বাংলা ১ম পত্র • Cumilla Board • কুমিল্লা বোর্ড ২০২৫
বাংলা ১ম পত্র প্রশ্ন

- ক)(1)
'উপরের হাত সব সময় নিচের হাত থেকে শ্রেষ্ঠ'- কথাটি কে বলেছেন?
- খ)(2)
বিভক্তিকরণের মনোভাব নিয়ে কারো কল্যাণ করা যায় না কেন?
- গ)(3)
উদ্দীপকের বামদিকের বিষয়বস্তু 'মানব-কল্যাণ' প্রবন্ধের কোন বিশেষ চিন্তার সঙ্গে সম্পর্কযুক্ত? আলোচনা কর।
- ঘ)(4)
"উদ্দীপকের ডানদিকে বর্ণিত বিষয়বস্তুতে 'মানব-কল্যাণ' প্রবন্ধের লেখকের আকাঙ্ক্ষার প্রতিফলন ঘটেছে।" মন্তব্যটির যথার্থতা বিচার কর।
উত্তর ও ব্যাখ্যা
- ক)
AI-তৈরি নমুনা উত্তর
'উপরের হাত সব সময় নিচের হাত থেকে শ্রেষ্ঠ'- কথাটি মহানবি হজরত মুহাম্মদ (সা.) বলেছেন।
- খ)
AI-তৈরি নমুনা উত্তর
বিভক্তিকরণের মনোভাব মানুষের মধ্যে সমতা ও মানবিক মর্যাদার বদলে দূরত্ব ও শ্রেষ্ঠত্বের অহংকার সৃষ্টি করে বলে এ মনোভাব নিয়ে কারো প্রকৃত কল্যাণ করা যায় না।
'মানব-কল্যাণ' প্রবন্ধে লেখক আবুল ফজল দেখিয়েছেন যে, বিভক্তিকরণের দৃষ্টিভঙ্গি মানুষকে 'দাতা' ও 'গ্রহীতা', 'উচ্চ' ও 'নীচ' ইত্যাদি কৃত্রিম শ্রেণিতে ভাগ করে ফেলে। এই মনোভাব নিয়ে যখন কাউকে সাহায্য করা হয়, তখন গ্রহীতাকে করুণার পাত্র বানিয়ে তার আত্মমর্যাদাকে ক্ষুণ্ন করা হয়। সত্যিকারের মানব-কল্যাণ মানুষের ভেতরের শক্তি ও মর্যাদা জাগিয়ে তোলার মধ্য দিয়ে অর্জিত হয়, যা পারস্পরিক সাম্য ও সহমর্মিতা ছাড়া সম্ভব নয়। তাই বিভক্তিকরণ দিয়ে কারো আসল কল্যাণ সাধন করা যায় না।
- গ)
AI-তৈরি নমুনা উত্তর
উদ্দীপকের বামদিকের বিষয়বস্তু 'মানব-কল্যাণ' প্রবন্ধে বর্ণিত গতানুগতিক ও সংকীর্ণ 'দান-খয়রাত' এবং এর ফলে সৃষ্ট মনুষ্যত্বের অবমাননাকর পরিস্থিতির চিন্তার সঙ্গে সম্পর্কযুক্ত।
আবুল ফজলের 'মানব-কল্যাণ' প্রবন্ধে লেখক প্রচলিত মানব-কল্যাণ ধারণার তীব্র সমালোচনা করেছেন। সমাজের একাংশ যখন আত্মতুষ্টির জন্য বা ধর্মীয় দায় মেটাতে উপলব্ধিহীনভাবে কাঙালকে ভিক্ষা দেয় কিংবা দান-খয়রাত করে, তখন আপাতদৃষ্টিতে তাকে কল্যাণ মনে হলেও মূলত তা মানুষের আত্মমর্যাদাবোধ ও মানবতাকে ভূলুণ্ঠিত করে। ভিক্ষা বা দান গ্রহণের মাধ্যমে গ্রহীতা মানসিক ও শারীরিকভাবে পরমুখাপেক্ষী ও হীনম্মন্য হয়ে পড়ে, যার ফলে মনুষ্যত্বের মারাত্মক অবমাননা ঘটে।
