ফিন্যান্স ব্যাংকিং ও বিমা ২য় পত্র • Jashore Board • যশোর বোর্ড ২০২৩

ফিন্যান্স ব্যাংকিং ও বিমা ২য় পত্র প্রশ্ন

জনাব তাহের তার প্রতিষ্ঠানটি ৫০ লক্ষ টাকায় বিমা করেছিলেন। দুঘটনায় প্রতিষ্ঠানটি সম্পূর্ণ ক্ষতিগ্রস্ত হয় এবং জনাব তাহের বিমা দাবি পেশ করেন। বিমা কোম্পানি সম্পূর্ণ ক্ষতিপূরণ প্রদান করে। উদ্ধারকৃত সম্পত্তি বিমা কোম্পানি দাবি করায়, জনাব তাহের শুরুতে তা হস্তান্তরে অস্বীকৃতি জানালেও পরবর্তী সময়ে তা প্রদানে বাধ্য হন।

  1. ক)

    বিমাযোগ্য স্বার্থ কী?

    (1)
  2. খ)

    বিমাকে পরম বিশ্বাসের চুক্তি বলা হয় কেন? ব্যাখ্যা করো।

    (2)
  3. গ)

    উদ্দীপকে উল্লিখিত কোন নীতির আওতায় জনাব তাহের বিমা প্রতিষ্ঠানের কাছ থেকে অর্থ লাভ করেছেন? ব্যাখ্যা করো।

    (3)
  4. ঘ)

    সম্পূর্ণ ক্ষতিপূরণ পাওয়ার পরেও জনাব তাহেরের সম্পত্তি হস্তান্তরে অস্বীকৃতির সিদ্ধান্ত সঠিক ছিল কি না? তোমার মতামত দাও।

    (4)

উত্তর ও ব্যাখ্যা

  1. ক)

    AI-তৈরি নমুনা উত্তর

    বিমাযোগ্য স্বার্থ হলো বিমাগ্রহীতার বিমাকৃত বিষয়ের প্রতি আইনগত বা আর্থিক স্বার্থ, যার ক্ষতিতে বিমাগ্রহীতা আর্থিকভাবে ক্ষতিগ্রস্ত হন এবং যার সুরক্ষায় তিনি আর্থিকভাবে উপকৃত হন।

  2. খ)

    AI-তৈরি নমুনা উত্তর

    বিমা চুক্তি সম্পাদনের সময় উভয় পক্ষকে বিমা সংক্রান্ত যাবতীয় গুরুত্বপূর্ণ ও মৌলিক তথ্য একে অপরের কাছে সত্য ও সততার সাথে প্রকাশ করতে হয়; কোনো তথ্য গোপন বা অসত্য উপস্থাপন করা যায় না। পারস্পরিক পূর্ণ আস্থা ও সততার ওপর ভিত্তি করে এই চুক্তি গঠিত হয় বলেই বিমাকে পরম সদ্বিশ্বাসের (Utmost Good Faith) চুক্তি বলা হয়।

  3. গ)

    AI-তৈরি নমুনা উত্তর

    উদ্দীপকে উল্লিখিত জনাব তাহের 'ক্ষতিপূরণের নীতি' (Principle of Indemnity)-র আওতায় বিমা প্রতিষ্ঠানের কাছ থেকে অর্থ লাভ করেছেন।

    ক্ষতিপূরণের নীতি অনুযায়ী, বিমার মূল উদ্দেশ্য হলো বিমাগ্রহীতাকে বিপদে আর্থিক ক্ষতিপূরণ দেওয়া, মুনাফা অর্জনের সুযোগ সৃষ্টি করা নয়। কোনো দুর্ঘটনা ঘটলে বিমাগ্রহীতার ঠিক যতটুকু প্রকৃত আর্থিক ক্ষতি সাধিত হয়, বিমাকারী সর্বোচ্চ বিমাকৃত অংক সাপেক্ষে ঠিক ততটুকুই ক্ষতিপূরণ দিতে বাধ্য থাকে।

    উদ্দীপকে জনাব তাহের তার প্রতিষ্ঠানটি ৫০ লক্ষ টাকায় বিমা করেছিলেন। দুর্ঘটনায় প্রতিষ্ঠানটি সম্পূর্ণ ক্ষতিগ্রস্ত হলে তিনি দাবি পেশ করেন এবং বিমা কোম্পানি তাকে সম্পূর্ণ ৫০ লক্ষ টাকা ক্ষতিপূরণ প্রদান করে। অর্থাৎ, বিমার ক্ষতিপূরণ নীতির যথাযথ প্রয়োগের ফলেই তিনি তার সম্পূর্ণ আর্থিক ক্ষতির অর্থ বিমা কোম্পানির নিকট থেকে পেয়েছেন।

  4. ঘ)

    AI-তৈরি নমুনা উত্তর

    সম্পূর্ণ ক্ষতিপূরণ পাওয়ার পরেও জনাব তাহেরের উদ্ধারকৃত সম্পত্তি হস্তান্তরে অস্বীকৃতির সিদ্ধান্ত মোটেই সঠিক ছিল না।

    বিমা আইনের অন্যতম মৌলিক নীতি হলো স্থলাভিষিক্ততার নীতি (Principle of Subrogation)। এই নীতি অনুসারে, বিমাকৃত বিষয়ের সম্পূর্ণ ক্ষতির জন্য বিমাকারী বিমাগ্রহীতাকে পূর্ণ ক্ষতিপূরণ প্রদান করলে উক্ত ক্ষতিগ্রস্ত বা উদ্ধারকৃত সম্পত্তির মালিকানা স্বত্ব স্বয়ংক্রিয়ভাবে বিমাকারীর ওপর বর্তায়। বিমাগ্রহীতা পূর্ণ ক্ষতিপূরণ নেওয়ার পর উদ্ধারকৃত সম্পত্তির মালিকানা দাবি করতে পারেন না, কারণ তা করলে বিমাগ্রহীতা ক্ষতিপূরণ ছাড়াও অতিরিক্ত অর্থ বা সুবিধা ভোগ করবেন, যা বিমার ক্ষতিপূরণের নীতির পরিপন্থী।

    উদ্দীপকে দেখা যায়, জনাব তাহের তার প্রতিষ্ঠানের সম্পূর্ণ ক্ষতির জন্য বিমা কোম্পানির কাছ থেকে পূর্ণ ৫০ লক্ষ টাকা ক্ষতিপূরণ গ্রহণ করেছেন। ক্ষতিপূরণ পাওয়ার পর উদ্ধারকৃত সম্পত্তির ওপর জনাব তাহেরের আর কোনো আইনগত অধিকার বা মালিকানা থাকে না। তাই বিমা কোম্পানি উদ্ধারকৃত সম্পত্তি দাবি করায় জনাব তাহেরের শুরুতে তা হস্তান্তরে অস্বীকৃতি জানানো আইনের দৃষ্টিতে ও বিমার নীতি অনুযায়ী সম্পূর্ণ অযৌক্তিক ও ভুল ছিল। পরবর্তীতে তিনি তা প্রদানে বাধ্য হয়ে বিমা আইনের বিধানই পূর্ণ করেছেন।

আরও প্রশ্ন অনুশীলন করতে অ্যাপে যাও

সম্পর্কিত প্রশ্ন