কৃষিশিক্ষা • Cumilla Board • কুমিল্লা বোর্ড ২০২০

কৃষিশিক্ষা প্রশ্ন

কুড়িগ্রামের বাসিন্দা সালাম সাহেব মোটাতাজাকরণের জন্য প্রতি বছর ৭-৮টি গরু পালন করে থাকেন। এগুলো সাধারণত তিনি কুরবানীর সময় গরুর হাটে বিক্রয় করে থাকেন। কিন্তু এ বছর বন্যার কারণে তিনি গরুগুল্ো পালনে বিভিন্ন সমস্যার সম্মুখীন হন। তবে উপজেলা প্রাণিসম্পদ্দ কর্মকর্তা এ সময় উপজেলার বিভিন্ন ত্রলাকায় বন্যাজনিত সমস্যা থেকে গবাদিপশু রক্ষার জন্য বিভিন্ন কলাকৌশল সস্পর্কে পরামর্শ দেন।

  1. ক)

    দুধ সংরক্ষণ কী?

    (1)
  2. খ)

    হ্যালোফাইটস ও গ্লাইকোফাইটস কী? ব্যাখ্যা করো।

    (2)
  3. গ)

    সালাম সাহেবের সমস্যাগুলো বর্ণনা করো।

    (3)
  4. ঘ)

    উদ্দীপকের আলোকে প্রাণিসম্পদ কর্মকর্তার পরামর্শগুলো বিশ্লেষণ করো।

    (4)

উত্তর ও ব্যাখ্যা

  1. ক)

    দুধ সংরক্ষণ হলো দুধকে নষ্ট হওয়ার হাত থেকে রক্ষা করে অধিক সময় ব্যবহার উপযোগী রাখার পদ্ধতি।

  2. খ)

    হ্যালোফাইটস হলো সেসব উদ্ভিদ, যারা লবণাক্ত মাটি বা পানিতে স্বাভাবিকভাবে জন্মাতে ও বেঁচে থাকতে পারে, যেমন কেওড়া, বাইন প্রভৃতি ম্যানগ্রোভ উদ্ভিদ।
    গ্লাইকোফাইটস হলো সেসব উদ্ভিদ, যারা লবণাক্ততা সহ্য করতে পারে না। মাটিতে লবণ বেশি হলে এদের বৃদ্ধি ব্যাহত হয় বা মারা যায়। ধান, গম, ভুট্টা ইত্যাদি ফসল গ্লাইকোফাইট।

  3. গ)

    সালাম সাহেব কুড়িগ্রামে বন্যার কারণে গরু পালনে যেসব সমস্যায় পড়েছেন—
    ১. আশ্রয়ের সমস্যা: বন্যায় গোয়ালঘর ডুবে যায়, ফলে গরুগুলো নিরাপদ ও শুকনো স্থানে থাকতে পারে না।
    ২. খাদ্য সংকট: মাঠ ও ঘাসের জমি পানিতে তলিয়ে যায় এবং সংরক্ষিত খড় ও দানাদার খাদ্য ভিজে নষ্ট হয়।
    ৩. রোগের প্রাদুর্ভাব: দূষিত পানি ও স্যাঁতসেঁতে পরিবেশে ডায়রিয়া, ক্ষুরারোগ ইত্যাদি রোগ ছড়ায়।
    ৪. বিশুদ্ধ পানির অভাব ও চলাচলের সমস্যা: পানি ও চিকিৎসা সেবা পাওয়া কঠিন হয়ে যায়, ফলে কুরবানির হাটে গরু বিক্রিতে ঝুঁকি বাড়ে।

  4. ঘ)

    উদ্দীপকে প্রাণিসম্পদ কর্মকর্তা বন্যাজনিত সমস্যা থেকে গবাদিপশু রক্ষায় নানা কলাকৌশলের পরামর্শ দিয়েছেন। এগুলো নিচে বিশ্লেষণ করা হলো—

    ১. নিরাপদ আশ্রয়: উঁচু স্থানে বা মাচা তৈরি করে গরুকে রাখতে হবে, যাতে পানিতে ডুবে না যায়।
    ২. খাদ্য সংরক্ষণ: বন্যার আগেই খড়, সাইলেজ ও দানাদার খাদ্য উঁচু ও শুকনো স্থানে মজুত রাখতে হবে। এতে খাদ্য সংকট মেটে।
    ৩. রোগ প্রতিরোধ: সময়মতো টিকা দিতে হবে এবং কৃমিনাশক ওষুধ খাওয়াতে হবে। অসুস্থ পশুকে আলাদা রেখে চিকিৎসা করাতে হবে।
    ৪. বিশুদ্ধ পানি: বন্যার পানি পান করতে না দিয়ে বিশুদ্ধ পানির ব্যবস্থা রাখতে হবে।
    ৫. নিরাপদ স্থানান্তর: প্রয়োজনে পশুকে উঁচু আশ্রয়কেন্দ্রে সরিয়ে নিতে হবে।

    সুতরাং, এ পরামর্শগুলো অনুসরণ করলে বন্যার সময় গবাদিপশুর ক্ষতি কমবে এবং সালাম সাহেব আর্থিক ক্ষতি থেকে রক্ষা পাবেন।

আরও প্রশ্ন অনুশীলন করতে অ্যাপে যাও

সম্পর্কিত প্রশ্ন