উদ্দীপকের বামদিকের ছকে দেখানো হয়েছে: 'উপলব্ধিহীন' → 'স্রেফ দান-খয়রাত' → 'মনুষ্যত্বের অবমাননা'। এই ধারাটি স্পষ্টভাবে ইঙ্গিত করে যে, আন্তরিক মানবিক উপলব্ধি ছাড়া কেবল বাহ্যিক দান-খয়রাত মানুষের প্রকৃত উপকার তো করেই না, বরং মানুষের মর্যাদা ধ্বংস করে। প্রবন্ধেও লেখক বলেছেন, কেবল অন্ন-বস্ত্র দান বা ভিক্ষা দেওয়ার মাধ্যমে মানুষের সার্বিক মুক্তি আসে না, বরং তা মানব মর্যাদাকে ক্ষুণ্ন করে। সুতরাং, উদ্দীপকের বামদিকের বিষয়বস্তু প্রবন্ধের সেই সমালোচনামূলক চিন্তাকেই নিখুঁতভাবে তুলে ধরেছে।
- ঘ)
AI-তৈরি নমুনা উত্তর
উদ্দীপকের ডানদিকে বর্ণিত বিষয়বস্তুতে 'মানব-কল্যাণ' প্রবন্ধের লেখকের আকাঙ্ক্ষার যথার্থ প্রতিফলন ঘটেছে—মন্তব্যটি সম্পূর্ণ সত্য ও যুক্তিযুক্ত।
'মানব-কল্যাণ' প্রবন্ধে প্রাবন্ধিক আবুল ফজল প্রচলিত দান-খয়রাতের সংকীর্ণ গণ্ডি পেরিয়ে মানব-কল্যাণের এক সুদূরপ্রসারী, ইতিবাচক ও গভীর রূপরেখা তুলে ধরেছেন। লেখকের মতে, মানব-কল্যাণ হলো মানুষের সার্বিক বিকাশ সাধন, তার মানবিক মর্যাদাকে অক্ষুণ্ন রাখা এবং তাকে স্বাবলম্বী করে তোলা। মানুষকে কেবল সাময়িক বাঁচিয়ে রাখা নয়, বরং তাকে আত্মমর্যাদাসম্পন্ন ও স্বাবলম্বী মানুষ হিসেবে গড়ে তোলাই প্রকৃত মানব-কল্যাণের মূল লক্ষ্য।
উদ্দীপকের ডানদিকের ছকে উল্লিখিত হয়েছে: 'মহৎ চিন্তা-ভাবনার ফসল' → 'স্বাবলম্বী হওয়ার ক্ষেত্র রচনা' → 'মানুষের মর্যাদা বৃদ্ধি ও মানবিক চেতনার বিকাশ'। এটি প্রবন্ধের মূল দর্শন ও লেখকের আকাঙ্ক্ষার প্রতিচ্ছবি। প্রবন্ধে লেখক বলেছেন, মানুষের হাতকে কেবল গ্রহণ করার ‘নিচের হাত’ না বানিয়ে, তাকে কর্মক্ষম ও আত্মনির্ভরশীল করে তুলতে হবে, যাতে সে ‘উপরের হাত’ অর্থাৎ মর্যাদাপূর্ণ হাত হতে পারে। রাষ্ট্র ও সমাজের দায়িত্ব হলো এমন পরিবেষ্টনী ও কর্মসংস্থানের সুযোগ সৃষ্টি করা, যার ফলে প্রতিটি মানুষ নিজ যোগ্যতায় স্বাবলম্বী হয়ে আত্মসম্মানের সাথে মাথা উঁচু করে বাঁচতে পারে।
অতএব, উদ্দীপকের ডানদিকের প্রবাহচিত্রে মানুষকে আত্মনির্ভরশীল করার মাধ্যমে তার মানবিক মর্যাদার প্রসার ও চেতনার যে রূপরেখা আঁকা হয়েছে, তা আবুল ফজলের 'মানব-কল্যাণ' প্রবন্ধের মূল আকাঙ্ক্ষা ও ভাবসত্যের সঙ্গেই হুবহু মিলে যায়। তাই মন্তব্যটি যথার্থ।
আরও প্রশ্ন অনুশীলন করতে অ্যাপে যাও