বাংলাদেশের ইতিহাস ও বিশ্বসভ্যতা • Dinajpur Board • দিনাজপুর বোর্ড ২০২৩
বাংলাদেশের ইতিহাস ও বিশ্বসভ্যতা প্রশ্ন
- ক)(1)
বাংলার সেন বংশের প্রতিষ্ঠাতা কে ছিলেন?
- খ)(2)
'মাৎস্যন্যায়' বলতে কী বোঝায়?
- গ)(3)
উদ্দীপকটি বাংলার কোন পাল রাজাকে স্মরণ করিয়ে দেয়? ব্যাখ্যা করো।
- ঘ)(4)
উক্ত র্যজাই ছিলেন প্রাচীন বাংলার ইতিহাসে শ্রেষ্ঠ শাসকদের অন্যতম'- যুক্তি দেখাও।
উত্তর ও ব্যাখ্যা
- ক)
সামন্ত সেন সেন বংশের প্রতিষ্ঠাতা ছিলেন; তবে সেন রাজ্যের প্রকৃত প্রতিষ্ঠাতা তাঁর পৌত্র বিজয় সেন।
- খ)
মাৎস্যন্যায় শব্দের অর্থ মাছের মতো অরাজকতা, যেখানে বড় মাছ ছোট মাছকে গিলে খায়। শশাঙ্কের মৃত্যুর পর প্রায় একশো বছর বাংলায় কোনো শক্তিশালী কেন্দ্রীয় শাসক ছিল না। তখন সবলরা দুর্বলদের ওপর অত্যাচার চালাত এবং দেশে চরম বিশৃঙ্খলা বিরাজ করত। এই অরাজক অবস্থাকেই মাৎস্যন্যায় বলা হয়।
- গ)
উদ্দীপকের চিত্রটি পাহাড়পুরের সোমপুর বিহারের, যা পাল রাজা ধর্মপালকে স্মরণ করিয়ে দেয়।
নওগাঁ জেলার পাহাড়পুরের এই বিশাল বৌদ্ধবিহার ধর্মপালের কীর্তি। এর কেন্দ্রীয় মন্দিরটি ক্রমশ উঁচু হয়ে ওঠা ধাপযুক্ত পিরামিডের মতো। তিনি বৌদ্ধধর্ম ও শিক্ষার বিকাশে এটি প্রতিষ্ঠা করেন। বর্তমানে এটি বিশ্ব ঐতিহ্যের অন্তর্ভুক্ত। বিহারটির কারণে ধর্মপালের নাম স্মরণ করা হয়।
- ঘ)
ধর্মপাল ছিলেন প্রাচীন বাংলার ইতিহাসে শ্রেষ্ঠ শাসকদের অন্যতম— উক্তিটি যথার্থ।
১. সামরিক সাফল্য: তিনি কনৌজ জয় করে সেখানে নিজের মনোনীত শাসককে বসান এবং 'পরমেশ্বর পরমভট্টারক মহারাজাধিরাজ' উপাধি ধারণ করেন। উত্তর ভারতে পাল সাম্রাজ্যের প্রভাব বিস্তৃত হয়।
২. শিক্ষা ও ধর্ম: তিনি সোমপুর ও বিক্রমশীলা বিহার প্রতিষ্ঠা করেন এবং শিক্ষা-সংস্কৃতির পৃষ্ঠপোষকতা করেন। তিনি বৌদ্ধধর্মের পৃষ্ঠপোষক হয়েও অন্য ধর্মের প্রতি উদার ছিলেন।
৩. শাসনব্যবস্থা: মাৎস্যন্যায়-পরবর্তী পাল রাজত্বকে তিনি সুসংহত করেন এবং দীর্ঘ রাজত্বকালে দেশে স্থিতি আনেন।সুতরাং, ধর্মপাল সামরিক শক্তি, ধর্মীয় উদারতা ও শিক্ষার বিকাশে অবদানের জন্য প্রাচীন বাংলার শ্রেষ্ঠ শাসকদের একজন।
আরও প্রশ্ন অনুশীলন করতে অ্যাপে যাও