জীববিজ্ঞান ২য় পত্র • Jashore Board • যশোর বোর্ড ২০১৯
জীববিজ্ঞান ২য় পত্র প্রশ্ন
| রক্তগ্রুপ | Rh ফ্যাক্টর
বাবা | B | +
মা | B | -
১ম সন্তান (সুস্থ | B | +
২য় সন্তান (মৃত) | - | -
- ক)(1)
ফিনোটাইপ কী?
- খ)(2)
ABO রক্তগ্রুপ বলতে কী বোঝ?
- গ)(3)
১ম সন্তান সুস্থ এবং B+ রক্তগ্রুপের-- কারণসহ ব্যাখ্যা করো।
- ঘ)(4)
২য় সন্তানের মৃত্যু এড়াতে কী করা উচিত ছিল-তোমার মতামত দাও।
উত্তর ও ব্যাখ্যা
- ক)
AI-তৈরি নমুনা উত্তর
জিনোটাইপ দ্বারা নিয়ন্ত্রিত জীবের বাহ্যিক বৈশিষ্ট্য বা লক্ষণকে ফিনোটাইপ বলে।
- খ)
AI-তৈরি নমুনা উত্তর
লোহিত রক্তকণিকার ঝিল্লিতে অবস্থিত A এবং B নামক অ্যান্টিজেনের উপস্থিতি বা অনুপস্থিতির ওপর ভিত্তি করে মানুষের রক্তকে A, B, AB এবং O—এই চারটি প্রধান গ্রুপে বিভক্ত করার পদ্ধতিকে ABO রক্তগ্রুপ বলে। বিজ্ঞানী কার্ল ল্যান্ডস্টেইনার ১৯০১ সালে এই পদ্ধতি আবিষ্কার করেন।
- গ)
AI-তৈরি নমুনা উত্তর
উদ্দীপকে উল্লেখিত ১ম সন্তান সুস্থ এবং B+ রক্তগ্রুপ হওয়ার কারণ নিচে ব্যাখ্যা করা হলো:
১. রক্তগ্রুপ B হওয়ার কারণ: মা ও বাবা উভয়েরই রক্তগ্রুপ 'B'। বাবার জিনোটাইপ বা এবং মায়ের জিনোটাইপ বা হতে পারে। ফলে পিতামাতা উভয়ের কাছ থেকে সন্তান অ্যালিল লাভ করায় ১ম সন্তানের রক্তগ্রুপ 'B' হয়েছে।
২. Rh+ হওয়ার কারণ: বাবার Rh ফ্যাক্টর পজিটিভ () এবং মায়ের Rh ফ্যাক্টর নেগেটিভ ()। একটি প্রকট বৈশিষ্ট্য হওয়ায় পিতার কাছ থেকে প্রকট অ্যালিল লাভ করায় ১ম সন্তানটি Rh পজিটিভ () হয়েছে।
৩. ১ম সন্তান সুস্থ থাকার কারণ: মা যখন প্রথমবার ভ্রূণ ধারণ করেন, তখন গর্ভাবস্থায় অমরা বা প্লাসেন্টার বাধার কারণে ভ্রূণের রক্ত মায়ের রক্তের সাথে সরাসরি মিশতে পারে না। তবে সন্তান প্রসবের সময় অমরা ছিঁড়ে গিয়ে কিছু লোহিত রক্তকণিকা মায়ের রক্তে প্রবেশ করে। এর প্রতিক্রিয়ায় মায়ের দেহে ধীরে ধীরে অ্যান্টি-Rh অ্যান্টিবডি (অ্যান্টি-D) তৈরি হতে শুরু করে। যেহেতু এই অ্যান্টিবডি তৈরি হতে সময় লাগে, ততক্ষণে প্রথম শিশুর স্বাভাবিক ও নিরাপদ জন্ম সম্পন্ন হয়ে যায়। ফলে প্রথম সন্তানটি সুস্থভাবে জন্মগ্রহণ করে।
- ঘ)
AI-তৈরি নমুনা উত্তর
উদ্দীপকের ২য় সন্তানটির মৃত্যু ঘটেছে 'এরিথ্রোব্লাস্টোসিস ফিটালিস' (Erythroblastosis fetalis) নামক জটিলতার কারণে। এই মৃত্যু এড়াতে চিকিৎসা বিজ্ঞানের আধুনিক নির্দেশনানুযায়ী যে পদক্ষেপগুলো নেওয়া উচিত ছিল, তা নিম্নে বিশ্লেষণ করা হলো:
১. ১ম সন্তান প্রসবের পরপরই অ্যান্টি-ডি ইঞ্জেকশন প্রয়োগ: ১ম সন্তান প্রসবের ২৪ থেকে ৭২ ঘণ্টার মধ্যে মাতাকে চিকিৎসকের পরামর্শ অনুযায়ী অ্যান্টি-ডি ইমিউনোগ্লোবুলিন (Anti-D gamma globulin বা RhoGAM) ইনজেকশন দেওয়া উচিত ছিল। এর ফলে মায়ের সংবহনে প্রবেশ করা ভ্রূণের লোহিত রক্তকণিকাগুলো ধ্বংস হয়ে যেত এবং মায়ের শরীরে স্থায়ী অ্যান্টি-Rh অ্যান্টিবডি তৈরি হতে পারত না।
২. পরবর্তী গর্ভাবস্থায় পর্যবেক্ষণ: ২য় বার গর্ভধারণের পর মায়ের রক্তে অ্যান্টিবডির মাত্রা (অ্যান্টিবডি টাইটার) নিয়মিত পরীক্ষা করা উচিত ছিল।
৩. জরায়ু অভ্যন্তরে রক্ত সঞ্চালন (Intrauterine transfusion): ২য় সন্তান গর্ভে থাকাকালীন যদি মারাত্মক রক্তশূন্যতা ধরা পড়ত, তবে জরায়ুর ভেতরেই ভ্রূণকে Rh- রক্ত দিয়ে রক্ত সঞ্চালন নিশ্চিত করা যেত।
৪. দ্রুত প্রসব ও রক্ত বদল: গর্ভস্থ ভ্রূণের পূর্ণতা সাপেক্ষে চিকিৎসকের তত্ত্বাবধানে নির্ধারিত সময়ের কিছুটা আগে প্রসব করিয়ে তাৎক্ষণিকভাবে নবজাতকের সম্পূর্ণ রক্ত পরিবর্তন (Exchange transfusion) করে শিশুর প্রাণ রক্ষা করা যেত।
অতএব, প্রথম সন্তান প্রসবের পরপরই সময়মতো অ্যান্টি-ডি ইনজেকশন প্রয়োগ এবং সঠিক প্রসবপূর্ব পরিচর্যা গ্রহণ করলে ২য় সন্তানের এই করুণ মৃত্যু এড়ানো সম্ভব হতো।
আরও প্রশ্ন অনুশীলন করতে অ্যাপে যাও