সহপাঠ • নাটক: সিরাজউদ্দৌলা • Rajshahi Board • রাজশাহী বোর্ড ২০১৯
সহপাঠ প্রশ্ন
সিংহজানী পরগণার এক প্রতাপশালী জমিদারের নাম সিংহ নারায়ণ রায়। প্রজাবাৎসল্য তার চরিত্রের অন্যতম দিক। প্রজাদের সুখের জন্য তিনি দিঘি খনন, রাস্তাঘাট নির্মাণ, স্কুল, কলেজ, মাদ্রাসা প্রতিষ্ঠা, খাদ্যাভাব মোকাবেলায় খাদ্য মজুদসহ নানা রকম জনহিতকর কর্মকাণ্ড পরিচালনা করতেন। তার জমিদারির অন্যতম সদস্য ছিলেন একমাত্র ভগ্নিপতি সমর সমাদ্দর। তিনি তাকে অত্যন্ত স্নেহ করতেন এবং বিশ্বাস করতেন। এই বিশ্বাসের সুযোগে সমর সমাদ্দার আত্মস্বার্থ চরিতার্থে ব্যস্ত থাকত। তার কৃত কর্ম অনেকবার ধরা পড়লেও জমিদার ঔদার্যবশত তাকে ক্ষমা করে দিতেন। এক বছর খাজনা পরিশোধের জন্য সমরকে দায়িত্ব দিলে সে সমস্ত অর্থ নিয়ে আত্মগোপন করে। সূর্যাস্ত আইনে জমিদারির পতন ঘটে।
- ক)(1)
উমিচাঁদ কোথা থেকে বাংলাদেশে এসেছে?
- খ)(2)
আমার শেষ যুদ্ধ পলাশিতেই।"- কেন?
- গ)(3)
উদ্দীপকের সমর সমাদ্দার কীভাবে 'সিরাজউদ্দৌলা' নাটকের মিরজাফরের সাথে সাদৃশ্যপূর্ণ?
- ঘ)(4)
"উদ্দীপকের প্রজাবৎসল সিংহ নারায়ণ রায় যে কারণে জমিদারি হারিয়েছেন একই কারণে 'সিরাজউদ্দৌলা' নাটকে বাংলার স্বাধীনতা-সূর্য অস্ত যায়।" উদ্দীপক ও 'সিরাজউদ্দৌলা' নাটকের আলোকে উক্তিটি যাচাই করো।
উত্তর ও ব্যাখ্যা
- ক)
AI-তৈরি নমুনা উত্তর
উমিচাঁদ লাহোর থেকে বাংলাদেশে এসেছে।
- খ)
AI-তৈরি নমুনা উত্তর
"আমার শেষ যুদ্ধ পলাশিতেই"— উক্তিটি নবাব সিরাজউদ্দৌলার।
ইংরেজদের ক্রমাগত ধৃষ্টতা, রাজনৈতিক চক্রান্ত এবং বিশ্বাসঘাতক পারিষদবর্গের সম্মিলিত চক্রান্তের ফলে নবাব বুঝতে পেরেছিলেন যে কোম্পানি শাসিত শক্তির সাথে চূড়ান্ত সংঘাত অনিবার্য। তিনি অনুধাবন করতে পেরেছিলেন যে পলাশির প্রান্তরই নির্ধারণ করবে বাংলার ভাগ্য এবং তার নিজের ভবিষ্যৎ। তাই সম্মান ও স্বাধীনতার অস্তিত্ব রক্ষায় এই যুদ্ধই তাঁর জন্য চূড়ান্ত ও শেষ পরীক্ষা ছিল বলে তিনি এ মন্তব্য করেন।
- গ)
AI-তৈরি নমুনা উত্তর
উদ্দীপকের সমর সমাদ্দারের আচরণ ও কর্মকাণ্ড 'সিরাজউদ্দৌলা' নাটকের চরম বিশ্বাসঘাতক মিরজাফরের সঙ্গে গভীরভাবে সাদৃশ্যপূর্ণ।
