হিন্দু ধর্ম • Chattogram Board • চট্টগ্রাম বোর্ড ২০২৪

হিন্দু ধর্ম প্রশ্ন

প্রণব বাবু ছেলেমেয়ে স্ত্রীসহ পরিবারের সকলের দেখা-শোনা এবং ব্যয়ভার বহন করেন। অতিথি সেবাসহ সমাজের জন্য সকলের দায়িত্ব নিষ্ঠার সাথে পালন করেন। অন্যদিকে, বিজয় বাবুর বয়স হয়েছে। তিনি সংসারের মায়া ত্যাগ করে মঠ, মন্দিরে রাত্রি যাপন করেন। দুপুরের খাবার লোকালয় থেকে সংগ্রহ করেন। সব সময় তিনি ঈশ্বর চিন্তায় মগ্ন থাকেন।

  1. ক)

    ভক্তিযোগ কাকে বলে?

    (1)
  2. খ)

    'প্রাণায়াম' বলতে কী বোঝায়?

    (2)
  3. গ)

    প্রণব বাবুর কাজটি মানবজীবনের কোন আশ্রমের পর্যায়ভুক্ত তা পাঠ্যপুস্তকের আলোকে ব্যাখ্যা করো।

    (3)
  4. ঘ)

    বিজয় বাবুর কাজের মাধ্যমে কি ঈশ্বরলাভ সম্ভব? সপক্ষে যুক্তি দাও।

    (4)

উত্তর ও ব্যাখ্যা

  1. ক)

    ভক্তিকে অবলম্বন করে ঈশ্বরের আরাধনা করাকে ভক্তিযোগ বলে।

  2. খ)

    প্রাণায়াম অষ্টাঙ্গ যোগের চতুর্থ অঙ্গ। প্রাণ অর্থ শ্বাসরূপে গৃহীত বায়ু এবং আয়াম অর্থ বিস্তার। শ্বাস-প্রশ্বাসের স্বাভাবিক গতিকে নিয়ন্ত্রণ করে নিজ আয়ত্তে আনাকে প্রাণায়াম বলে।

    এটি রেচক (শ্বাসত্যাগ), পূরক (শ্বাসগ্রহণ) ও কুম্ভক (শ্বাসধারণ) এই তিন প্রক্রিয়ায় সম্পন্ন হয়। এতে শ্বসনতন্ত্র বলিষ্ঠ হয় এবং স্নায়ুতন্ত্র শান্ত থাকে।

  3. গ)

    প্রণব বাবুর কাজটি মানবজীবনের গার্হস্থ্য আশ্রমের পর্যায়ভুক্ত।

    গার্হস্থ্য আশ্রমের ধারণা: চতুরাশ্রমের দ্বিতীয় আশ্রম গার্হস্থ্য, যা শতবর্ষের জীবনের দ্বিতীয় পঁচিশ বছর। ব্রহ্মচর্যের পর বিবাহ করে সন্তান-সন্ততি লাভ, তাদের ভরণ-পোষণ ও প্রতিদিন পাঁচটি যজ্ঞ কর্ম অনুশীলন এ আশ্রমের কর্তব্য। পাঁচ যজ্ঞের একটি নৃযজ্ঞ, অর্থাৎ অতিথিসেবা। এছাড়া মঠ, মন্দির ও বিদ্যালয় স্থাপনের মাধ্যমে সমাজের প্রতি কর্তব্য পালনও এ আশ্রমের অংশ।

    উদ্দীপকের সঙ্গে সম্পর্ক: প্রণব বাবু স্ত্রী ও ছেলেমেয়েসহ পরিবারের সকলের দেখাশোনা ও ব্যয়ভার বহন করেন এবং অতিথি সেবাসহ সামাজিক দায়িত্ব নিষ্ঠার সঙ্গে পালন করেন। এগুলো গার্হস্থ্য আশ্রমের বৈশিষ্ট্য।

    অতএব, প্রণব বাবুর জীবন গার্হস্থ্য আশ্রমভুক্ত।

  4. ঘ)

    হ্যাঁ, বিজয় বাবুর কাজের মাধ্যমে ঈশ্বরলাভ সম্ভব, তবে শর্ত হলো তাঁকে কর্মফলাসক্তি ও ভোগাসক্তি থেকে সত্যিই মুক্ত হতে হবে। বিজয় বাবু সন্ন্যাস আশ্রমের নিয়ম অনুসরণ করছেন।

    সন্ন্যাস আশ্রমের ধারণা: চতুর্থ পর্যায়ে পঁচাত্তর থেকে একশ বছরের মধ্যে সন্ন্যাস আশ্রম। সন্ন্যাস অর্থ সম্পূর্ণরূপে ত্যাগ। সন্ন্যাসী জাগতিক কর্ম পরিত্যাগ করে কেবল ঈশ্বর চিন্তায় মগ্ন থাকেন। দুপুরের আহার লোকালয় থেকে সংগ্রহ করেন, বাকি দুবেলা দুধ-ফল খান এবং মন্দির বা দেবালয়ে ক্ষণকাল আশ্রয় নেন।

    ১. শাস্ত্রনির্দেশিত জীবনযাপন: বিজয় বাবু সংসারের মায়া ত্যাগ করে মঠ-মন্দিরে রাত্রিযাপন করেন এবং দুপুরের খাবার লোকালয় থেকে সংগ্রহ করেন। এটি সন্ন্যাসীর বিধানের সঙ্গে মেলে।

    ২. ঈশ্বরচিন্তায় একাগ্রতা: তিনি সর্বদা ঈশ্বর চিন্তায় মগ্ন থাকেন। একাগ্র ধ্যান ও চিন্তার মাধ্যমে সাধক ঈশ্বরের সান্নিধ্য ও শেষে মোক্ষ লাভ করেন।

    ৩. গীতার নির্দেশ: গীতায় (৬/১) বলা হয়েছে, কর্মফলের বাসনা না করে যিনি কর্তব্যকর্ম করেন, তিনিই সন্ন্যাসী ও যোগী। শুধু গৃহাদি কর্ম ত্যাগ করলেই সন্ন্যাস হয় না। তাই বিজয় বাবুকে নিষ্কাম মনোভাব ধরে রাখতে হবে।

    ৪. ঈশ্বর সর্বপথের প্রতি কৃপাময়: গীতায় (৪/১১) ভগবান বলেছেন, যে যেভাবে তাঁকে ভজনা করে, তিনি সেভাবেই তাকে তুষ্ট করেন। তাই নিষ্ঠার সঙ্গে সন্ন্যাসের পথে চললে ঈশ্বরের অনুগ্রহ পাওয়া সম্ভব।

    সুতরাং, বিজয় বাবুর বৈরাগ্যময় ও ঈশ্বরকেন্দ্রিক জীবনের মাধ্যমে ঈশ্বরলাভ সম্ভব।

আরও প্রশ্ন অনুশীলন করতে অ্যাপে যাও

সম্পর্কিত প্রশ্ন