: নারীকে শিক্ষিত ও আত্মনির্ভরশীল করা এবং সমান সুযোগ দেওয়া প্রয়োজন।
৪. পরিবার ও সমাজের ভূমিকা: যৌতুক দেওয়া ও নেওয়া দুটোকেই সামাজিকভাবে প্রতিরোধ করতে হবে।সুতরাং, আইনি পদক্ষেপের পাশাপাশি সচেতনতা, ক্ষমতায়ন ও সামাজিক আন্দোলন ছাড়া নারী নির্যাতন পুরোপুরি রোধ সম্ভব নয়।
আরও প্রশ্ন অনুশীলন করতে অ্যাপে যাও