'সিরাজউদ্দৌলা' নাটকে দেখা যায়, প্রধান সেনাপতি মিরজাফর নবাবের পরম আত্মীয় ও রাজদরবারের অত্যন্ত দায়িত্বশীল ও বিশ্বস্ত ব্যক্তি ছিলেন। নবাব সিরাজউদ্দৌলা তাঁকে বারবার ক্ষমা করে বিশ্বাস স্থাপন করেন এবং পবিত্র কুরআন ছুঁয়ে শপথ করানোর পরও তিনি নবাবের সঙ্গে বেইমানি করেন এবং ইংরেজদের সাথে গোপন আঁতাত করে পলাশির প্রান্তরে পুতুলের মতো দাঁড়িয়ে থেকে নবাবের পরাজয় নিশ্চিত করেন।
উদ্দীপকের সমর সমাদ্দারও জমিদার সিংহ নারায়ণ রায়ের ভগ্নিপতি ও অত্যন্ত স্নেহভাজন ব্যক্তি ছিলেন। জমিদার তাঁর বারবার ভুল-ত্রুটি ক্ষমা করলেও সমর আত্মস্বার্থ রক্ষার্থে শেষ পর্যন্ত খাজনার অর্থ নিয়ে আত্মগোপন করে জমিদারের সর্বনাশের পথ তৈরি করে। নিজের স্বার্থ হাসিলের জন্য আত্মীয়তা ও বিশ্বাসের মর্যাদা না দিয়ে চরম বিশ্বাসঘাতকতা করার দিক থেকে সমর সমাদ্দার ও মিরজাফরের চরিত্র একই সূত্রে গাঁথা।
- ঘ)
AI-তৈরি নমুনা উত্তর
উদ্দীপকের প্রজাবৎসল সিংহ নারায়ণ রায়ের জমিদারি হারানোর কারণ এবং 'সিরাজউদ্দৌলা' নাটকে বাংলার স্বাধীনতা-সূর্য অস্ত যাওয়ার মূল কারণ একই— আর তা হলো অন্ধবিশ্বাস, অতিরিক্ত ক্ষমাশীলতা এবং আপনজনের চরম বিশ্বাসঘাতকতা। তাই প্রশ্নোক্ত উক্তিটি সম্পূর্ণ যথার্থ।
'সিরাজউদ্দৌলা' নাটকে নবাব সিরাজউদ্দৌলা ছিলেন দেশপ্রেমিক ও প্রজাবৎসল শাসক। তিনি দেশকে ভালোবাসতেন এবং ইংরেজদের আগ্রাসন প্রতিহত করতে চেয়েছিলেন। কিন্তু তিনি নিজের দরবারের মিরজাফর, ঘসেটি বেগম ও রায়দুর্লভদের মতো সুবিধাবাদী দেশদ্রোহীদের অপকর্ম জেনেও তাদের কঠোর শাস্তি দেননি; বরং ঔদার্য ও অন্ধবিশ্বাস দেখিয়ে বারবার ক্ষমা করেছেন। এই সুযোগ নিয়ে মিরজাফর পলাশির প্রান্তরে ব্রিটিশদের সাহায্য করে নবাবের পতন ঘটিয়েছে, যার ফলে বাংলার স্বাধীনতা চিরতরে অস্তমিত হয়।
একইভাবে উদ্দীপকের জমিদার সিংহ নারায়ণ রায় প্রজাবৎসল ও মহানুভব ব্যক্তি হওয়া সত্ত্বেও ভগ্নিপতি সমর সমাদ্দারের মতো স্বার্থপর মানুষের অপরাধ ক্ষমা করে অতিরিক্ত বিশ্বাস করেছিলেন। এই বিশ্বাসের সুযোগ নিয়ে সমর খাজনার টাকা আত্মসাৎ করে আত্মগোপন করে, যার পরিণতিতে সূর্যাস্ত আইনের শিকার হয়ে জমিদারের জমিদারি হাতছাড়া হয়।
অতএব, দেখা যায় যে উভয়ের পতনের মূলে রয়েছে অতি-বিশ্বাস, অযৌক্তিক ক্ষমাশীলতা এবং কাছের মানুষের নির্মম বিশ্বাসঘাতকতা। সুতরাং আলোচ্য উক্তিটি যথার্থ ও যৌক্তিক।
আরও প্রশ্ন অনুশীলন করতে অ্যাপে যাও