ইসলাম • Rajshahi Board • রাজশাহী বোর্ড ২০২০
ইসলাম প্রশ্ন
'সোনার বাংলাদেশ গড়া' শীর্ষক আলোচনা সভায় ফাবিহা বলেন, এদেশে ৮৫% মুসলমান সবাই ভাই ভাই। একে অপরের সহযোগিতায় এগিয়ে আসলে এরূপ বাংলাদেশ গড়া সম্ভব। ফাবিহার সহপাঠী ফারিহা দ্বিমত পোষণ করে বলেন, শুধু মুসলমান কেন? এদেশে অন্য সম্প্রদায়ের লোকেরও বসবাস রয়েছে। তাই সম্প্রদায় নির্বিশেষে সকলের প্রতি ভাইয়ের মতো আচরণের মাধ্যমেই সম্ভব 'সোনার বাংলাদেশ গড়া'।
- ক)(1)
কর্তব্যপরায়ণতা কী?
- খ)(2)
ইমানদার হওয়ার জন্য পবিত্র থাকা অপরিহার্য কেন?
- গ)(3)
ফাবিহার মনোভাবে কোন ধরনের ভ্রাতৃত্বের বহিঃপ্রকাশ ঘটেছে? ব্যাখ্যা করো।
- ঘ)(4)
ফারিহার দ্বিমত পোষণ কতটুকু যৌক্তিক? মতামত দাও।
উত্তর ও ব্যাখ্যা
- ক)
নিজের ওপর অর্পিত দায়িত্ব ও কর্তব্য যথাসময়ে ও যথাযথভাবে পালন করাকে কর্তব্যপরায়ণতা বলে।
- খ)
ইমানদার ব্যক্তির জন্য পবিত্রতা অপরিহার্য, কারণ হাদিসে পবিত্রতাকে ইমানের অর্ধেক বলা হয়েছে। সালাত, কুরআন তিলাওয়াত ও তাওয়াফের মতো ইবাদত পবিত্রতা ছাড়া সঠিক হয় না। পবিত্র দেহ ও মন আল্লাহর ইবাদতে একাগ্রতা আনে এবং মানুষকে সুস্থ ও পরিচ্ছন্ন রাখে। তাই ইমানদার হওয়ার জন্য পবিত্র থাকা অপরিহার্য।
- গ)
ফাবিহার মনোভাবে ইসলামি ভ্রাতৃত্ব (মুসলিম ভ্রাতৃত্ব) প্রকাশ পেয়েছে।
কুরআনে বলা হয়েছে, নিশ্চয়ই মুমিনরা পরস্পর ভাই ভাই (সূরা আল-হুজুরাত, আয়াত ১০)। ফাবিহা বলেছেন, এদেশের ৮৫% মুসলমান সবাই ভাই ভাই এবং পরস্পরকে সহযোগিতা করলে সোনার বাংলাদেশ গড়া সম্ভব। এখানে ভ্রাতৃত্বকে শুধু মুসলমানদের মধ্যে সীমাবদ্ধ রাখা হয়েছে, যা ইসলামি ভ্রাতৃত্বের বৈশিষ্ট্য।
- ঘ)
ফারিহার দ্বিমত পোষণ সম্পূর্ণ যৌক্তিক।
১. ইসলাম মানবজাতির জন্য রহমত। রাসুল (স.) সব মানুষের কল্যাণকামী ছিলেন এবং সবাইকে আদম (আ.)-এর সন্তান হিসেবে সমান মর্যাদা দিয়েছেন।
২. মদিনা সনদে রাসুল (স.) সব ধর্ম ও সম্প্রদায়ের মানুষের নিরাপত্তা, অধিকার ও সহযোগিতা নিশ্চিত করেছিলেন।
৩. বাংলাদেশের মতো বহু ধর্মের দেশে সব সম্প্রদায়ের মধ্যে সম্প্রীতি ও সহযোগিতা ছাড়া উন্নয়ন ও শান্তি সম্ভব নয়।
৪. মুমিনদের মধ্যে ভ্রাতৃত্ব ইমানের ভিত্তিতে হলেও অমুসলিমের প্রতি সদাচরণ, ন্যায়বিচার ও সহযোগিতা ইসলামের শিক্ষা।সুতরাং, সম্প্রদায় নির্বিশেষে সবার প্রতি ভ্রাতৃসুলভ আচরণের ফারিহার বক্তব্য ইসলামি আদর্শ ও দেশের বাস্তবতার সঙ্গে সংগতিপূর্ণ।
আরও প্রশ্ন অনুশীলন করতে অ্যাপে যাও