ইতিহাস ১ম পত্র • Combined Board • সমন্বিত বোর্ড ২০২৬ (অনিয়মিত)
ইতিহাস ১ম পত্র প্রশ্ন
নিচের চিত্রটি লক্ষ কর এবং প্রশ্নগুলোর উত্তর দাও:

- ক)(1)
পাকিস্তানে প্রথম সামরিক শাসন জারি করেন কে?
- খ)(2)
মৌলিক গণতন্ত্র কী?
- গ)(3)
উদ্দীপকের চিত্রটির সাথে পাঠ্যবইয়ের কোন ঘটনার মিল রয়েছে? ব্যাখ্যা কর।
- ঘ)(4)
উক্ত ঘটনার তাৎপর্য তোমার পাঠ্যপুস্তকের আলোকে বিশ্লেষণ কর।
উত্তর ও ব্যাখ্যা
- ক)
AI-তৈরি নমুনা উত্তর
১৯৫৮ সালের ৭ অক্টোবর পাকিস্তানে প্রথম সামরিক শাসন জারি করেন প্রেসিডেন্ট মেজর জেনারেল ইস্কান্দার মির্জা।
- খ)
AI-তৈরি নমুনা উত্তর
মৌলিক গণতন্ত্র হলো ফিল্ড মার্শাল আইয়ুব খান কর্তৃক প্রবর্তিত একটি পরোক্ষ সীমিত নির্বাচনী ব্যবস্থা। ১৯৫৯ সালে জারি করা 'মৌলিক গণতন্ত্র আদেশ'-এর মাধ্যমে পূর্ব পাকিস্তান ও পশ্চিম পাকিস্তান থেকে ৪০,০০০ করে মোট ৮০,০০০ (পরবর্তীতে ১,২০,০০০) নির্বাচিত সদস্যের একটি নির্বাচক মণ্ডলী (বেসিক ডেমোক্র্যাটস) গঠন করা হয়। এই সদস্যরা রাষ্ট্রপতি ও সংসদের সদস্যদের নির্বাচিত করতেন, যার মূল উদ্দেশ্য ছিল জনসাধারণের সরাসরি ভোটাধিকার হরণ করে আইয়ুব খানের ক্ষমতাকে দীর্ঘস্থায়ী করা।
- গ)
AI-তৈরি নমুনা উত্তর
উদ্দীপকের চিত্রটির সাথে পাঠ্যবইয়ের ১৯৬৯ সালের ঐতিহাসিক গণঅভ্যুত্থানের ঘটনার মিল রয়েছে।
চিত্রে দেখা যায় একটি শিশু (কিশোর মিছিলের প্রতীকী চিত্র, যা ১৯৬৯ সালের ২৪ জানুয়ারি নিহত কিশোর মতিউর রহমান বা তৎকালীন আন্দোলনের মিছিলের স্মৃতি বহন করে) সাধারণ মানুষের সামনে দাঁড়িয়ে অধিকার আদায়ের মিছিলে নেতৃত্ব দিচ্ছে বা স্লোগান দিচ্ছে।
আইয়ুব খানের স্বৈরশাসন, আগরতলা ষড়যন্ত্র মামলা প্রত্যাহার এবং বঙ্গবন্ধু শেখ মুজিবুর রহমানসহ রাজবন্দিদের মুক্তির দাবিতে ১৯৬৯ সালে সমগ্র পূর্ব পাকিস্তানে ছাত্র-জনতার উত্তাল আন্দোলন শুরু হয়। ২৪ জানুয়ারি ঢাকায় পুলিশের গুলিতে নবকুমার ইনস্টিটিউশনের দশম শ্রেণির ছাত্র মতিউর রহমান শহীদ হন। এ ঘটনায় আন্দোলন এক অপ্রতিরোধ্য গণঅভ্যুত্থানে রূপ নেয়, যা চিত্রে সাধারণ জনতার স্বতঃস্ফূর্ত অংশগ্রহণে প্রতিফলিত হয়েছে।
- ঘ)
AI-তৈরি নমুনা উত্তর
উদ্দীপকে ইঙ্গিতকৃত ঘটনাটি হলো ১৯৬৯ সালের ঐতিহাসিক গণঅভ্যুত্থান, যার তাৎপর্য বাংলাদেশের স্বাধীনতা সংগ্রামের ইতিহাসে অপরিসীম।
প্রথমত, এই গণঅভ্যুত্থানের মাধ্যমেই বাঙালি জাতীয়তাবাদের চূড়ান্ত বহিঃপ্রকাশ ঘটে। আইয়ুব খানের প্রায় এক দশকের স্বৈরশাসন ও শোষণ-পীড়নের বিরুদ্ধে ছাত্র, শ্রমিক, কৃষক ও পেশাজীবীসহ সর্বস্তরের জনগণ ঐক্যবদ্ধভাবে রাজপথে নেমে আসে।
দ্বিতীয়ত, তীব্র গণআন্দোলনের মুখে স্বৈরাচারী আইয়ুব সরকার নতিস্বীকার করতে বাধ্য হয়। ১৯৬৯ সালের ২২ ফেব্রুয়ারি আগরতলা ষড়যন্ত্র মামলা প্রত্যাহার করে বঙ্গবন্ধু শেখ মুজিবুর রহমানসহ সকল রাজবন্দিকে নিঃশর্ত মুক্তি দেওয়া হয়। পরদিন রেসকোর্স ময়দানে শেখ মুজিবুর রহমানকে আনুষ্ঠানিকভাবে 'বঙ্গবন্ধু' উপাধিতে ভূষিত করা হয়।
তৃতীয়ত, গণঅভ্যুত্থানের তীব্র চাপে ১৯৬৯ সালের ২৫ মার্চ ফিল্ড মার্শাল আইয়ুব খান পদত্যাগ করতে বাধ্য হন। ফলে মৌলিক গণতন্ত্রের স্বৈরতান্ত্রিক কাঠামো ভেঙে পড়ে এবং পরবর্তীতে ১৯৭০ সালের সাধারণ নির্বাচন এক ব্যক্তি এক ভোটের ভিত্তিতে অনুষ্ঠিত হওয়ার পথ সুগম হয়।
সুতরাং, ১৯৬৯ সালের গণঅভ্যুত্থান বাঙালিকে স্বাধিকার আন্দোলন থেকে পূর্ণ স্বাধীনতার পথে এগিয়ে নিতে মাইলফলক হিসেবে কাজ করেছিল।
আরও প্রশ্ন অনুশীলন করতে অ্যাপে যাও